
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: মোটা হওয়ার বিপদ অনেক। শুধু যে চেহারা বা সাজগোজ নিয়ে অসন্তোষ কিংবা চলাফেরায় সমস্যা, তা তো নয়। বাড়তি ওজন বয়সের সঙ্গে সঙ্গে বিপদের ঝুঁকিও বয়ে আনে। ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক, ফ্যাটি লিভার, পিসিওডি, অস্টিওার্থারাইটিস কিংবা নানা ধরনের ক্যানসারের সূত্রপাত হতে পারে তার থেকেই। তাই ওজন ঊর্ধ্বমুখী হলে তাতে লাগাম টানাটা জরুরি। কোভিড-লকডাউনের ত্রাস পেরিয়ে এসে মানুষ এখন অনেকটাই স্বাস্থ্য সচেতন। ফলে ওজন বেড়ে গেলে তাতে রাশ টানা বা কমিয়ে ফেলার ক্ষেত্রে বাড়তি তৎপর হয়ে উঠছেন অনেকেই।
ওবেসিটির চিকিৎসা হিসেবে সম্প্রতি ভারতে এসেছে ওজন কমানোর ইঞ্জেকশন টারজেপাটাইড বা সেমাগ্লুটাইড। চিকিৎসক আশিস মিত্রের কথায়, ‘এই ইঞ্জেকশনগুলি আদতে হরমোন, যাতে জিএলপি১ বা জিআইপি-র মতো উপাদান থাকে। তা শরীরে প্রবেশ করলে ইনসুলিনের মাত্রা বেড়ে যায়, পেট খালি হয় দেরিতে এবং খাবার ইচ্ছেও কমে। ফলে ওজনও কমে।’
কিন্তু রোগা হওয়ার সহজ উপায় হিসেবে এই ইঞ্জেকশন দেওয়া কতটা নিরাপদ?
চিকিৎসক মিত্রের মতে, ‘কেউ চাইলে নিশ্চয়ই ইঞ্জেকশন দিতে পারেন। তবে খোঁজখবর নিয়ে বিচক্ষণতার সঙ্গে পদক্ষেপ করা ভাল। কারণ, এই ধরনের ইঞ্জেকশনে প্যাংক্রিয়াটাইটিস, স্টম্যাক প্যারালিসিস, মাসল মাস হ্রাস পাওয়ার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা থাকে। তা ছাড়া ইঞ্জেকশনে থাকা এই উপাদানগুলি ভারতীয়দের ক্ষেত্রে কতটা কার্যকরী, তা নিয়েও যথেষ্ট পরিমাণে গবেষণা হয়নি এখনও। এই ইঞ্জেকশনগুলির কার্যকারিতার ট্রায়াল চলাকালীন বেশিরভাগ পরীক্ষানিরীক্ষা হয়েছিল পাশ্চাত্য দেশগুলির মানুষের উপরে। স্বল্প সংখ্যক ভারতীয়ই ওই ট্রায়ালে সুযোগ পেয়েছিলেন। ফলে ভারতীয়দের জন্য এই ইঞ্জেকশনগুলি সম্পূর্ণ নিরাপদ কিনা, তা নিশ্চিত করতে আলাদা করে এদেশের মানুষের উপরে করা পরীক্ষা-নিরীক্ষা যথেষ্ট পরিমাণে গবেষণা প্রয়োজন।’
তবে কি এখানকার মানুষের শরীরে ঠিকমতো কাজ করবে না টারজেপাটাইড বা সেমাগ্লুটাইডের মতো ইঞ্জেকশন?
ডাক্তার মিত্র বলছেন, ‘যে সমস্ত রোগীদের প্যাংক্রিয়াটাইটিস, পেটের সমস্যা, গলব্লাডার স্টোন কিংবা পরিবারের কারও ক্যানসারের ইতিহাস নেই, তাঁদের ক্ষেত্রে বিচক্ষণতার সঙ্গে সব দিক খতিয়ে দেখে এই ইঞ্জেকশন দিলে লাভ হতে পারে। এছাড়া আরও একটা বিষয় মনে রাখা দরকার। পাশ্চাত্যের মানুষের চেয়ে কম ডোজেই ইঞ্জেকশন কার্যকরী হবে ভারতীয়দের ক্ষেত্রে।’
তবে চিকিৎসক মিত্রের মতে, ওজনবৃদ্ধি যতটা সহজে হয়, ওজন কমানো ঠিক ততটাই ঝক্কির। তার জন্য চাই অনেকটা ধৈর্য, নিয়ম মেনে খাওয়াদাওয়া এবং সঠিক পরিমাণে শরীরচর্চা। তাতেও যদি ওজন না কমে, ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তাঁর কথায়, ‘দ্রুত ওজন কমিয়ে ফেলতে গিয়ে হিতে বিপরীত হয়ে যেতে পারে। ছ’মাসে মোট ওজনের মাত্র ১০ শতাংশ কমানোই স্বাস্থ্যসম্মত। ইঞ্জেকশন নিয়ে শরীরে জিএলপি১ বৃদ্ধির বদলে প্রাকৃতিক উপায়েও তাকে বাড়িয়ে নেওয়া যায়।’
(Feed Source: zeenews.com)
