
রাহুলের অকাল প্রয়াণ। আর সেই চলে যাওয়ার পথই যেন মিলিয়ে দিয়ে গেল রাজনীতির সব রং-কে। সামনে ভোট। হাইভোল্টেজ যুদ্ধ। তার আগে অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়কে শেষশ্রদ্ধা জানাতে পৌঁছন সিপিএম-বিজেপি-তৃণমূল-কংগ্রেস সব দলের নেতা-নেত্রীরা। শমীক লাহিড়ি থেকে মহম্মদ সেলিম, সায়নী ঘোষ থেকে পাপিয়া অধিকারী, দেখা গেল সব দলের প্রতিনিধিদেরই। (West Bengal Politics)
ওড়িশার তালসারিতে সিরিয়ালের শ্য়ুটিংয়ের সময় রাহুলের মর্মান্তিক পরিণতির খবর কলকাতায় আসার পরেই প্রয়াত অভিনেতার পরিবারের পাশে দেখা যায় রাজ্যের মন্ত্রী তথা তৃণমূল বিধায়ক অরূপকে। জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই ছুটে এসেছেন তিনি। অরূপ বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত শোকাহত। আমরা পরিবারের পাশে আছি।”
অন্য দিকে, সোমবার রাহুলের বিজয়গড়ের ফ্ল্যাটের সামনে পৌঁছন টালিগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী তথা অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারী। কিন্তু তিনি সেখানে পৌঁছতে উত্তেজনা ছড়ায়। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, সেখানে ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান তোলেন বিজেপি সমর্থকরা। যদিও পাপিয়ার বক্তব্য, “আমরা তো প্রচারে ছিলাম। বাইকে প্রচারে এমন ভারত মাতা কি জয় হয়। ওখানে বলেছে কি না, জানি না আমি।”
রাহুলের কথাবার্তায় বার বার ঘুরে ফিরে এসেছে বামপন্থার কথা। নিজের রাজনৈতিক বিশ্বাস-আস্থা-ভরসা কখনও চেপে রাখেননি তিনি। বুঝিয়ে গিয়েছেন কোন রং-এ বিশ্বাসী। রাহুলের শেষযাত্রাতেও শববাহী গাড়িতে অর্ধনমিত লাল পতাকা চোখে পড়ে। স্লোগান দিতে শোনা যায় সিপিএম প্রার্থী দীপ্সিতা ধরকে। টালিগঞ্জের সিপিএম প্রার্থী পার্থপ্রতিম বিশ্বাস বলেন, “রাহুলের কবিতা, সাহিত্যচর্চা, নাটক…সব মিলিয়ে রাহুল কমপ্লিটলি লেফট ইনটেলেকচুয়াল বলতে যা বোঝায়। আমরা মিস করব।”
বাম আমলের মন্ত্রী, প্রয়াত শ্য়ামল চক্রবর্তীর মেয়ে তথা অভিনেত্রী ঊষসী চক্রবর্তী বলেন, “আমরা এখন যে সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি, তাতে স্পষ্ট কথা, মেরুদণ্ড সোজা রেখে কথা বলার লোক বিরল। বিভিন্ন ইস্যুতে কোনও দিকে না তাকিয়ে, নিজের স্বার্থের দিকে না তাকিয়ে, যেভাবে স্ট্যান্ড নিত, সেটা আমাকে অনুপ্রেরণা জোগাত।”
চল্লিশের কোটায় আচমকাই থমকে গিয়েছে রাহুলের জীবন। কেওড়াতলা শ্মশানে অভিনেতার শেষকৃত্যে তাঁর নশ্বর দেহ মিলিয়ে গেলেও, চির অমলিন থেকে যাবে তাঁর হাসি ও ‘সহজ কথা’।
(Feed Source: abplive.com)
