Prosenjit Chatterjee: টলিউডের ক্ষমতার অলিন্দে বড় রদবদল? রুদ্রনীল-প্রসেনজিৎ ফোনালাপ নিয়ে মুখ খুললেন ‘ইন্ডাস্ট্রি’

Prosenjit Chatterjee: টলিউডের ক্ষমতার অলিন্দে বড় রদবদল? রুদ্রনীল-প্রসেনজিৎ ফোনালাপ নিয়ে মুখ খুললেন ‘ইন্ডাস্ট্রি’

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন শুধু প্রশাসনিক স্তরেই নয়, বড়সড় কম্পন সৃষ্টি করেছে টলিউডের অন্দরেও। দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত সমীকরণগুলো রাতারাতি বদলে যেতে শুরু করেছে। ইন্ডাস্ট্রির ভরকেন্দ্র বা ‘পাওয়ার সেন্টার’ এখন কার দখলে যাবে, তা নিয়ে স্টুডিও পাড়ায় কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে নানা গুঞ্জন। এই দলবদলের আবহে সবথেকে বেশি চর্চায় উঠে এসেছে অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষের কাছে আসা কিছু ফোন কল। আর সেই তালিকায় সুপারস্টার প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের নাম জড়াতেই শোরগোল পড়ে গেছে নেটপাড়ায়।

সম্প্রতি রটে যায় যে, রাজনৈতিক পালাবদলের ইঙ্গিত পেয়েই প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় যোগাযোগ করেছেন রুদ্রনীল ঘোষের সঙ্গে। ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের এই গুঞ্জন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়লে দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে মুখ খোলেন স্বয়ং ‘বুম্বাদা’। সোশ্যাল মিডিয়ায় অত্যন্ত মার্জিত কিন্তু কড়া ভাষায় নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন তিনি।

প্রসেনজিৎ লিখেছেন, “আমি দীর্ঘ বহু বছর ধরে অত্যন্ত সম্মানের সাথে অভিনয় করে আসছি এবং আগামীদিনেও ঠিক একইভাবে কাজ করে যেতে চাই। আপনাদের সকলের কাছে আমার একটাই বিনীত অনুরোধ— দয়া করে আমার গায়ে কোনো রাজনৈতিক রঙ লাগাবেন না।”

ফোনের বিষয়টি অস্বীকার না করলেও, তার প্রেক্ষাপট যে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন অভিনেতা। তিনি জানিয়েছেন, তিনি নিজে কাউকে ফোন করেননি; বরং রুদ্রনীলই তাকে ফোন করেছিলেন। প্রসেনজিতের কথায়, “আমি কাউকে ফোন করিনি; বরং আমার ছোট ভাই ফোন করেছিল আমাকে। বড় দাদা হিসেবে কাউকে আশীর্বাদ করা আমার কর্তব্য, আর আমি কেবল সেই টুকুই পালন করেছি। এর সাথে রাজনীতির কোনো যোগসূত্র নেই।”

বাংলার বিনোদন জগতে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় একটি প্রতিষ্ঠানের মতো। দশকের পর দশক ধরে তিনি নিজেকে রাজনীতির প্রত্যক্ষ কাদাছোড়াছুড়ি থেকে দূরে রেখে পেশাদারিত্ব বজায় রেখেছেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে যখন টলিউডের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বই শিবির বদলাতে ব্যস্ত, তখন প্রসেনজিতের মতো মহাতারকার নাম জড়ানোয় জল্পনা দানা বেঁধেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টলিউডের রাশ কার হাতে থাকবে—পুরানো শিবিরের নাকি নতুন কোনো শক্তির—তা নিয়ে পর্দার আড়ালে এক বিশাল দড়ি টানাটানি চলছে। রুদ্রনীল ঘোষের মতো অভিনেতা, যিনি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয়, তাকে প্রসেনজিতের ফোন করা বা কথা বলাকে অনেকেই ‘সেফ প্যাসেজ’ খোঁজা হিসেবে দেখছিলেন। তবে প্রসেনজিতের এই সাম্প্রতিক বিবৃতি সেই জল্পনায় আপাতত জল ঢেলে দিল। তিনি বুঝিয়ে দিলেন, তার পরিচয় শুধুই একজন শিল্পী হিসেবে, কোনো রাজনৈতিক ঝাণ্ডাধারী হিসেবে নয়।

(Feed Source: zeenews.com)