রাহুল অরুণোদয়ের মৃত্য়ুতে বড় সিদ্ধান্ত, লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে কেউ কাজ করবে না, সিদ্ধান্ত হল

রাহুল অরুণোদয়ের মৃত্য়ুতে বড় সিদ্ধান্ত, লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে কেউ কাজ করবে না, সিদ্ধান্ত হল
কলকাতা: রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে এখনও পর্যন্ত বহু প্রশ্নের উত্তর অধরা। সেই আবহে বড় সিদ্ধান্ত নিল টলিউডের আর্টিস্ট ফোরাম। ‘ম্যাজিক মোমেন্টস ‘ প্রোডাকশন হাউস এবং তার সঙ্গে জড়িত কারও সঙ্গে আপাতত কেউ কোনও কাজ করবে না বলে সিদ্ধান্ত নিলেন শিল্পীরা। রাহুলের মৃত্যু কী ভাবে, ন’দিন পরও সেই সত্য সামনে আসেনি। তাতেই এমন সিদ্ধান্ত। (Rahul Arunoday Banerjee Death)

রাহুলের মৃত্যুতে মঙ্গলবার সকাল থেকে কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেয় আর্টিস্ট ফোরাম। এদিন বিকেলে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, রঞ্জিত মল্লিক, দেব, কোয়েল মল্লিক, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, জিশু সেনগুপ্ত, হরনাথ চক্রবর্তী, পিয়া সেনগুপ্ত,  স্বরূপ বিশ্বাস, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় এবং অন্যরা। সেখানেই ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’-এর কারও সঙ্গে কাজ না করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাহুলের স্ত্রী প্রিয়ঙ্কা সরকারও। তিনি যদিও সাংবাদিকদের মুখোমুখি হননি। তিনি জানান, নিরাপত্তা, বিমা-সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আর তাতেই একমত হয়েছেন তাঁরা।(Tollywood News)

এদিন প্রসেনজিৎ বলেন, “আগামী ২৫ বছর মানুষ মনে রাখবেন। এতে আমাদের কৃতিত্ব নেই। কৃতিত্ব একটা ছেলের, যে আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছে, আমাদের চোখ খুলে দিয়ে গিয়েছে। রঞ্জিতদা জানেন। আমরা তাদের সঙ্গে কাজ করব না, যারা রাহুলকে আমাদের কাছ থেকে নিয়ে গিয়েছে। এটা ইতিমধ্যেই ঘোষিত। ওই প্রোডাকশন, ওই প্রোডাকশনের সঙ্গে যুক্ত, ওই নামের সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের কারও সঙ্গে আমরা কোনও কাজ এই মুহূর্ত থেকে করব না, যত ক্ষণ না আমরা জানতে পারি, হয় পাবলিকলি বা কোর্ট থেকে আমরা জানতে পারি যে, আমাদের রাহুল, আপনাদের রাহুল কী করে, কী ভাবে আমাদের ছেড়ে চলে গেল। তার সঠিক চেহারা চাই, জানতে চাই।”

দিল্লি থেকে ফিরেই এদিন সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত হন রঞ্জিতবাবু। তিনি বলেন, “প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিই। আমি তিন দিন এখানে ছিলাম না। তবে এটা ঠিক, যাদের জন্য এই ঘটনা, তাদের সঙ্গে কাজ করা এই মুহূর্তে সম্ভব নয় আমাদের। আমরা সত্য জানতে চাই। কী হয়েছিল ওখানে, আমরা জানতে আগ্রহী। বলতেই হবে ঠিক কী ঘটেছিল।”

মঙ্গলবার যে কর্মবিরতি শুরু হয়েছিল, তা আপাতত তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। টলিউডের শিল্পীরা কাল থেকে ফের কাজ শুরু করবেন। তবে ‘ম্য়াজিক মোমেন্টস’ এবং তার সঙ্গে যুক্ত কারও সঙ্গে আপাতত কাজ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সকলে। প্রসেনজিৎ বলেন, “কাল থেকে টেলিভিশন, ছবি সবের কাজ শুরু হবে। ম্যাজিক মোমেন্টস এবং তাদের সঙ্গে যুক্ত কারও সঙ্গে কেউ কাজ করবে না। আমাদের কারও সঙ্গে লড়াই, ঝগড়া নেই। কিন্তু আমাদের পরিবারের একটা ছেলে চলে গেল। আট-ন’দিন আমরা অপেক্ষা করেছি। আইনি পদক্ষেপও করা হয়েছে। প্রিয়ঙ্কা আমাদের পরিবারের সদস্য, রাহুলও ছিল। কিন্তু আমাদের নিজস্ব একটা জায়গা আছে। গোটা পরিবার ঠিক করেছে, ওই মানুষগুলির সঙ্গে কাজ করব না, যারা আমাদের ঘরের ছেলেকে নিয়ে গিয়েছে। পাবলিকলি বলতে হবে, প্রিয়ঙ্কাকে বলতে হবে ফাইনালি এটা মানলাম। এটা একটা পরিবার। রাহুল আমাদের এক করে দিয়ে গিয়েছে। এটা কাম্য ছিল না। কিন্তু ও দেখছে, আমরা সবাই এক জায়গায়। আমরা এক জায়গায় থাকব বলেই ধারণা। থাকতেই হবে।”

যে সমস্ত শিল্পীরা এতদিন নিষিদ্ধ হয়েছিলেন, এদিন সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ঘোষণা করেন দেব। তিনি বলেন, “আমরা ব্যান কালচার, অসহযোগ কালচার থেকে দূরে থাকি সাধারণত। কিন্তু যে ঘটনা ঘটেছে, তা অস্বীকারও করতে পারব না। সেই সংস্থা, তাদের ডিরেক্টরের সঙ্গে নন কোঅপারেশনে যাব আমরা। যত দিন না ওরা প্রমাণ করতে পারে এ ওরা নির্দোষ বা দোষ নেই কোনও। আমাদের সিদ্ধান্ত হয়েছে, যে শিল্পীদের ব্যান করা হয়েছিল, আর আমরা আর্টিস্ট ফোরাম বা ফেডারেশন নয়। আমরা একটা ইন্ডাস্ট্রি, একটা ছাদ। অনেক শিল্পী, পরিচালক নিষিদ্ধ রয়েছেন। বুম্বাদা ৭২ ঘণ্টা সময় দিয়েছেন। ৭২ ঘণ্টা পর তাঁরা ফিরবেন। বুম্বাদা আমাকে কথা দিয়েছেন। যে শিল্পীরা কাজ করতে পারছিলেন না, একটা রাহুল চলে যাওয়াতে আমরা বুঝতে পেরেছি, কাজ করতে না দেওয়াও এমন একটা কষ্ট, যাদের কাজ নেই তারা বুঝতে পারবে। বুম্বাদা কী করবে, স্বরূপের সঙ্গে কী করবে, তবে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ব্যান তুলে দেওয়া হবে বলে আমাকে কথা দিয়েছে।”

সাংবাদিক বৈঠকে স্বরূপ বিশ্বাস জানান, শুটিংয়ে কলাকুশলীদের সুরক্ষা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে লড়াই, আলোচনা চলছিল। কিন্তু এতদিন তা করা যায়নি। রাহুলের যে মর্মান্তিক মৃত্যু হল, তাতে ফেডারেশন, আর্টিস্ট ফোরাম, সবাইকে সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করল। স্বরূপ বলেন, “কিছু টেকনিক্যাল বিষয় নিয়ে কথা হচ্ছে। কিন্তু ওভার অল যে সমস্যা, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সমাধান হবে। আগামী ৩০ দিনের মধ্য়ে বিমার বিষয়টি নিশ্চিত করবই।” কিছু শিল্পী কাজ করছেন না বলে যে অভিযোগ, সেই প্রসঙ্গে স্বরূপ বলেন, “এক বছর আগে বিষয়টি জানা। আমরা আমাদের কাজের অধিকার যাতে না পাই,ন্যূনতম মজুরি যাতে না পাই, তার জন্য মামলা করেছিলেন। ইন্ডাস্ট্রির সকলে জানেন। ১ বছর ১০ দিনের মাথায় আদালত মামলা খারিজ করে দিয়েছে। এখনও আদালত অবমাননা নিয়ে মামলা লড়ছি। তাই হঠাৎ করে দেব যে প্রস্তাব করলেন ৭২ ঘণ্টার মধ্যে, তা ১ বছর তিন মাস আগে এসে বলতেন, তাহলে ভাল হতো। টেকনিশ্য়ানদের ভাল লাগত যে শুধু একজন শিল্পী নয়, সকলকে নিয়ে ভাবছেন। তাহলে কলাকুশলীদের একটু একটু করে জমানো টাকা দিয়ে মামলা খরচ না হয়ে বেঁচে যেত।”

(Feed Source: abplive.com)