)
Oscar Bruzon Leaves East Bengal: ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে অস্কার ব্রুজোর পথচলা শেষ হয়ে গেল। আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দিলেন আইএসএলজয়ী কোচ…
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: প্রতীক্ষার অবসান। জল্পনাই সত্যি হল। ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে পথচলা শেষ হয়ে গেল অস্কার ব্রুজোঁর (Oscar Bruzon Leaves East Bengal)। ইনস্টাগ্রামে খোলা চিঠি দিয়ে বিদায় বেলায় আবেগে ভাসলেন চ্যাম্পিয়ন কোচ। ২২ বছর পর ক্লাবকে জাতীয় খেতাব ও প্রথম ঐতিহাসিক আইএসএল (ISL 2025-26) জেতানো হেডমাস্টার বললেন আলবিদা। সাম্প্রতিক অতীতে ক্লাব ম্যানেজমেন্ট নিয়ে নিজের অসন্তোষ থেকে শুরু করে প্রাক্তন ফুটবলারদের তোপ দাগা, সবই করেছেন অস্কার। তাঁর সঙ্গে ক্লাব চুক্তিও নবীকরণ করেনি। মনেই করা হচ্ছিল যে, অস্কার সম্ভবত চলে যাবেন। ১ জুন দায়িত্ব ছাড়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করে জল্পনাতেই সিলমোহর দিয়ে দিলেন স্প্যানিশ কোচ।
অস্কার কী লিখলেন ইনস্টাগ্রাম পোস্টে…
লাল-হলুদ অনুগামীদের একটি খোলা চিঠি, গভীর আবেগ নিয়ে আমি আপনাদের উদ্দেশ্যে এই কথাগুলি লিখছি। প্রিয় সমর্থকবৃন্দ, আপনারাই হলেন ইস্ট বেঙ্গল এফসি-র প্রাণশক্তি ও আত্মা। এই মরসুম আমার স্মৃতিতে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে। ইন্ডিয়ান সুপার লিগ জয় ছিল এক ঐতিহাসিক ঘটনা এবং সিনিয়র দলের সঙ্গে সক্রিয় ভাবে যুক্ত প্রতিটি সদস্যই নিজেদের যোগ্যতায় এই সাফল্য অর্জন করেছেন। তাঁরা প্রত্যেকেই অসাধারণ পেশাদার এবং সর্বোপরি, অসাধারণ মানুষ। আমরা দু’টি মর্যাদাপূর্ণ কাপের ফাইনালেও পৌঁছেছিলাম—ডুরান্ড কাপ এবং ইন্ডিয়ান সুপার কাপ, তবে দুর্ভাগ্যবশত, দু’টিতেই টাইব্রেকারে আমাদের হার মানতে হয়েছিল। সেই পরাজয়গুলি আমাদের গভীর ভাবে ব্যথিত করেছিল। কিন্তু সেই ধাক্কা সামলে উঠে আইএসএল জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছতে গিয়ে এই দল যে দৃঢ়তা ও মানসিক স্থৈর্যের পরিচয় দিয়েছে, তা নিয়ে আমাদের সকলেরই গর্ব করা উচিত। এই মরসুমের সমাপ্তিলগ্নে এসে, গত ৩১ মে দলের বহু খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। ফুটবল জগতে ঠিক জীবনের মতোই—স্বচ্ছতা, সুপরিকল্পনা এবং সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গির গুরুত্ব অপরিসীম। কোনো বিজয়ী ক্রীড়া প্রকল্পই প্রয়োজনীয় স্থিতিশীলতা এবং সঠিক সময়ে নেওয়া সুদৃঢ় পদক্ষেপ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদী সাফল্য অর্জন করতে পারে না। আর তাই। যেমনটা এক মাস আগে আমি, আদ্রিয়ান এবং জাভিয়ের সম্মিলিত ভাবে এক সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়ে ছিলাম যে, আমরা আর ইস্টবেঙ্গল এফসি-তে আমাদের দায়িত্ব শেষ করলাম। এই যাত্রাপথে যাঁরা আমাদের সঙ্গী হয়েছিলেন, দলের প্রতিটি খেলোয়াড়, স্টাফ সদস্য, ইমামি কর্তৃপক্ষ, ক্লাব আধিকারিকবৃন্দ এবং সকল সমর্থক, আমি তাঁদের প্রত্যেকের কাছেই গভীর কৃতজ্ঞ। আপনারা নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছিলেন। আমি আশা করি, বিনিময়ে আমরাও আপনাদের এমন কিছু উপহার দিতে পেরেছি, যা নিয়ে আপনারা গর্ববোধ করতে পারেন। ইস্টবেঙ্গলের জন্য আমার হৃদয়ে সর্বদাই একটি বিশেষ নির্দিষ্ট স্থানে থাকবে।’
২৫ এপ্রিল ২০২৩ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪। কার্লেস কুয়াদ্রাত ছিলেন ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে। কঠিন সময়ে দলকে দিয়েছিলেন সুপার কাপ। ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে কার্লেস কুয়াদ্রাতের মধুচন্দ্রিমা শেষ হয়ে যায় এক বছরের কিছু বেশি সময়ের পরেই। বেঙ্গালুরু প্রথমবার আইএসএল চ্যাম্পিয়ন করা কোচকে দায়িত্ব দিয়ে লাল-হলুদ ভেবেছিল যে, ভাগ্য়ের বসে যাওয়া চাকা এবার ঘুরে যাবে। কিন্তু না! লাল-হলুদ জনতার চোখের মণি হয়ে গিয়েছিলেন ৫৫ বছরের বার্সেলোনার বাসিন্দা। তবে বিদায়লগ্নে তিক্ততাই ছিল তাঁর সঙ্গী। আইএসএলে হারের হ্য়াটট্রিক করে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান শুনেই বিদায় নিতে হয়েছে ক্লেটন সিলভাদের ‘প্রফেসর’কে! এরপর বহু কোচের ইন্টারভিউয়ের পর অস্কারকে চূড়ান্ত করেছিল লাল-হলুদ। ক্লাবের ইতিহাসে লেখা থাকবে তাঁর নাম। ইস্টবেঙ্গলে আসার আগে অস্কার ছিলেন পদ্মাপারে। বাংলাদেশ প্রিমিয়র ফুটবল লিগে বসুন্ধরা কিংস টানা পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল অস্কারের কোচিংয়ে। ২০১৮ থেকে ২০৪ পর্যন্ত ছ’বছর তিনি কিংসের দায়িত্বে দুরন্ত সফল হয়েছিলেন। ১১ শিরোপা জিতিয়ে ছিলেন ক্লাবকে। বাংলাদেশের জাতীয় দলের অন্তর্বতীকালীন কোচ হিসেবেও পাওয়া গিয়েছে অস্কারকে।
(Feed Source: zeenews.com)
