
তাঁর মৃত্যুর কয়েক দশক পরেও তাঁর সিনেমার মাধ্যমে তিনি বিশেষ জায়গা করে রেখেছেন সকলের মনে৷ কিন্তু নিজের মৃত্যু নিয়ে এমন কথা এখনও তাঁর ভক্তদের গায়ে কাটা দেয়৷
বলিউডের জনপ্রিয় নায়ক৷ বহু হিট সিনেমা উপহার দিয়েছেন৷ তাঁর ফ্যান ফলোইং ছিল মারাত্মক৷ শান্ত-সৌম্য স্বভাবের এই নায়ককে পছন্দ করতেন সব বয়সের মহিলারাই৷
বড় পর্দায় এক বিরল স্থিরতা, পরিপক্কতা এবং আবেগঘন গভীরতা নিয়ে এসেছিলেন তিনি। অমিতাভ-রাজেশ খান্নাদের সমসাময়িক তিনি, কিন্তু এক অদ্ভূত গাম্ভীর্য ছিল তাঁর, যা পর্দায়ও নজরে আসত৷ বয়সের সঙ্গে এক সুন্দর মেলবন্ধন ছিল তাঁর৷ তিনি প্রায়শই নিজের চেয়ে অনেক বেশি বয়স্ক চরিত্রে অভিনয় করতেন এবং এতটাই দৃঢ়তার সঙ্গে তা করতেন যে দর্শকরা চরিত্রের আড়ালে থাকা অভিনেতাকে ভুলেই যেতেন।
তাঁর অভিনয় জীবন শুরু হয়েছিল মঞ্চে, যেখানে তিনি আইপিটিএ (ইন্ডিয়ান পিপলস থিয়েটার অ্যাসোসিয়েশন) এবং ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল থিয়েটারের সঙ্গে অভিনয় করতেন। ১৯৬০ সালে ‘হাম হিন্দুস্তানি’ ছবির মাধ্যমে তিনি চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করেন, কিন্তু ১৯৬৫ সালের ‘নিশান’ ছবিটিই তাঁকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। ১৯৭০ সালের ‘খিলোণা’ ছবির মাধ্যমে তাঁর জীবনে এক বড় পরিবর্তন আসে, যা তাঁকে তাঁর প্রজন্মের অন্যতম সেরা অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে৷
কিন্তু সেই অভিনেতাই বারবার বলতেন যে, পরিবারের ধারা মেনে তাঁরও মৃত্যু হবে ৫০-এর আগেই৷ আর সেই ভবিষ্যদ্বাণী মিলে গেছিল অক্ষরে অক্ষরে৷ কে বুঝতে পারছেন এই অভিনেতা?
তিনি সঞ্জীব কুমার, ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম শ্রদ্ধেয় অভিনেতাদের মধ্যে একজন। ১৯৩৮ সালের ৯ই জুলাই গুজরাটের সুরাতে হরিহর জেঠালাল জারিওয়ালা নামে জন্মগ্রহণ করেন৷ হিন্দি সিনেমার মেনস্ট্রিম হিরো হয়েও তিনি করেছেন বাস্তবধর্মী রোল৷
বছরের পর বছর ধরে সঞ্জীব কুমার এমন এক চলচ্চিত্র তালিকা গড়ে তুলেছেন যা সাহস ও বৈচিত্র্যের প্রতিফলন ঘটায়। গুলজারের সঙ্গে তাঁর কাজ হিন্দি সিনেমাকে কিছু স্মরণীয় অভিনয় উপহার দিয়েছে। ‘পরিচয়’, ‘কোশিশ’ এবং ‘আন্ধি’-র মতো ছবিগুলো দেখিয়েছে যে, তিনি কোনো চাকচিক্য বা নাটুকেপনার সাহায্য ছাড়াই চরিত্রের গভীরে বিলীন হয়ে যেতে পারতেন। ‘কোশিশ’ ছবিতে একজন বধির ও মূক মানুষের চরিত্রে তাঁর অভিনয় ভারতীয় সিনেমার সংযত অভিনয়ের অন্যতম শক্তিশালী উদাহরণ হয়ে রয়েছে।
সঞ্জীব কুমার বলেছিলেন, “আমার পরিবারের পুরুষদের মতোই আমিও ৫০ বছরের বেশি বাঁচব না, তাই আমার বয়স বাড়বে না। সুতরাং, পর্দাতেই বার্ধক্যের অভিজ্ঞতা লাভ করা ভাল।” সেই সময়ে যা একটি সাধারণ মন্তব্য বলে মনে হয়েছিল, পরে তা এক মর্মান্তিক ভবিষ্যদ্বাণীর মতো হয়ে দাঁড়ায়। অভিনেতা বংশগত হৃদরোগে ভুগছিলেন এবং জানা যায়, তাঁর পরিবারের বেশ কয়েকজন পুরুষ ৫০ বছর বয়স হওয়ার আগেই মারা গিয়েছিলেন। সঞ্জীব কুমার আমেরিকায় গিয়ে বাইপাস সার্জারিও করিয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি অব্যাহত ছিল। ১৯৮৫ সালের ৬ই নভেম্বর, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সঞ্জীব কুমার মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র ৪৭ বছর।
(Feed Source: news18.com)
