
IIT Kharagpur: সামান্য হিজলি ক্যাম্প থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রা আজ ভারতকে প্রযুক্তিবিশ্বের প্রথম সারিতে বসিয়েছে, যা প্রতিনিয়ত আপামর ভারতবাসীকে গর্বিত করে চলেছে।
খড়গপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, রঞ্জন চন্দ: পরাধীন ভারতবর্ষের বুকেই বোনা হয়েছিল একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক ভারতের স্বপ্নের বীজ। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির আদলে এদেশেই বিশ্বমানের প্রযুক্তি শিক্ষার প্রতিষ্ঠান গড়ার লক্ষ্যে ১৯৪৬ সালে গঠিত হয়েছিল সরকার কমিটি। দেশের চার প্রান্তে এমন উচ্চতর কারিগরি কেন্দ্র গড়ে তোলার সুপারিশ করেছিল সেই কমিটি। কিন্তু উপযুক্ত স্থানের অভাবে থমকে ছিল কাজ।
অবশেষে ভারতের স্বাধীনতা লাভের পর, আজ থেকে প্রায় পঁচাত্তর বছর আগে, অধুনা পশ্চিম মেদিনীপুরের রেলনগরী খড়গপুরের এক বুকচাপা ইতিহাসের আঙিনাকেই বেছে নেওয়া হয়েছিল এক নতুন ভোরের সূচনার জন্য। ১৯৫১ সালের আগস্ট মাসে হিজলি ডিটেনশন ক্যাম্পের সেই ঐতিহাসিক শহীদ ভবন থেকেই পথ চলা শুরু করে স্বাধীন ভারতের প্রাচীনতম প্রযুক্তিবিদ্যা প্রতিষ্ঠান—ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি, খড়গপুর।
যে ব্রিটিশ বন্দিশালায় একদিন স্বাধীনতা সংগ্রামীদের রক্ত ঝরেছে, সেখানেই শুরু হয় এক নতুন জ্ঞানযজ্ঞের। মাত্র হাতে গোনা কয়েকজন ছাত্র ও সামান্য কয়েকজন শিক্ষককে সঙ্গী করে, মাত্র তিনটি বিভাগ নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল এই প্রতিষ্ঠান। সেদিন যে চারাগাছটি রোপণ করা হয়েছিল, সময়ের নিয়মে আজ তা এক বিশাল মহীরুহে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে আইআইটি খড়গপুর আর পাঁচটা সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মত নয়, তা বিশ্বমঞ্চে ভারতের গর্বের প্রতীক। বর্তমানে এখানে রয়েছে ২১টি সম্পূর্ণ বিভাগ, একাধিক উন্নত প্রযুক্তির স্কুল, ম্যানেজমেন্ট স্কুল এবং সেন্টার ফর অ্যাকাডেমি অফ এক্সিলেন্স। হাজার হাজার কৃতি ছাত্র-ছাত্রী, গবেষক ও অধ্যাপকদের নিরলস পরিশ্রমে এই প্রতিষ্ঠান আজ বিশ্বজোড়া সুখ্যাতি অর্জন করেছে।
আইআইটি খড়গপুরের ইতিহাস শুধু শিক্ষার প্রসারের নয়, তা আসলে আত্মনির্ভরতার এক অনন্য আখ্যান। এই প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তনীরা আজ শুধু দেশেই নয়, গোটা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে বহু তরুণ তুর্কি আজ আর পাঁচটা সাধারণ চাকুরিজীবী নন, বরং বিশ্বমানের সংস্থার শীর্ষপদ আলো করে অন্য বহু মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছেন। সামান্য হিজলি ক্যাম্প থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রা আজ ভারতকে প্রযুক্তিবিশ্বের প্রথম সারিতে বসিয়েছে, যা প্রতিনিয়ত আপামর ভারতবাসীকে গর্বিত করে চলেছে।
(Feed Source: news18.com)
