Iran-US War: একটা ঠগ, এক ঘণ্টায় সাতটা মিথ্যে দাবি করেছেন ট্রাম্প: ইরানের বোমায় ফের বিপন্ন হরমুজ়, ফের যুদ্ধ?

Iran-US War: একটা ঠগ, এক ঘণ্টায় সাতটা মিথ্যে দাবি করেছেন ট্রাম্প: ইরানের বোমায় ফের বিপন্ন হরমুজ়, ফের যুদ্ধ?

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ইরানের জলসীমায় মার্কিন নৌ-অবরোধ নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইরান জলপথে অবরোধ অব্যাহত থাকবে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, অবরোধ না তুললে বিশ্বের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া হবে। কালিবাফ ট্রাম্পকে আক্রমণ করে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে সাতটি দাবি করেছেন এবং তাঁর প্রতিটিই সম্পূর্ণ মিথ্যে।

লেবাননে যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ঘোষণা করেছিলেন যে, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালী এখন ‘সম্পূর্ণ খোলা’। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই দাবি নাকচ করে জানান, ইরানের সঙ্গে চূড়ান্ত ‘লেনদেন’ শেষ না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন নৌ-অবরোধ পূর্ণ শক্তিতে বহাল থাকবে। প্রয়োজনে আবারও ‘বোমা হামলা’ শুরু করার হুমকিও দেন ট্রাম্প।

এর জবাবে স্পিকার কালিবাফ এক্স হ্যান্ডেলে জানিয়েছেন, ‘আমেরিকার অবরোধ বজায় থাকলে হরমুজ প্রণালীও খোলা থাকবে না।’ তিনি আরও জানান, এই পথ দিয়ে যাতায়াত করতে হলে ইরানের নির্ধারিত রুট এবং তেহরানের বিশেষ অনুমতি নিতে হবে। মিথ্যে তথ্য ছড়িয়ে আলোচনার টেবিলে বা যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো সুবিধা পাওয়া যাবে না। যদিও ট্রাম্পের কোন সাতটি দাবি নির্দিষ্টভাবে মিথ্যা, তা কালিবাফ খোলসা করেননি। ট্রাম্পের আলোচনার কৌশলকে ‘মিথ্যাচার’ বলে অভিহিত করে কালিবাফ বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ার কথায় নয়, বরং মাঠের পরিস্থিতিই ঠিক করবে এই প্রণালী খোলা থাকবে কি না।’

আলোচনার একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বা ট্রাম্পের ভাষায় ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, একটি শান্তি চুক্তির মাধ্যমে ইরান থেকে এই তেজস্ক্রিয় পদার্থগুলো ট্রাকে করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হবে। কিন্তু ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই দাবি কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি এবং এই সম্পদ দেশের বাইরে কোথাও পাঠানো হবে না।

বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। দীর্ঘ যুদ্ধের কারণে প্রায় দুই মাস এই পথ বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা এখন এই প্রণালীকে ইরানের জন্য ‘পারমাণবিক অস্ত্রের মতো শক্তিশালী প্রতিরোধক’ হিসেবে দেখছেন। যদিও ইরান পথটি খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, তবুও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অনেক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে দ্বিধাবোধ করছে বলে জানা গেছে।

(Feed Source: zeenews.com)