
তখন রাঢ়বঙ্গ পাল, সেন, বীররাজবংশ পেরিয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের রাজত্বের অধীন। তক্তে বসেছেন নবাব বাদিওজ্জামান সময়টা তখন ঠিক ১৭১৮-১৭৫২ সাল, তবে থেকে কেমন ভাবে শুরু মোরব্বা তৈরী!
বাইরে থেকে তলব করা হয় পাঠান হালুইকর। তাকে নির্দেশ দেওয়া হয় মোরব্বা তৈরি করার জন্য। সর্ব প্রথম চালকুমড়ো দিয়ে শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে পেঁপে, বেল নিয়ে চলে নানা ধরনের পরীক্ষানিরীক্ষা। যখন মিঠে ফলের মোরব্বা বানানোর কৃৎকৌশলে সাফল্য অর্জন হয় সেই সময় মরশুমি সবজির দিকে ঝুঁকে পড়েন নবাব। পাঠান কারিগরের কাছে আসতে থাকে আদেশ আম থেকে আমলকী, পাতিলেবু থেকে হরীতকী এমন ভাবেই সূচনা হয় মোরব্বা তৈরীর।ছবি ও তথ্য: সৌভিক রায়
বীরভূম জেলার সদর শহর সিউড়ি। আর এই সিউড়ি শহরের খুব কাছেই অবস্থিত রয়েছে রাজনগর। এখানে সেই সময়ের কথা বলা হচ্ছে যে সময় রাজনগরই ছিল বীরভূম ও সংলগ্ন অঞ্চলের অন্যতম ভরকেন্দ্র, এর পাশাপাশি রাজধানী। কোন সময়ের কথা? তখন রাঢ়বঙ্গ পাল, সেন, বীররাজবংশ পেরিয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের রাজত্বের অধীন। তক্তে বসেছেন নবাব বাদিওজ্জামান সময়টা তখন ঠিক ১৭১৮-১৭৫২ সাল
বিভিন্ন ধরনের মরশুমি সবজি কেটেকুটে ভালভাবে পরিষ্কার করে চিনির রসে ডুবিয়ে তৈরি করা হয় মোরব্বা। ফসলের পচন বন্ধ করার জন্য যে পথ অবলম্বন করা হয় সেই পথ জন্ম দেয় এক নতুন মিষ্টান্নের। রাজনগরের মোরব্বার নাম ছড়িয়ে পড়ে রাজ্য থেকে শুরু করে ভিন রাজ্যে। এরপর ইতিহাসের পটপরিবর্তনের শুরু। ব্রিটিশ আমলে সিউড়ি শহর তকমা পাই সদর শহরের। প্রাচীন রাজধানী রাজনগরের যা কিছু ভাল, ঐতিহ্য, সে সবকিছু সরে আসতে থাকে সিউড়ির দিকে। তবে থেকে আজও সিউড়ির মোরব্বা বিখ্যাত
আর সেই কারণে দেশবিদেশ থেকে নানা ধরনের মরশুমি গাছের চারা পাথুরে জমির বুকে লাগানো শুরু করেন। বিশেষ পদ্ধতিতে শুরু করেন চাষ। ফুল, ফল আর বিভিন্ন ধরনের সব্জিতে ভরে ওঠে রাজনগর। কৃষকদের দৌলতে ফলন এত বেড়ে যায় যে, বাইরে পাঠিয়েও শেষ হচ্ছে না সবজি। আর এর ফলে পচতে শুরু করে ফসল। আর এই পরিস্থিতিতে কী করা যায় ভেবে পাচ্ছিলেন না বাদিওজ্জামান। তখনই হাজার চিন্তার পর তিনি একটি পথ অবলম্বন করেন।
পাঠান বংশের বংশধর। মুর্শিদকুলি খাঁয়ের থেকে ‘রাজা’ উপাধি গ্রহণ করেছিলেন তিনি। রাজধানী রাজনগর লাল মাটির দেশ। তবুও সেই সময় নবাব বাদিওজ্জামান এই শুষ্কতার ছাপ তাঁর ব্যক্তিচরিত্রে পড়তে দেননি। তিনি মনেপ্রাণে ছিলেন রসিক, শৌখিন রুচির মানুষ। রুক্ষ শুষ্ক পাথর কাঁকড়ের রাজনগরকে শুধু ফুলে সাজাননি, ফলেও ভরাতে চেয়েছিলেন।
(Feed Source: news18.com)
