শুভপম সাহা: জিততে ভুলে গিয়েছে নাকি ‘ডাবল চাম্পিয়ন’ মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট? এই চলতি মরসুমের শুরুর চার ম্যাচ জিতে অশ্বমেধের ঘোড়ার মতো ছোটা দলের আচমকা ছন্দপতনের পর এমন প্রশ্নই উঠেছিল| রবিবার যুবভারতীতে পঞ্জাবকে হারিয়ে সব প্রশ্নের উত্তর দিল মোহনবাগান| ঘরের মাঠে পিছিয়ে পড়েও দুরন্ত প্রত্যাবর্তন করল মোহনবাগান| ৩-২ জিতে আবার খেতাবি দৌড় জমিয়ে দিল সবুজ-মেরুন|
পঞ্জাবের বিরুদ্ধে নামার আগে মোহনবাগান শেষ তিন ম্যাচ (বেঙ্গালুরুর সঙ্গে গোলশূন্য, মুম্বইয়ের কাছে ১-০ হার ও শেষ ম্যাচে জামশেদপুরের সঙ্গে ১-১) জয়ের মুখ দেখেনি| শুরু থেকেই গোলের জন্য মরিয়া ছিল সের্জিয়ো লোবেরার শিষ্যরা| উলটোদিকে পাঁচ ম্যাচ অপরাজিত পঞ্জাবও কিন্তু ছেড়ে কথা বলার পাত্র ছিল না|
মোহনবাগানকে চাপে রেখেই ১২ মিনিটে প্রথম গোল তুলে নেয় প্যানাজিয়োটিস ডিমপেরিসের টিম| পঞ্জাবের হাই-প্রেসিং দারুণ ফল দিল শুরুতেই। বল পেয়ে বাঁ-প্রান্তে উঠে আসেন উভাইস। বক্সের মধ্যে নিখুঁত বাঁক খাওয়া ক্রস তোলেন তিনি। সেখানে পৌঁছে গিয়েও পা বাড়িয়ে বল ছুঁতে ব্যর্থ হন এফিয়ং। তবে সুযোগ হাতছাড়া হয়নি| ঠিক জায়গায় উপস্থিত ছিলেন ডানি রামিরেজ। স্প্যানিশ মিডফিল্ডার বল নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে বাঁ-পায়ে জোরাল শটে জালে বল জড়িয়ে দেন| বিশাল কাইথের কিছু করারই ছিল না|
গোল খেয়েই মোহনবাগান জোড়া বদল করে ফেলে টিমে| মনবীর সিংকে তুলে মেহতাব সিং ও আলবার্তো রড্রিগেজের জায়গায় আসেন দিমি পেত্ৰাতোস| তবে গোল শোধ করার জন্য খুব বেশি অপেক্ষা করতে হল না মোহনবাগানকে| ২৯ মিনিটে স্কোরলাইন ১-১ করেন জেমি ম্যাকলারেন| শুভাশিস থেকে রবসনের ফ্লিক হয়ে বক্সের বাঁ দিক দিয়ে বল পান ম্যাকলারেন। অস্ট্রেলিয়ান ফরোয়ার্ড দ্রুত এগিয়ে এসে ডানদিকে কাট করেন| এরপর ম্যাকলারেনের নেওয়া শট বিজয়ের গায়ে সামান্য লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়িয়ে যায়। চলতি মরসুমে ম্যাকলারেনের অষ্টম গোল হয়ে যায়|
প্রথমার্ধে ৬ মিনিট যোগ করেছিলেন রেফারি| তবে স্কোরলাইন ১-১ থেকে যায়| বিরতির ঠিক আগেই যদিও এসেছিল গোলের সুযোগ| লিস্টনের কর্নার থেকে দীপক টাংরি হেড নেন, যা দারুণ ভাবে ঠেকান গোলরক্ষক অর্শদীপ সিং। তবে রিবাউন্ডে বলটি জোরাল শটে জালে জড়িয়ে দেন দিমি| মোহনবাগান গ্যালারি সেলিব্রেশনে মেতে ওঠে সঙ্গে সঙ্গে| কিন্তু রেফারি জানিয়ে দেন দিমি অফসাইড করেছেন|
বিরতির পর ফিরে এসে দুই দলই ব্যবধান বাড়াতে মরিয়া ছিল| কিন্তু কাজের কাজটা করে ফেলে পঞ্জাব| প্রথমার্ধে স্কোরশিটে অল্পের জন্য নাম না লেখাতে পারা এফিয়ং স্কোরলাইন ২-১ করেন ৬০ মিনিটে| রামিরেজের বাড়ানো থ্রু পাসে বল পেয়ে এগিয়ে যান এফিয়ং, তবে তাঁর শটটি দুর্দান্তভাবে রুখে দেন কাইথ। তবে আক্রমণের ধার বজায় রাখে পঞ্জাব। আবার বল দখল করে সামনে উঠে আসে তারা। এবার সেই রামিরেজের পাস ওসুজির কাছে পৌঁছয়, সেখান থেকে চিপ করে তোলা বল সরাসরি পান এফিয়ং। প্রথম টাচেই ভলিতে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি।
খেলার ৬৯ মিনিটে রবিনহোকে তুলে কামিংস ও টাংরিকে তুলে সাহাল আব্দুল সামাদকে নামানোর ফল হাতেনাতে পেয়ে যান লোবেরা| এবারও যেন প্রথমার্ধের রিপিট টেলিকাস্ট| গোল হজম করেই গোল শোধ করল মোহনবাগান| ৭৩ মিনিটে সাহালের দুরন্ত গোলই সমতায় ফেরায় মেরিনার্সকে| সামনে পাস দেওয়ার মতো কোনও সুযোগ না পেয়ে প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে সাহাল জোরাল শট নেন তিনি। গোলার মতো শট পঞ্জাবের ডিফেন্স লাইন টপকে লুপ করে গোলের দিকে নামতে থাকে। ডাইভ দিয়ে আর্শদীপ সামান্য স্পর্শ করলেও, তা রুখতে পারেননি| নিয়মিত সময়ের মাত্র ১৫ মিনিটের কিছু বেশি বাকি থাকতেই ম্যাচে সমতায় ফেরে মোহনবাগান|
দ্বিতীয়ার্ধে ৭ মিনিট এক্সট্রা টাইম দিয়েছিল রেফারি| ৯১ মিনিটে কামিংস গোল করে স্কোরলাইন ৩-২ করেন এবং মোহনবাগানের তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করেন| বক্সের ডান দিক থেকে ফ্রি-কিক নিতে দাঁড়ান কামিংস। তিনি দারুণ ভাবে বলটি ঘুরিয়ে ছ’ গজের বক্সে পাঠান। অর্শদীপ বলটি ক্লিয়ার করতে লাইন ছেড়ে বেরিয়ে আসেন, কিন্তু সম্পূর্ণ মিস করে যান। বল গড়িয়ে সরাসরি জালে ঢুকে যায়।
এদিনের ম্যাচের আগে মোহনবাগান পয়েন্ট টেবলে চারে (৭ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট) ছিল| পঞ্জাবকে হারিয়ে ৮ ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে মোহনবাগান চলে গেল দুয়ে| তবে ড্র করলেও মোহনবাগান দুয়েই থাকত| কারণ গোল পার্থক্যে তারা জামশেদপুরকে পিছনে ফেলে দিয়েছিল আগেই|
(Feed Source: zeenews.com)
