West Bengal Theatre Community Protest: কেন্দ্রের তুঘলকি সিদ্ধান্তে ভয়ংকর সংকটে থিয়েটার, ২০০০ নাট্যকর্মীর পেটে পড়ছে টান: প্রতিবাদে দানা বাঁধছে জোট

West Bengal Theatre Community Protest: কেন্দ্রের তুঘলকি সিদ্ধান্তে ভয়ংকর সংকটে থিয়েটার, ২০০০ নাট্যকর্মীর পেটে পড়ছে টান: প্রতিবাদে দানা বাঁধছে জোট

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দেশজুড়ে থিয়েটার, নৃত্য এবং সংস্কৃতির অন্যান্য ধারায় যুক্ত কর্মীদের ভবিষ্যৎ কি এবার গভীর সংকটের মুখে? কেন্দ্রীয় সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রকের সাম্প্রতিক এক সিদ্ধান্তে এই প্রশ্নই এখন ঘোরাফেরা করছে বাংলার নাট্যমহলে। মঙ্গলবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাল ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল থিয়েটার কমিউনিটি’। তাদের দাবি, স্যালারি গ্রান্ট বা গুরু-শিষ্য পরম্পরার মতো অনুদান প্রকল্পগুলোতে যে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে, তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।

পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সক্রিয় নাট্যকর্মীরা এই সমাবেশে যোগ দেন। তাঁদের বক্তব্য, ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রকের প্রকাশিত নতুন সার্কুলারটি নাট্যকর্মীদের ভবিষ্যৎকে আচমকাই সংশয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে স্যালারি গ্রান্ট প্রকল্পের আওতায় থাকা শিল্পীদের বার্ষিক অর্থ সাহায্য বন্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিসংখ্যন বলছে, শুধুমাত্র আমাদের রাজ্যেই প্রায় ৩০০টি নাট্যদলের অন্তর্গত প্রায় দুই হাজার থিয়েটার কর্মী ও সাংস্কৃতিক কর্মী এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হতে চলেছেন।

সংস্কৃতি মন্ত্রকের নতুন নীতিমালায় একটি বিচিত্র ইংরেজি শব্দবন্ধ ব্যবহার করা হয়েছে— ‘Cooled Off’। নাট্যকর্মীদের অভিযোগ, এই শব্দবন্ধের আড়ালে আসলে বহু পুরনো ও সক্রিয় দলকে ২০২৪-২৫ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের জন্য অনুদান চাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। কোনো প্রকার সঙ্গত যুক্তি না দেখিয়েই অনুদানের স্বাভাবিক নবীকরণ প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনকারী নাট্যকর্মীদের মতে, এটি আদতে শিল্পীদের ‘হিমঘরে’ পাঠিয়ে তাঁদের সৃজনশীল কাজকে স্তব্ধ করে দেওয়ার এক চক্রান্ত।

সাংবাদিক সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে যে, কেন্দ্রীয় সরকারকে অবিলম্বে এই বিতর্কিত সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করতে হবে। শিল্পীদের দাবি, থিয়েটার কর্মীদের আর্থিক নিরাপত্তা কেড়ে নিলে সামগ্রিকভাবে দেশের সাংস্কৃতিক কাঠামো ভেঙে পড়বে। নাট্যকর্মীরা আরও জানিয়েছেন যে, তাঁরা আলোচনার পথ বন্ধ করছেন না; সংস্কৃতি মন্ত্রকের সঙ্গে তাঁরা অর্থপূর্ণ আলোচনায় বসতে আগ্রহী। তবে যদি দ্রুত কোনো সদর্থক পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হয়, তবে সারা ভারতের থিয়েটার কর্মীদের সঙ্গে একজোট হয়ে বাংলার নাট্যকর্মীরাও বৃহত্তর গণ-আন্দোলনের পথে হাঁটবেন।

শহর থেকে গ্রাম— নাটকের মঞ্চে যাঁরা প্রতিদিন মানুষের কথা বলেন, আজ সেই শিল্পীদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই শুরু হলো প্রেস ক্লাবের এই সমাবেশ থেকেই। এখন দেখার, কেন্দ্র এই ‘হিমঘর’ নীতি থেকে পিছিয়ে আসে কি না!

(Feed Source: zeenews.com)