
- অভিনেতা রাহুলের মৃত্যু নিয়ে পরস্পরবিরোধী বয়ান ধোঁয়াশা বাড়াচ্ছে।
- প্রযোজনা সংস্থার তরফ থেকে মিথ্যে তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, অভিযোগ অভিনেত্রীর।
- চিত্রনাট্যের বাইরে সমুদ্রে শ্যুটিং, যা শিল্পীর মৃত্যুর কারণ?
- অভিনেত্রী রেশমি সেন প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে কাজ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
কলকাতা: কীভাবে তালসারিতে ঘটে গেল ভয়াবহ দুর্ঘটনা? সেই সময়ে কী শ্যুটিং চলছিল? পরিচালকের নির্দেশেই সমুদ্রের গভীরে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন রাহুল আর শ্বেতা? নাকি গোটা ঘটনাটাই ঘটেছে শ্যুটিং শেষ হয়ে যাওয়ার পরে? নেহাৎ সখ করেই জলে নেমেছিলেন নায়ক নায়িকা? তাই যদি হয়, তাহলে কেন ক্যামেরা আর ড্রোন চলছিল?
প্রশ্ন অনেক। উত্তর নেই। এখনও রহস্যের অতলে রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু। তার মধ্যে, পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে, পরস্পর বিরোধী বয়ান আর বারে বারে বয়ান বদল। প্রত্যক্ষদর্শীরা এক কথা বলছেন তো যে ডুবুরি জল থেকে তাঁদের তুলেছিলেন, তিনি বলছেন আরেক কথা। প্রযোজনা সংস্থার তরফে বলা হচ্ছে এক কথা তো ম্য়ানেজার বলছেন আরেক কথা! গোটা বিষয়টা নিয়ে ক্রমেই বাড়ছে ধোঁয়াশা। টলিউডের অধিকাংশরাই প্রত্যাশা করেছিলেন, গোটা ঘটনায় দায় হয়তো নেবে প্রযোজনা সংস্থা। কিন্তু এমন কোনও উদ্যোগ দেখা যায়নি শৈবাল বন্দ্য়োপাধ্য়ায় ও লীনা গঙ্গোপাধ্য়ায়ের প্রযোজনা সংস্থা Magic Moments Motion Pictures-এর তরফে। মহিলা কমিশনের পদ থেকে লীনা গঙ্গোপাধ্যায় ইস্তফা দিতে প্রস্তুত, এই কথা জানালেও, তিনি যে ইস্তফা দিয়েছেন, সেই খবর এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
‘প্রত্যেকটা মুহূর্তে একটা করে মিথ্যে বলা হচ্ছে’
কী হয়েছিল সেদিন? ধারাবাহিক ‘ভোলে বাবা পার করেগা’-তে অভিনয় করছিলেন অভিনেত্রী রেশমি সেন (Reshmi Sen) ও! তবে এদিনের শ্যুটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন না তিনি। এবিপি আনন্দকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রেশমি সেন বলেছেন, ‘ধারাবাহিক ‘চিরসখা’ আর ‘ভোলে বাবা পার করেগা’, এই ২টিতেই আমি অভিনয় করতাম। যেদিন, যে মুহূর্তে রাহুলের খবরটা পেয়েছি.. তখন কিছু বলতে পারিনি কারণ আমার বা কৌশিকের কারও সোশ্যাল মিডিয়া নেই। পরেরদিন রাহুলদের বাড়ি গিয়ে রাহুলের মা আর প্রিয়ঙ্কার সঙ্গে দেখা করি। দেখার পরে আমার মনে হয়েছিল, আমি যদি মানুষ হই আর শিল্পী হই, তাহলে এই হাউজের সঙ্গে আর কাজ করতে পারব না যেখানে প্রত্য়েক মুহূর্তে একটা করে মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। যে রাহুল চলে গিয়েছে, তার মুখে কথাগুলো বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে, রাহুল ড্রোন চেয়েছিল। আমরা যাঁরা শিল্পী, এত বছর ধরে কাজ করছি, আমরা জানি, একজন আর্টিস্ট যদি শট দেওয়ার আগে বলে, এখনই আমার ড্রোন চাই.. সেটা কলকাতা থেকে উড়ে যাওয়া সম্ভব না। যদি লোকাল ও থাকে, তাহলে ড্রোন জিমি জিপ প্রত্যেকটার জন্য আলাদা টেকনিশিয়ান্স লাগে। সুতরাং কলকাতা থেকে ড্রোন নিয়ে যাওয়া হয়েছিল মানেই সমুদ্রের শট ছিল।’
‘শিল্পী হলে, এই হাউজের সঙ্গে আর কাজ করতে পারব না’
রেশমি আরও বলেন, ‘শুনলাম কর্ণধার বলছেন, চিত্রনাট্যে সমুদ্রের শট ছিল না। আমি যেহেতু এখানে অনেকগুলো কাজ করেছি, আমি জানি চিত্রনাট্যের একটা লাইন ও এদিক ওদিক করা যায় না। কেউ বলছেন, ৫ মিনিটে তোলা হয়েছে। পোস্টমর্টম রিপোর্টেই তো প্রমাণ হয়ে গিয়েছে যে ও দেড় ঘণ্টা জলে হাবুডুবু খেয়েছিল। তারপরেই ঠিক করে নিই, এই হাউজটার সঙ্গে আর কাজ করতে পারব না, যদি শিল্পী হয়ে থাকি। আমি ওঁদের চুক্তির শিল্পী নই। আমি পার-ডে আর্টিস্ট, তাই আমার কোনও চিঠি দেওয়ার প্রয়োজন নেই। রাহুলের মৃত্যুর পরের দিনই ঋদ্ধির সোশ্যাল মিডিয়া মারফত জানাই, এই হাউজের সঙ্গে আর কাজ করতে পারব না। আমার আর্টিস্ট ফোরামের সিনিয়রদেরও জানাই।’
(Feed Source: abplive.com)
