ইরানে চবাহার বন্দর গুঁড়িয়ে দিল আমেরিকা, বিপুল পরিমাণ টাকা ঢেলেছিল ভারত

ইরানে চবাহার বন্দর গুঁড়িয়ে দিল আমেরিকা, বিপুল পরিমাণ টাকা ঢেলেছিল ভারত

 

নয়াদিল্লি: নতুন করে ইরানে মুহুর্মুহু হামলা চালিয়েছে ইরান। আর এবার চবাহার বন্দর গুঁড়িয়ে দিল তারা। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিকে অর্থহীন বলে বুধবারই মন্তব্য করেছিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর তার পরই বৃহস্পতিবার ইরানের উপর মুহুর্মুহু বোমা বর্ষণ করে আমেরিকা, যাতে চবাহার বন্দরটি গুঁড়িয়ে গিয়েছে। ওই চবাহার বন্দরে বিপুল পরিমাণ টাকা ঢেলেছিল ভারত। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর যদিও দূরত্ব বাড়ায় দিল্লি। (US Strike Chabahar Port)

ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, চবাহারের উপর মুহুর্মুহু হামলা চালানো হয়েছে। বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে শহরের একটা বড় অংশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পর পর বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে চারিদিকে। জরুরি বিভাগ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর এই প্রথম চবাহারে হামলা চালাল আমেরিকা। (US Attacks Iran)

আমেরিকার সেনা আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ইরানের উপকূল প্রতিরক্ষা এবং সামরিক পরিকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আমেরিকার দাবি, ইরানের ওই পরিকাঠামো হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। CENTCOM জানিয়েছে, ইরানের মোট ৯০টি জায়গায় হামলা চালিয়েছে তারা। তবে নাগরিক পরিকাঠাননো অক্ষত রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

নতুন করে হামলা নিয়ে ট্রাম্প বলেন, “জোর আঘাত হেনেছি। আমাদের উপর একবার আঘাত করলে, পাল্টা ২০ বার আঘাত করব।” ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ আরও তীব্রতর হবে কি না জানতে চাইলে বলেন, “এখনই বলতে পারছি না। তবে দ্রুত জয় চলে আসবে।” সামরিক ভাবে আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে জয়ী হয়েছে, ইরানের হাতে যৎসামান্য রসদ বেঁচে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। 

এই হামলার জবাবে পাল্টা কুয়েত এবং বাহরাইনে আমেরিকার ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান। তবে আমেরিকা যেভাবে চবাহার গুঁড়িয়ে দিল, তা ভূরাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ ওই চবাহার বন্দের বিপুল পরিমাণ টাকা ঢেলেছিল ভারত। পাকিস্তানকে টপকে চবাহারের মাধ্যমেই সরাসরি আফগানিস্তান এবং পশ্চিম এশিয়ায় পৌঁছনোর রাস্তা বের হয়েছিল। কৌশলগত দিক থেকে ভারতের জন্য চবাহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। 

তবে বিপুল পরিমাণ টাকা ঢালা হলেও, চবাহার নিয়ে সম্প্রতি পিছু হটতে শুরু করে ভারত, বিশেষ করে আমেরিকা নিষেধাজ্ঞা চাপানোর পর। এই মুহূর্তে প্রত্যক্ষ ভাবে চবাহার পরিচালনা করে না ভারত। ইরানের একটি স্থানীয় সংস্থার হাতেই নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফের চবাহারের নিয়ন্ত্রণ ভারতের হাতে উঠত বলে আশাবাদী ছিলেন অনেকেই। 

চবাহারের ‘শহীদ বেহেস্তি’ টার্মিনালটির অধুনিকীকরণে ১২০ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছিল ভারত, ভারতীয় মুদ্রায় যা ১১৪৪.৬৮ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের অগাস্ট মাসের মধ্যে ওই বিপুল টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছিল। পাশাপাশি, চবাহার সংলগ্ন অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়ন, রেলপথ, রাস্তা নির্মাণের জন্য আরও ২৫০ মিলিয়ন ডলারের ক্রেডিট লাইন বা বিশেষ ঋণ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ভারত, অর্থাৎ ২৩৮৪ কোটি টাকা।