)
Share Market Crash Sensex and Nifty Down: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিটি শেষ হয়েছে। যদিও তিনি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেবেন। কিন্তু তিনি এ-ও জানেন, আলোচনায় আর কিছু হবে না! আর ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরেই বাজারে ব্যাপক হারে শেয়ার বিক্রির ধুম পড়ে গিয়েছে। ফলে ভারতের প্রধান দুটি সূচকই (সেনসেক্স ও নিফটি) ২ শতাংশের বেশি ভেঙে পড়ে, শেয়ার বাজারে আসে আচমকা ধস।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: মধ্য প্রাচ্যের সংকট ও তেলের দাম বৃদ্ধির জেরে বিরাট ধস নামল শেয়ার বাজারে। ইন্ট্রাডে-তে ১৯০০ পয়েন্টের বেশি পড়ল সেনসেক্স, নিফটি ২৩৮০০-র ঘরে! ভাবা যায়! অবিশ্বাস্য! পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে তৈরি হওয়া ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কার কারণে বুধবার ভারতীয় শেয়ার বাজারে নামল এই বিশাল ধস! কেন এই নতুন উত্তেজনা? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক ভয়ংকর হুংকার। তিনি বলে দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আর কোনও সমঝোতাই নয়। ওরা অসভ্য অসুস্থ জঘন্য় একটা দেশ।
শেয়ার বাজারে ল্যান্ডস্লাইড
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিটি শেষ হয়েছে। যদিও তিনি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেবেন। কিন্তু তিনি এ-ও জানেন, আলোচনায় আর কিছু হবে না! আর ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরেই বাজারে ব্যাপক হারে শেয়ার বিক্রির ধুম পড়ে গিয়েছে। ফলে ভারতের প্রধান দুটি সূচকই (সেনসেক্স ও নিফটি) ২ শতাংশের বেশি ভেঙে পড়ে, শেয়ার বাজারে আসে আচমকা ধস।
২.৪৫ ও ২.৪৪ শতাংশ
এদিন বিএসই (BSE) সেনসেক্স একসময় ইন্ট্রাডে-তে ১৯২১ পয়েন্ট বা ২.৪৫ শতাংশ ধসে গিয়ে ৭৬,২৫৯.০৩ পয়েন্টের সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছয়। অন্য দিকে, এনএসই (NSE) নিফটি ৫০ সূচকও ৫৯৩ পয়েন্ট বা ২.৪৪ শতাংশ নেমে ২৩৮০৫.২০ পয়েন্টের সর্বনিম্ন স্তর স্পর্শ করে। বাজার বন্ধের সময় সেনসেক্স ১,৬৭৭.১২ পয়েন্ট (২.১৫%) কমে ৭৬,৫০৩.৬০ পয়েন্টে এবং নিফটি ৫১৬.৬৫ পয়েন্ট (২.১২%) কমে ২৩,৮৮২.০৫ পয়েন্টে থিতু হয়।
নিম্নমুখী ডলার
বাজারবিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার এই সংঘাতের আবহে বিশ্ববাজারে তৈরি হওয়া নেতিবাচক প্রভাব এবং অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম একধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে যাওয়ার ফলেই ভারতীয় বাজারে এই পতন। পাশাপাশি ডলারের তুলনায় ভারতীয় টাকার দর নেমে যাওয়াও বাজারের উপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। ডলারের বিপরীতে ভারতীয় টাকার মূল্য ২০ পয়সা কমে ৯৫.১৬ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
তেলের মূল্যবৃদ্ধি
মার্কিন-ইরান উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম চড়চড় করে বাড়ছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২.৫৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৭৬.০৫ ডলারে পৌঁছেছে এবং মার্কিন ডব্লিউটিআই (WTI) ক্রুডের দাম ২.৩৪ শতাংশ বেড়ে ৭২.০৯ ডলারে বাণিজ্য করছে।
ট্রাম্প কী বলেছেন?
ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত মন্তব্যই আগুনে ঘি ফেলেছে। আঙ্কারায় দু’দিনের ন্যাটো (NATO) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান– ইরানের সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিটি কার্যত শেষ। ওদের সঙ্গে আলোচনা করা মানে সময়ের অপচয়।
ধুয়ে মুছে গিয়েছে ৮ লক্ষ কোটি টাকা
এই ধসের ফলে একদিনেই শেয়ার বাজারের বিনিয়োগকারীদের প্রায় ৮ লক্ষ কোটি টাকার সম্পত্তি ধুয়ে মুছে গিয়েছে। বিএসই-র তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির মোট বাজার মূলধন (Market Capitalization) পূর্ববর্তী সেশনের ৪৭৯ লক্ষ কোটি টাকা থেকে কমে ৪৭১ লক্ষ কোটি টাকার নীচে নেমে গিয়েছে। সমস্ত সেক্টরাল ইনডেক্সই এদিন লোকসানে শেষ হয়েছে। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নিফটি পিএসইউ ব্যাঙ্ক এবং নিফটি প্রাইভেট ব্যাঙ্ক (উভয়ই ২.৫%-এর বেশি পড়েছে)। সেনসেক্সের ৩০টি শেয়ারের সবকটিই লোকসানে চলেছে, যার মধ্যে ইন্ডিগো, মারুতি, হিন্দুস্তান ইউনিলিভার (HUL), বাজাজ ফিন্যান্স এবং কোটাক মহিন্দ্রা ব্যাঙ্ক অন্যতম। বাজারের ভীতি সূচক বা ইন্ডিয়া ভিআইএক্স (India VIX) ২৬% বেড়ে ১৪.৬৮-এ পৌঁছেছে।
ভারতীয় তেল সংস্থার উপর মিশ্র প্রভাব
অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার ফলে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলির (OMCs) উপর মার্জিনের চাপ বাড়বে, কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও তারা দেশীয় বাজারে সহজে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়াতে পারে না। এই আশঙ্কায় বিপিসিএল (BPCL), এইচপিসিএল (HPCL) এবং আইওসিএল (IOCL)-এর মতো শেয়ারগুলি প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে গেছে। তবে তেলের দাম বাড়লে লাভবান হয় ওএনজিসি (ONGC)-র মতো তেল উৎপাদনকারী সংস্থা, যার ফলে বাজারে পতনের মধ্যেও ওএনজিসি-র শেয়ার প্রায় ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ভারতীয় অর্থনীতি ও মুদ্রাস্ফীতি
ভারত তার প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৮৫% বিদেশ থেকে আমদানি করে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৭৫ ডলার পার করলে ভারতে আমদানি খরচ একধাক্কায় অনেক বেড়ে যায়। ফলে দেশের কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ডেফিসিট (CAD) বা চলতি হিসাবের ঘাটতি বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়। একই সঙ্গে পরিবহণ খরচ বাড়লে তা দেশের খুচরো মুদ্রাস্ফীতিকে (Inflation) উসকে দিতে পারে, যা ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের (RBI) সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্তকে আরও পিছিয়ে দিতে পারে।
বিনিয়োগকারীদের পরামর্শ
বাজার বিশেষজ্ঞদের মত, ভূ-রাজনৈতিক (Geopolitical) উত্তেজনার কারণে তৈরি এই ধরনের ধস সাধারণত সাময়িক বা ‘শর্ট-টার্ম’ই হয়। অতীতেও রাশিয়া-ইউক্রেন বা ইসরায়েল-হামাস সংঘাতের সময় বাজারে বড় পতন দেখা গিয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতি কিছুটা থিতু হতেই বাজার আবার নতুন উচ্চতায় পৌঁছয়। তাই খুচরো বিনিয়োগকারীদের এই আতঙ্কের আবহে (Panic Selling) লোকসানে ভালো শেয়ার বিক্রি না করাই উচিত। বাজারের এই সংকট-পরিস্থিতিকে ভালো মানের ফান্ডামেন্টাল শেয়ার বা মিউচুয়াল ফান্ডে (SIP বা ল্যাম্পসামের মাধ্যমে) ধাপে ধাপে বিনিয়োগের সুযোগ হিসেবেই দেখা উচিত।
(Feed Source: zeenews.com)
