জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: অনলাইন কেনাকাটা বা টাকা লেনদেনের ক্ষেত্রে মোবাইলে আসা একটি ওটিপি-ই ছিল আমাদের শেষ সুরক্ষা কবচ। কিন্তু ১লা এপ্রিল থেকে সেই ধারণা বদলে যাচ্ছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) জানিয়েছে, সাইবার জালিয়াতি এবং ফিশিং অ্যাটাক যে হারে বাড়ছে, তাতে শুধুমাত্র ওটিপি-র ওপর ভরসা করে ডিজিটাল পেমেন্টকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব নয়। ফলে, ডিজিটাল লেনদেনের জন্য ‘অ্যাডিশনাল ফ্যাক্টর অফ অথেন্টিকেশন’ (AFA)-এর ক্ষেত্রে নতুন ফ্রেমওয়ার্ক চালু করা হয়েছে।
কেন ওটিপি আর নিরাপদ নয়?
আরবিআই-এর পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে, প্রতারকরা এখন খুব সহজেই ‘সিম সোয়াপিং’ বা ভুয়া কল এবং লিঙ্কের মাধ্যমে গ্রাহকদের ফোন থেকে ওটিপি হাতিয়ে নিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বয়স্ক মানুষ বা প্রযুক্তিতে কম দক্ষ ব্যক্তিরা না বুঝেই ওটিপি শেয়ার করে ফেলছেন। এই ফাঁকফোকর বন্ধ করতেই বহুমুখী নিরাপত্তা স্তর বা ‘মাল্টি-লেয়ারড সিকিউরিটি’র কথা ভাবা হয়েছে।
১লা এপ্রিল থেকে কী কী পরিবর্তন আসছে?
১. ওটিপি-র বিকল্প ব্যবস্থা:
এখন থেকে শুধুমাত্র ওটিপি-র ওপর নির্ভর না করে ব্যাঙ্ক এবং পেমেন্ট অ্যাপগুলিকে (যেমন Google Pay, PhonePe, Paytm) বিকল্প অথেন্টিকেশন ব্যবস্থা রাখতে হবে। এর মধ্যে থাকতে পারে—
বায়োমেট্রিক অথেন্টিকেশন: আঙুলের ছাপ (Fingerprint) বা ফেস আইডি (Face ID) ব্যবহার করে লেনদেন নিশ্চিত করা।
সফটওয়্যার টোকেন: অ্যাপের ভেতরেই জেনারেট হওয়া বিশেষ সিকিউরিটি কোড।
সার্টিফিকেট ভিত্তিক অথেন্টিকেশন: যা নির্দিষ্ট ডিভাইসের সাথে লিঙ্ক করা থাকবে।
২. হাই-ভ্যালু ট্রানজ্যাকশন বা বড় অঙ্কের লেনদেনে কড়াকড়ি:
বড় অঙ্কের টাকা লেনদেনের ক্ষেত্রে এখন থেকে দ্বিমুখী নয়, বরং ত্রিমুখী নিরাপত্তা স্তর পার করতে হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, একটি বড় পেমেন্ট করতে গেলে প্রথমে পিন (PIN), তারপর ওটিপি এবং শেষে বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন প্রয়োজন হতে পারে।
৩. ডিভাইস বাইন্ডিং (Device Binding):
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আপনার পেমেন্ট অ্যাপটি শুধুমাত্র আপনার রেজিস্টার্ড মোবাইল ডিভাইসেই কাজ করবে। অন্য কোনও ফোন থেকে আপনার অ্যাকাউন্টে লগ-ইন করে লেনদেন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে, কারণ অ্যাপটি হার্ডওয়্যার লেভেলে আপনার ফোনের সাথে ‘বাইন্ড’ বা সংযুক্ত থাকবে।
৪. অটো-ডেবিট বা রেকারিং পেমেন্টে বদল:
নেটফ্লিক্স, অ্যামাজন প্রাইম বা বিদ্যুতের বিলের মতো যে সমস্ত পেমেন্ট প্রতি মাসে স্বয়ংক্রিয়ভাবে (Auto-debit) কেটে নেওয়া হয়, সেগুলোর ক্ষেত্রেও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। নির্দিষ্ট সীমার ওপর লেনদেন হলে গ্রাহকের কাছ থেকে প্রতিবার অতিরিক্ত অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
গ্রাহকদের ওপর এর প্রভাব কী হবে?
অনেকের মনে হতে পারে যে এতে লেনদেনের প্রক্রিয়া কিছুটা দীর্ঘ হবে। তবে বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, সামান্য বাড়তি সময় ব্যয় হলেও আপনার কষ্টার্জিত টাকা অনেক বেশি নিরাপদ থাকবে।
সুবিধা: ওটিপি স্ক্যাম বা ফোন কল জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা চুরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শূন্যে নেমে আসবে।
অসুবিধা: যাঁদের ফোনে উন্নত বায়োমেট্রিক সুবিধা নেই বা যাঁরা পুরনো মডেলের ফোন ব্যবহার করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ডিজিটাল পেমেন্ট করার পদ্ধতিতে কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে ব্যাঙ্কগুলিকে বিকল্প সহজ পথ বাতলে দিতে বলেছে আরবিআই।
ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেম বিশ্বে প্রথম সারিতে রয়েছে। ইউপিআই (UPI)-এর আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সাইবার অপরাধ। ১লা এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া এই নিয়মাবলী মূলত গ্রাহকদের স্বার্থরক্ষা এবং ডিজিটাল ইন্ডিয়ার ভিত আরও মজবুত করার লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে। গ্রাহকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, তাঁরা যেন তাঁদের ব্যাঙ্কিং অ্যাপগুলো আপডেট করে নেন এবং নতুন সিকিউরিটি ফিচারগুলো সক্রিয় করেন।
মনে রাখবেন: রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বা কোনও ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ কখনও আপনার কাছে পিন, পাসওয়ার্ড বা ওটিপি জানতে চায় না। নিরাপদ থাকুন, সুরক্ষিত লেনদেন করুন।
(Feed Source: zeenews.com)
