EAST BENGAL BIG BREAKING: সাংবাদিক বৈঠকে বোমার পর বোমা ফাটালেন অস্কার, ইস্টবেঙ্গল কোচের বিরাট আপডেটে ময়দানে তুমুল ঝড়

EAST BENGAL BIG BREAKING: সাংবাদিক বৈঠকে বোমার পর বোমা ফাটালেন অস্কার, ইস্টবেঙ্গল কোচের বিরাট আপডেটে ময়দানে তুমুল ঝড়

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: সব জল্পনার অবসান। চলতি আইএসএল (ISL 2025-26) মরসুম শেষ হলেই ইস্টবেঙ্গলের (East Bengal FC) হেড কোচের পদ ছাড়ছেন অস্কার ব্রুজোঁ (Oscar Bruzon)। বিগত কয়েক ঘণ্টায় অস্কারের ইস্টবেঙ্গল ছাড়া নিয়ে জল্পনা ছিল তুঙ্গে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর পোস্টে বিদায়ের ইঙ্গিত ছিল স্পষ্ট। এই মুহর্তে ভারতসেরা হওয়ার দৌড়ে থাকা মিগুয়েল-আনোয়ারদের ক্লাবের ভবিষ্যত অন্ধকার বলেই মনে করেন অস্কার। ৪৮ বছরের স্প্যানিয়ার্ডে লাল-হলুদের না আছে ‘ভিশন’, না আছে কোনও ‘পরিকল্পনা’। তাই আর লেসলি ক্লডিয়াস সরণির শতাব্দী প্রাচীন ক্লাবের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চান না বাংলাদেশের বসুন্ধরা কিংসকে ১১ ট্রফি দেওয়া কোচ। নিজের ফেয়ারওয়েলে সিলমোহর দিয়ে দিলেন অস্কার। আগামী মঙ্গলবার ইস্টবেঙ্গল মুম্বইয়ের ঘরের মাঠে মুম্বই সিটি এফসি-র বিরুদ্ধে খেলতে নামবে। তার আগে রবিবাসরীয় বিকালে, যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের মিডিয়া সেন্টারে  প্রাক ম্যাচ সাংবাদিক বৈঠক করেছিলেন অস্কার। সেখানেই একের পর এক বোমা ফাটালেন অস্কার।

ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা এশিয়ার সেরা ফ্যানবেস

‘এই সাংবাদিক বৈঠক মূলত ইস্টবেঙ্গলের বর্তমান পরিস্থিতি এবং মঙ্গলবার আমাদের সামনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ নিয়ে। আর অবশ্যই, আমি আমার ব্যক্তিগত কিছু বিষয় নিয়েও কথা বলব। তবে আমি খুব স্পষ্ট ভাবে একটি বিষয় জানিয়ে দিতে চাই যে, আমার সেই ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ইস্টবেঙ্গলের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নয়। শেষ চার ম্যাচে দারুণ খেলে, বিগত বছরগুলির তুলনায় আইএসএলে ইস্টবেঙ্গলের সবচেয়ে সফল মরসুম উপহার দেওয়ার চেষ্টা করব। তাই আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই যে,  এই ক্লাবের যে কোনও একক ব্যক্তির চেয়ে দলের স্বার্থ সর্বদাই উপরে। অন্ততপক্ষে এই ক্লাবে আমার শেষ দিন পর্যন্ত তো বটেই। আমি জানাতে চাই যে, ইস্টবেঙ্গলে আমি প্রায় দু’বছর পূর্ণ করে ফেলেছি। এই সময়টা ছিল আমার কাছে এক স্বপ্নের মতো। আমার দৃষ্টিতে ভারতের ক্লাব ফুটবলের ইতিহাসে ইস্টবেঙ্গলই সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী, আইকনিক এবং সফল ক্লাব। আমি আমাদের সমর্থকদের বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও অভিবাদন জানাতে চাই। তাঁরা আমার প্রতি অবিশ্বাস্য রকমের ভালোবাসা ও সমর্থন দেখিয়েছেন। ভালো কিংবা খারাপ, যে কোনও মুহূর্তেই তাদের মনে সেই অটুট বিশ্বাস সর্বদা ছিল। সেই বিশ্বাসই আমাদের আরও বেশি মানসিক দৃঢ়তা, সহনশীলতা এবং কাজগুলি নিখুঁত ভাবে সম্পন্ন করার প্রবল ইচ্ছাশক্তি জুগিয়েছে। তাই আমার কাছে, ইস্টবেঙ্গলের সমর্থকরা সবসময়ে এশিয়ার সেরা ফ্যানবেস হয়েই থাকবে।

এই কথা বলার সঙ্গেই আমি এবার মূল সমস্যাটর প্রসঙ্গে ফিরত চাই। আপনারা সংবাদমাধ্যমে যেসব গুঞ্জন বা খবর শুনে চলেছেন, সেগুলির বিষয়ে আলোকপাত করতে চাই। গতবছর ১৪ ফেব্রুয়ারি আমি এই ক্লাবের সঙ্গে আমার চুক্তির মেয়াদ ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাড়িয়েছিলাম। সেই মুহূর্ত থেকেই আমরা আমাদের পরিকল্পনা সাজানোর কাজ শুরু করে দিয়েছিলাম। আমি কেবল দলের টেকনিক্যাল বা ফুটবল-সংক্রান্ত বিষয়গুলি দেখভাল করছিলাম। আর বিভাস আগরওয়াল (ইমামি শীর্ষ কর্তা) দেখছিলেন কেবল আর্থিক ও প্রশাসনিক দিকগুলি। ইমামি গ্রুপ এবং আমি, টেকনিক্যাল বা ফুটবল-সংক্রান্ত দিকটি নিয়ে কাজ করেছি। গত বেশ কিছু দিন ও রাত আমরা দলের শক্তি ও দুর্বলতাগুলি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেছি। এর মাধ্যমেই আমরা অনুধাবন করতে পেরেছি যে, ইস্টবেঙ্গলের সেই সোনালী অতীতে ফিরে আসার জন্য এই দলটির ঠিক কী কী প্রয়োজন। ১৪ই ফেব্রুয়ারি থেকেই আমরা অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করে আসছি। বিগত বছরগুলিতে ক্লাবের যে শোচনীয় অবস্থা ছিল, তা গভীরভাবে অনুধাবন করে আমরা নতুন করে বিশ্লেষণ, স্কাউটিং এবং ইস্ট বেঙ্গলের জন্য সম্ভাব্য সেরা খেলোয়াড়দের দলে নেওয়ার কাজ শুরু করেছিলাম। আর এই পুরো প্রক্রিয়ার পূর্ণ দায়ভার আমি নিজেই গ্রহণ করেছিলাম। কারণ অনেকেই এখন এর কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করছেন বটে। কিন্তু বাস্তব সত্যটি হল, ইমামি গ্রুপ (যাদের প্রতিনিধিত্ব করছেন বিভাস আগরওয়াল) এবং আমি, আমরা উভয়েই এই বছর ইস্টবেঙ্গলে যা কিছু ঘটেছে, তার জন্য সরাসরি দায়ী।

ইস্টবেঙ্গলে ক্লাবের ভবিষ্যত অন্ধকার

আমি একজন পেশাদার কোচ। পেশাদার হিসেবে, আমি বলতে চাইছি গত বছরের ফেব্রুয়ারিতেই আমি এই বছরের পরিকল্পনার কাজ শুরু করেছিলাম। এখন আমরা মে মাসে এসে পৌঁছেছি। অথচ কোনও সুনির্দিষ্ট রূপরেখা বা ভিশন নেই। কোনও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নেই। কোনো সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা বা প্ল্যানিং নেই। দলের মূল খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রেও কোনও ধারাবাহিকতা নেই। ইস্টবেঙ্গলের ভবিষ্যৎ নিয়ে বলতে গেলে সেখানে আসলে কিছুই নেই। তাই একজন হেড কোচ হিসেবে এবং এই বছর দলে যা কিছু ঘটেছে তার সম্পূর্ণ দায়ভার নিজের কাঁধে নিয়ে আমি ঘোষণা করছি যে, আগামী ৩১ মে এই মরশুম শেষ হওয়ার পর ইস্টবেঙ্গলে আমার দায়িত্ব শেষ হচ্ছে। যা একান্তই আমার নিজস্ব মতামত। আমাদের হাতে আর মাত্র তিন সপ্তাহ সময় বাকি আছে। আইএসএলে সম্ভাব্য সেরা অবস্থানে থেকে মরসুম শেষ করার লক্ষ্যে আমি আমার সর্বস্ব- আমার জীবন, আমার ঘাম এবং আমার রক্ত উজাড় করে দেব। কিন্তু দায়িত্ব ছাড়ার এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত। এর সঙ্গে আর্থিক কোনও বিষয়ের সম্পর্ক নেই। ক্লাব কর্তৃপক্ষ আমাকে দায়িত্বে রাখতে চায় কি চায় না—তার সঙ্গেও এর কোনও যোগসূত্র নেই। আইএসএলে আমরা শেষ পর্যন্ত কোন অবস্থানে থেকে মরসুম শেষ করছি, তার উপরও আমার সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে না। এমনকী ভারতীয় ফুটবলের বর্তমান অনিশ্চয়তার সঙ্গেও এর কোনও সম্পর্ক নেই। এটি একান্তই আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। যেহেতু কোনও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই, তাই এখানে কোচ হিসেবে আমার আর থাকার কোনও যৌক্তিকতা নেই। আমার কাজের ক্ষেত্রে আমার পূর্ণ আস্থা থাকাটা জরুরি।

ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে সম্পর্ক শেষ অস্কারের

তাই আমি আবারও বলছি, এটি কোনও সুযোগ-সুবিধা বা আর্থিক বিষয় নিয়ে নয়, বরং এটি সম্পূর্ণই পরিকল্পনার বিষয়। আমার মনে হয় না যে, ক্লাবের ভবিষ্যতের স্বার্থে কাজগুলি সঠিক ভাবে এগোচ্ছে, তাই আমিই প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করছি যে, আইএসএলের পরবর্তী চার ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আমি আমার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াব। এই সিদ্ধান্তটি আমার কোচিং স্টাফদের সঙ্গে যৌথ ভাবে নেওয়া হয়েছে। তাঁরা এখানেই উপস্থিত আছেন। সহকারি কোচ আদ্রিয়ান রুবিও এবং ট্রেনার হাভিয়ের স্যানচেজ। আমরা তিনজন মিলেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, মরসুম শেষ হলেই আমরা সরে দাঁড়াব এবং ইস্টবেঙ্গলকে তাদের নিজেদের পছন্দমতো ভাবে আগামী মরসুমের পরিকল্পনা সাজানোর সুযোগ করে দেব। আর এখন থেকে আমার ব্যক্তিগত পরিস্থিতি সংক্রান্ত যত প্রশ্ন আছে—যেমনটা আমি আগেই বলেছি—সেগুলির আর কোনও গুরুত্ব নেই। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল- আমাদের সামনের সেই চার ম্যাচ। আমি দুঃখিত, তবে আজ আমি এই বিষয় সংক্রান্ত কোনও প্রশ্নের উত্তর দেব না। তবে আপনারা যদি চান, তবে এই মরসুমের শেষ ম্যাচের দিন—পেশাগত বিষয় বা ক্লাবের বর্তমান পরিস্থিতি কিংবা ক্লাবের অভ্যন্তরে ঘটে যাওয়া যে কোনও ঘটনা সংক্রান্ত আপনাদের সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমি প্রস্তুত থাকব। কিন্তু… আপাতত, দয়া করে, আমি আপনাদের অনুরোধ করছি—মঙ্গলবার আমাদের যে গুরুত্বপূর্ণ খেলা রয়েছে, সে সম্পর্কেই প্রশ্ন করুন।’

এই মুহূর্তে আইএসএল পয়েন্ট টেবলে ইস্টবেঙ্গল ৫ নম্বরে। ৯ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট ঝুলিতে। এখন দেখার ইস্টবেঙ্গল এবার কোথায় গিয়ে থামে! ২৫ এপ্রিল ২০২৩ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪। কার্লেস কুয়াদ্রাত ছিলেন ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে। কঠিন সময়ে দলকে দিয়েছিলেন সুপার কাপ। তারপর দলের দায়িত্ব নেন অস্কার। যদিও এখনও পর্যন্ত তিনি ক্লাবকে কোনও ট্রফিই দিতে পারেননি। তবে গর্ব করার মতো একাধিক মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন বহু সমর্থকের প্রিয় কোচ।

(Feed Source: zeenews.com)