
কলকাতা: রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Banerjee) মৃত্যুতে শোকস্তদ্ধ টলিউড। সোশ্যাল মিডিয়ার টাইমলাইন জুড়ে শুধুই রাহুলের স্মৃতি সবারই। কখনও সেখানে ভেসে উঠছে ছোট ছোট ভিডিও ফুটেজ, কখনও আবার রাহুলের সঙ্গে কাটানো নিজের নিজের অভিজ্ঞতা, একসঙ্গে কাজ করার স্মৃতি শেয়ার করে নিয়েছেন। রাহুলের সঙ্গে কাজ করেছেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় (Swastika Mukherjee)-ও। একসঙ্গে পর্দায় অভিনয় করেছিলেন তাঁরা। আর পুরনো সেই ছবি শেয়ার করে, লম্বা পোস্ট করে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন স্বস্তিকা।
অভিনেত্রী তাঁর, তাঁর কন্যার ও রাহুলের একটি ছবি শেয়ার করে নিয়ে লিখেছেন, ‘মনে না করতে চাইলেও ফেসবুক মনে করিয়েই দেয়। অন্য সময় হলে এক গাল হেসে ছবিটা তোকে পাঠাতাম। কত স্মৃতি। কপাল দেখ শত ইচ্ছে থাকলেও একসঙ্গে আর কাজ করা হল না। তোর সঙ্গে শেষ কথা কয়েক সপ্তাহ আগে, আমি অরুণাচল যাচ্ছিলাম, ফিরে এসে সহজ কথায় যাব। তুই এর মধ্যে ‘বিবি পায়রা’ ছবিটা দেখে নিবি, সেই নিয়ে গল্প হবে আরও কত কিছু। তুই এর আগেও কয়েকবার ফোন করেছিলি, অন্য বিষয়ে, গজগজ করতে যখন ফোন করতিস সেগুলোই ছিল আমার সবচেয়ে পছন্দের। আমি প্রত্যেকবার অন্য শহরে ছিলাম, ফিরে এসে সহজ কথায় যাব, তারপর তোর -আমার কাজ এর ব্যস্ততা সামলে যাওয়ার তারিখ, পেছতেই থাকল। কিন্তু এই বারটা তো পাকাপাকি হয়ে গেছিল ভাই। তুই ও আউটডোর থেকে ফিরবি , আমিও, তারপর জমিয়ে আড্ডা হবে। জীবন নিয়ে, যাপন নিয়ে, কাজ নিয়ে, এমনি – কিছু না নিয়েও।’
স্বস্তিকা আরও লেখেন, ‘খবরটা পেয়ে অব্দি বারবার একই কথা মনে ঘুরপাক খাচ্ছে, বারংবার মেয়েকে বলছি, বড্ড দেরি হয়ে গেল। আর তো কোনদিন কথা হবেনা, দেখা হবে না, কাজ করা হবে না। আজকাল সবই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে ভাই, তুই একটা সোজা শিরদাঁরা নিয়ে মহাপ্রস্থানে গেলি এটাই শিক্ষনীয়, বিষ্ময়কর ও বটে। লোকে একটা আস্ত মেরুদন্ড নিয়ে হাঁটতে চলতে পারছেনা, তুই কিনা সগ্গে চলে গেলি! তোর মৃত্যু অনেক কিছু শিখিয়ে গেল, জীবনের কিছু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সাহস যোগাল। কাজ পাই, না পাই, সেগুলোতে অনড় থাকব, থাকবই।’
‘অরুণোদয় – এই ভাবে অস্ত না গেলেও পারতিস। আহা গো। যার গেল তার গেল। বাবা সর্বক্ষণ বলত, আমাদের প্রফেশন, আমাদের ইন্ডাস্ট্রি রুথলেস। কেউ কারুর নয়, কারুর দায় নেই, কিছু হলে কেউ দায়িত্ব নেবে না, নিজেরটা নিজেকেই বুঝে নিতে হবে। তোর চলে যাওয়ার দায় দেখ কেউ নিল না, তোর ওপরেই দোষ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তুই তো আর নিজের হয়ে লড়তে পারবিনা, এটাই ওদের কাছে তুরুপের তাস। মায়া নেই, দুঃখ নেই, আহা নেই, দায়বদ্ধতা নেই, কাজের নিয়ম নিয়ে কৈফিয়ত দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই, আসলে বোধটাই নেই। আমরা সবাই রিপ্লেসেবল। তোর চলে যাওয়া বাবার বলে যাওয়া কথাগুলোতে শীল মোহর বসাল। এই ছবি টা আমাদের একসঙ্গে করা একটা কাজ- টেক ওয়ান এর। সালটা বোধ করি ২০১৪, মনে আছে কারণ মা তার পরের বছর একই সময়ে চলে গেছিল। জীবনময় শুধু তারিখ। মানি এই একটাই কাজ আমার সঙ্গে করেছিল বলে এতকাল এটা আমার সবচেয়ে প্রিয় কাজ ছিল। এবার থেকে এক পাহাড় সমান বিষাদের কারণ হয়ে তুই যোগ দিলি। মার্চ মাস-টার তাৎপর্যটাই বদলে গেল। ১১ তারিখ বাবা, ২৯ তারিখ তুই। এভাবে তুই ও আরেকটা তারিখ হয়ে যাবি স্বপ্নেও ভাবিনি। অবশ্য তুই বলেছিলি, জন্মদিনের মতন আমাদের মৃত্যুদিন টাও বছরের কোনও একটা দিনেই লুকিয়ে আছে, হটাৎ করে ক্যালেন্ডারে লাল কালি দিয়ে গোল হয়ে সে বিশেষ পদে উত্তীর্ণ হবে। তুই পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে আকাশে মিশে গেলি, আমি এখনও মেনে নেওয়ার যুদ্ধ চালাচ্ছি। সময় লাগবে। অনেকটা সময় লাগবে। সহজ হবে না রে।’
“যাও রে অনন্তধামে মোহ মায়া পাশরি
দুঃখ আঁধার যেথা কিছুই নাহি।
জরা নাহি, মরণ নাহি, শোক নাহি যে লোকে,
কেবলি আনন্দস্রোত চলিছে প্রবাহি!”
বন্ধু আমার, বিদায়
(Feed Source: abplive.com)
