
IIT Kharagpur: ইতিহাসের পাতা ওল্টালেই দেখা যাবে হিজলি ও চট্টগ্রাম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ওই বছর ২৬ সেপ্টেম্বর কলকাতায় এক সভা হয়। সভাপতিত্ব করেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ। সেদিন খড়গপুরের হিজলিতে অবস্থিত বন্দী নিবাসে নির্বিচারে হত্যার ঘটনায় গর্জে উঠেছিলেন এই বাংলার কবি, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
খড়গপুর, রঞ্জন চন্দ: ভারতের সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার ইতিহাসে বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক অবিস্মরণীয় নাম। একইভাবে পরাধীন ভারতবর্ষে শাসকদের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিলেন কবিগুরু। একইভাবে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে আইআইটি খড়গপুর এক বহু চর্চিত নাম। তবে এই আইআইটি খড়গপুরের সঙ্গে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এক আত্মিক যোগ রয়েছে। আজ যেখানে আইআইটি খড়গপুর প্রতিষ্ঠিত সেখানেই ছিল পরাধীন ভারতবর্ষের বন্দিনিবাস। একসময় এই ডিটেনশন ক্যাম্পে নির্বিচারে গুলি চালিয়েছিল ব্রিটিশ শাসকেরা।
আজ যেখানে আইআইটি খড়গপুর প্রতিষ্ঠিত সেখানেই ছিল পরাধীন ভারতে ব্রিটিশ শাসকদের হিজলি ডিটেনশন ক্যাম্প। এই ডিটেনশন ক্যাম্পে গুলি চালিয়ে নির্বিচারে হত্যা করা হয় বাংলার বিপ্লবীদের। হৃদয়বিদারক মর্মস্পর্শী ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন স্বয়ং কবিগুরু। লিখেছিলেন, “বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে।” জানেন কেন কবি রবি লিখেছিলেন এই লাইন? কয়েকটা দশক পিছনে গেলেই দেখা যায়, আজকের যেখানে ভারতের প্রযুক্তিবিদ্যার প্রাচীন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত, জানেন সেখানেই এককালে বয়েছে রক্ত। নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এই বাংলার বীর ছেলেদের। তবে আজকের আইআইটি খড়গপুরের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যোগ কোথায়? জেনে নিন সেই ইতিহাস।
ভারতে প্রযুক্তিবিদ্যার প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য একাধিক জায়গা খোঁজা হলেও, রেল শহর খড়গপুর শহরে প্রতিষ্ঠা করা হয় এই প্রতিষ্ঠান। আজ যেখানে আইআইটি খড়গপুর প্রতিষ্ঠিত, সেখানে এক কালে ছিল বন্দি নিবাস, এখানেই ব্রিটিশ শাসকেরা বন্দি করে রেখেছিলেন এই বাংলার বীর বিপ্লবীদের। এককালের হিজলি ডিটেনশন ক্যাম্প, পরিবর্তিত হয়ে তৈরি হয় আইআইটিতে। বাংলার বিপ্লবের আঁতুড়ঘর অবিভক্ত মেদিনীপুর। সারাদেশে ব্রিটিশ হটাতে গর্জে উঠেছিল বাংলার যুবকেরা। বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিয়েছেন জেলার বীরেরা।
এই হিজলি ডিটেনশন ক্যাম্পে বন্দী থাকা বাংলার বিপ্লবীদের উপর চালানো হয় নির্বিচারে গুলি, এককালের হিজলি ডিটেনশন ক্যাম্প বা হিজলি বন্দি নিবাস আজ বহু স্মৃতি বহন করে চলেছে। আঁকড়ে ধরে রেখেছে এককালের স্বাধীনতার সংগ্রামের প্রতিটি দিন। যেই বন্দি নিবাসে নির্বিচারে হত্যার ঘটনায় স্বয়ং বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গর্জে উঠেছিলেন, লিখেছিলেন: “ভগবান তুমি যুগে যুগে দূত পাঠায়েছ বারেবারে, দয়াহীন সংসারে।” নিরস্ত্র বন্দিদের উপর গুলি চালানোর ঘটনায় মৃত্যু হয় দুই বীর বিপ্লবীর। সুভাষচন্দ্র বসুর সহপাঠী সন্তোষ মিত্র এবং মাস্টারদা সূর্য সেনের অনুগামী তারকেশ্বর সেনগুপ্ত মৃত্যু হয়।
হিজলী হত্যাকাণ্ডের পর রবীন্দ্রনাথ লিখলেন প্রশ্ন কবিতা, “ভগবান তুমি যুগে যুগে দূত পাঠায়েছ বারে বারে, দয়াহীন সংসারে।” তাঁর কবিতায় লিখলেন, “আমি-যে দেখেছি গোপন হিংসা কপট রাত্রিছায়ে হেনেছে নিঃসহায়ে, আমি-যে দেখেছি প্রতিকারহীন শক্তের অপরাধে বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে।”
ইতিহাসের পাতা ওল্টালেই দেখা যাবে হিজলি ও চট্টগ্রাম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ওই বছর ২৬ সেপ্টেম্বর কলকাতায় এক সভা হয়। সভাপতিত্ব করেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ। সেদিন খড়গপুরের হিজলিতে অবস্থিত বন্দি নিবাসে নির্বিচারে হত্যার ঘটনায় গর্জে উঠেছিলেন এই বাংলার কবি, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ। ইতিহাসের পাতায় আজও জ্বলজ্বল করে সেদিনের রক্তাক্ত ইতিহাস।
