Asha Bhosle Love Story: স্টুডিওতে প্রবল ঝগড়া, ১৫ বছরের প্রেম ভাঙে এক লহমায়: আশা ভোঁসলেকে ‘কুইন’ বানিয়েছিলেন এই সুরকারই

Asha Bhosle Love Story: স্টুডিওতে প্রবল ঝগড়া, ১৫ বছরের প্রেম ভাঙে এক লহমায়: আশা ভোঁসলেকে ‘কুইন’ বানিয়েছিলেন এই সুরকারই

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভারতীয় সংগীতের ইতিহাসে রাহুল দেব বর্মন ও আশা ভোঁসলে জুটিকে নিয়ে যতটা চর্চা হয়, তার আড়ালে অনেকটাই ঢাকা পড়ে থাকে ও পি নায়ার ও আশার প্রেমের এবং পেশাদারিত্বের রসায়ন। ১৯৫০ ও ৬০-এর দশকে যখন লতা মঙ্গেশকরের ধ্রুপদী কণ্ঠের জয়জয়কার, তখন এক বিদ্রোহী সুরকার ঘোষণা করেছিলেন— লতাকে ছাড়াই তিনি গড়বেন সুরের সাম্রাজ্য। তিনি ও পি নায়ার। যাঁর হাত ধরেই নেপথ্য গায়িকা হিসেবে নিজের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছিলেন আশা ভোঁসলে।

কেরিয়ারের শুরুর দিকে আশা ভোঁসলেকে মূলত দ্বিতীয় সারির গায়িকা বা পার্শ্বচরিত্রের গানের জন্যই ভাবা হতো। লতার একাধিপত্যের যুগে আশা যেন কিছুটা প্রান্তিক হয়েই ছিলেন। ঠিক এই সময়েই ও পি নায়ার তাঁকে চিনেছিলেন। নায়ারের বিশ্বাস ছিল, আশার কণ্ঠের মধ্যে যে আবেদন এবং আধুনিকতা রয়েছে, তা সমকালীন আর কারও নেই। ১৯৫৪ সালে ‘বাপ রে বাপ’ থেকে শুরু হওয়া এই জুটি ‘হাওড়া ব্রিজ’ বা ‘এক মুসাফির এক হাসিনা’-র মতো ছবিতে সুরের বিপ্লব ঘটিয়ে দেয়। আশাকে তিনি কেবল নায়িকার কণ্ঠই দিলেন না, বরং বানালেন বলিউডের ‘গ্ল্যামার ভয়েস’।

ও পি নায়ার ছিলেন সেই বিরল প্রতিভা, যাঁকে সমকালীন শ্রেষ্ঠ গায়িকা লতা মঙ্গেশকরের দ্বারস্থ হতে হয়নি। যেখানে অন্য সুরকাররা লতার একটি ডেটের জন্য চাতকের মতো অপেক্ষা করতেন, সেখানে নায়ার দম্ভের সাথে ঘোষণা করেছিলেন যে লতার কণ্ঠ তাঁর তালের সঙ্গে খাপ খায় না। এই অভাব তিনি পূরণ করেছিলেন আশাকে দিয়ে। সুরকার ও গায়িকার এই পেশাগত বোঝাপড়া সংগীতে এক নতুন ঘরানার জন্ম দিয়েছিল।

নায়ার ও আশার সম্পর্ক কেবল স্টুডিওতে সীমাবদ্ধ ছিল না। দীর্ঘ সময় তাঁরা একে অপরের ছায়াসঙ্গী ছিলেন। কিন্তু ১৯৭২ সালে এক তিক্ত বিচ্ছেদের মাধ্যমে এই সম্পর্কের যবনিকা পড়ে। আশ্চর্যের বিষয় হল, সেই বিচ্ছেদের পর ও পি নায়ার আর কোনওদিন আশার সঙ্গে কাজ করেননি। একইভাবে আশা ভোঁসলেও তাঁর আত্মজীবনী বা সাক্ষাৎকারে দীর্ঘ সময় ও পি নায়ারকে নিয়ে এক রহস্যময় নীরবতা বজায় রেখেছিলেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ও পি নায়ার না থাকলে আশা ভোঁসলে হয়তো আজীবন ‘দ্বিতীয় লতা’ হয়েই থেকে যেতেন। লতা মঙ্গেশকরের সুরেলা গাম্ভীর্যের বিপরীতে আশার কণ্ঠে যে প্রাণের জোয়ার তিনি এনেছিলেন, তা আজও ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক অমূল্য সম্পদ।

(Feed Source: zeenews.com)