
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: সময় পাল্টায়, কিন্তু প্রতিবাদের ভাষা কি সত্যিই বদলে যায়? অন্তত ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপট বলছে অন্য কথা। পাঁচ বছর আগে, ২০২১-এর মহারণের ঠিক দু’দিন আগে মুক্তি পেয়েছিল একটি গান। যা মুহূর্তের মধ্যে হয়ে উঠেছিল বাংলার ‘অ্যান্টি-ফ্যাসিস্ট’ আন্দোলনের মুখ। আজ, ২০২৬-এর ভোট উৎসবেও সেই গানের প্রাসঙ্গিকতা বিন্দুমাত্র কমেনি; বরং নেটপাড়ায় তা নতুন করে ভাইরাল।
অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্যের লেখা এই গানে এককাট্টা হয়েছিলেন বাংলার নবীন ও প্রবীণ বুদ্ধিজীবীরা। পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, ঋদ্ধি সেন, দেবলীনা দত্ত থেকে শুরু করে রূপঙ্কর বাগচী, অনুপম রায় কিংবা সব্যসাচী চক্রবর্তীর মতো ব্যক্তিত্বরা সেই মিউজিক ভিডিওতে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছিলেন— গণতন্ত্রের অধিকার খর্ব করা চলবে না। বিশেষত, কেন্দ্রীয় সরকারের ধর্মীয় মেরুকরণ এবং স্বৈরাচারী মনোভাবের বিরুদ্ধে গানটি ছিল এক খোলা চ্যালেঞ্জ।
এবারের ভাইরালে এক মিশ্র বিষণ্ণতা কাজ করছে নেটিজেনদের মধ্যে। গানের ভিডিওতে জ্বলজ্বল করছেন অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি সম্প্রতি আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন। তাঁর সেই প্রতিবাদী চাহনি আর কণ্ঠস্বর আজ অনুরাগীদের আরও বেশি আবেগপ্রবণ করে তুলছে। গানের প্রতিটি লাইনে মিশে আছে বহুত্ববাদ রক্ষার অঙ্গীকার। “তুমি পুরাণকে বলো ইতিহাস, ইতিহাসকে বলো পুরনো”— এই অমোঘ সত্য আজও দিল্লির শাসনতন্ত্রের দিকে সরাসরি আঙুল তুলছে।
From 2021—Still Relevant Today
You may feel that TMC isn’t the Best Option, but take it from those who live in “Double Engine” States—The Alternative Could Be Far Worse.#NoVoteToBJP #Bengal #MamataBanerjee pic.twitter.com/OI8g7jodc0
— তন্ময় l T͞anmoy l (@tanmoyofc) April 22, 2026
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফা শেষ হয়েছে। প্রচারে বারংবার আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিরোধী পক্ষ থেকে ফের তোলা হচ্ছে বিভাজনের রাজনীতির অভিযোগ। এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে ভোটারদের মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছে বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের কথা। গানটি শুধুমাত্র বাংলাতেই সীমাবদ্ধ নেই; অন্যান্য ভাষার মানুষও এটিকে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন।
শিল্পীরা মনে করেন, যখনই দেশের জনমতের গলা টিপে ধরার চেষ্টা হবে, তখনই প্রতিবাদী কণ্ঠ তোলা নাগরিকদের কর্তব্য। ‘একুশের গণসঙ্গীত’ আজ আর কেবল একটি ভিডিও নয়, এটি একটি আদর্শের নাম। ২০২৬-এর ভোটবাক্সে এর প্রভাব কতটা পড়বে তা সময় বলবে, তবে বাঙালির লড়াইয়ের ময়দানে এই গান যে ‘অমর’, তা ফের প্রমাণিত।
(Feed Source: zeenews.com)
