)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: রবিবার তালসারির সমুদ্র সৈকতে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীন যে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে গেল, তার রেশ যেন কাটছেই না। চোখের সামনে সহ-অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিরবিদায় কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্র। শোকের এই আবহেই নেটপাড়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র অস্বস্তি। এই কঠিন সময়ে শ্বেতার ব্যক্তিগত পরিসর এবং মানসিক অবস্থার প্রতি সম্মান জানানোর আবেদন করেছে তাঁর পরিবার।
রাহুলের দুর্ঘটনার ঠিক পরেই একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। সেখানে দেখা যাচ্ছে, আতঙ্কিত এবং দিশেহারা শ্বেতা বারবার জিজ্ঞাসা করছেন, “রাহুলদা ঠিক আছে তো?” কয়েক মুহূর্ত আগেও যিনি পাশে দাঁড়িয়ে শুটিং করছিলেন, তাঁর এমন পরিণতিতে শ্বেতা কতটা বিধ্বস্ত ছিলেন, তা সেই ভিডিওতেই স্পষ্ট। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে নৈতিকতা নিয়ে—একজনের চূড়ান্ত শোকের মুহূর্তকে এভাবে জনসমক্ষে তুলে ধরা কি সঠিক?
ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই শ্বেতার কাছে অসংখ্য ফোন এবং মেসেজ আসতে শুরু করে। শোকস্তব্ধ অভিনেত্রী এই মুহূর্তে কারোর সঙ্গেই কথা বলার অবস্থায় নেই। তাঁর এই নীরবতাই বুঝিয়ে দিচ্ছে তিনি কতটা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে শ্বেতার বোন সালনি মিশ্র সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি আবেগঘন পোস্ট করেছেন। তিনি লিখেছেন, “সকলের কাছে হাতজোড় করে প্রার্থনা করছি, দয়া করে ভিডিওটি ফরওয়ার্ড বা সার্কুলেট করা বন্ধ করুন। আমার বোনকে প্রয়োজনীয় স্পেস এবং সম্মানটা দিন।” পরিবারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, শ্বেতা এখন বিধ্বস্ত এবং এই ধরণের ভিডিও তাঁর মানসিক যন্ত্রণা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সোমবার কেওড়াতলা শ্মশানে সম্পন্ন হয়েছে রাহুলের শেষকৃত্য। টলিউডের অজস্র মানুষ সেখানে চোখের জলে শেষ বিদায় জানিয়েছেন প্রিয় অভিনেতাকে। কিন্তু শ্বেতার সেই ভাইরাল ভিডিওটি যেন একটি নিষ্ঠুর সত্যি সামনে নিয়ে এসেছে—আজকের ডিজিটাল যুগে শোকের মুহূর্তও আর ব্যক্তিগত থাকে না। ৪২ বছরেই রাহুলের এই চলে যাওয়া এবং সুবর্ণরেখার মোহনায় ঘটে যাওয়া সেই রহস্যময় দুর্ঘটনা নিয়ে যখন তদন্ত চলছে, তখন তাঁর সহকর্মীদের এই মানসিক অবস্থা নিয়ে সহমর্মিতা প্রকাশ করছেন অনেকেই।
(Feed Source: zeenews.com)
