
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: প্রায় দু’মাস পেরিয়ে গিয়েছে ইরান-আমেরিকার যুদ্ধের। এখনও কোনওরকম সমঝোতায় এসে পৌঁছাতে পারেনি দুই দেশ। পাকিস্তানের মধ্যস্থতার একাধিক চেষ্টা করলেও, সব কিছু জলে গিয়েছে। এবার নিজেদের মধ্যে শান্তি ফেরানোর লক্ষ্য নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একটি পালটা প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। গত শনিবার ইরান জানিয়েছে, আমেরিকার দেওয়া ৯ দফা প্রস্তাবের জবাবে তারা ১৪ দফার একটি নতুন পরিকল্পনা পেশ করেছে। পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো এই প্রস্তাব নিয়ে যখন আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছিল, ঠিক তখনই ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত ‘জলদস্যু’ মন্তব্য এবং ইরানের কড়া প্রতিক্রিয়ায় উত্তেজনা নতুন করে চরমে পৌঁছেছে।
ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা কোনও দীর্ঘমেয়াদী সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে আগ্রহী নয়। আমেরিকা দুই মাসের বিরতি চাইলেও ইরান দাবি করেছে যে, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে মূল সমস্যাগুলোর সমাধান করে যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটাতে হবে। ইরানের ১৪ দফার প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে- ইরানের চারপাশ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া, জব্দ করা অর্থ ফেরত এবং সব ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বাতিল করা। এছাড়া লেবানন-সহ সব ফ্রন্টে একযোগে যুদ্ধ বন্ধের দাবিও জানিয়েছে তেহরান।
শান্তি আলোচনার মধ্যেই নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সম্প্রতি মার্কিন নৌবাহিনী কর্তৃক ইরানি সংশ্লিষ্ট জাহাজ ও তেলের ট্যাঙ্কার জব্দ করার ঘটনাকে ‘জলদস্যুতা’র সঙ্গে তুলনা করেছেন। ট্রাম্প রসিকতা করে বলেন, ‘আমরা অনেকটা জলদস্যুদের মতো, তবে আমরা কোনও রসিকতা করছি না।’ এমনকি এই অভিযানগুলোকে তিনি একটি ‘লাভজনক ব্যবসা’ হিসেবেও বর্ণনা করেন।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন লঙ্ঘনের একটি প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি। তারা ‘ম্যাজেস্টিক এক্স’ এবং ‘টিফানি’ নামক দুটি তেলের ট্যাঙ্কার আটক করাকে ‘সমুদ্রে সশস্ত্র ডাকাতি’ বলে অভিহিত করেছে এবং এর বিরুদ্ধে বিশ্ব সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে।
ইরানের এই নতুন প্রস্তাবের বিষয়ে ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেছেন, তিনি প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করবেন। তবে তিনি সাফ জানিয়েছেন যে, ইরান গত ৪৭ বছরে যা করেছে, তার জন্য তারা এখনও পর্যাপ্ত মূল্য দেয়নি। তাই এই প্রস্তাব গ্রহণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন হবে।
এদিকে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা একটি চুক্তির চেষ্টা চালিয়ে গেলেও ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের (IRGC) কমান্ডাররা যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন। সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালী ও এর আশেপাশের অঞ্চলে দুই শক্তির সামরিক অবস্থান বিশ্বজুড়ে নতুন করে সংঘাতের আতঙ্ক তৈরি করেছে, যা বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
(Feed Source: zeenews.com)
