
Fishes with Formalin: মাছকে দীর্ঘ দিন টাটকা রাখতে যথেচ্ছ পরিমাণে মেশানো হচ্ছে ফর্মালিন। সাধারণ রুই-কাতলা থেকে চালানি চিংড়ি সবেতেই মিশছে এই রাসায়নিক। আর এর হাত ধরেই শরীরে প্রবেশ করছে বিষ। কীভাবে মাছ থেকে ফর্মালিন দূর করবেন?
মাছ অনেক দিনের বাসি। অথচ আপনার মনে হচ্ছে তাজা। মাছ কাটলে রক্তও পড়ছে। আর আপনিও বেকুব হয়ে আগেকার ধরা মাছ টাটকা ভেবে বাড়ি কিনে আনলেন। এই গোটা কারসাজিটাই ফর্মালিন নামে এক কেমিক্যালের। অসাধু ব্যবসায়ীরা বেশ কয়েকদিনের পুরনো মাছকে টাটকা বলে চালাতে মাছে মেশাচ্ছে এই ক্ষতিকর কেমিক্যাল।
ন্যশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ জানাচ্ছে, ফরম্যালিন মেশানো মাছ খেলে পেটে ব্যথা, বমি, বমি বমি ভাব ও ডায়েরিয়া হতে পারে। Food Safety and Standards Authority of India (FSSAI) কড়াভাবে যে-কোনও খাবারে ফর্মালডিহাইডের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যানসার (IARC) ফর্মালডিহাইডকে ‘গ্রুপ ১’ কার্সিনোজেন বা ক্যানসার সৃষ্টিকারী পদার্থ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। সংস্থাটির মতে, ফর্মালডিহাইডের সংস্পর্শে এলে নাসোফ্যারিঞ্জিয়াল ক্যানসার (নাক ও গলার সংযোগস্থলের ক্যানসার) এবং লিউকেমিয়া (রক্তের ক্যানসার) হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
শরীরে ফর্মালিন ঢুকলে লিভারের কোষের ক্ষতি হয়, এর থেকে হেপাটিক নেকরোসিস হতে পারে। ক্ষুদ্রান্ত ও বৃহদান্ত্রের ক্ষতি করে। দিনের পর দিন শরীরে ফর্মালিন প্রবেশ করলে প্যানক্রিয়াস, কিডনির ক্ষতি করে। কীভাবে বুঝবেন, আপনি যে মাছটা বাজার থেকে কিনলেন, সেটায় ফর্মালিন মেশানো আছে কি না?
পাখনা ও লেজ– যদি দেখেন পাখনা ও লেজ কোঁচকানো, কুঁকড়ে গিয়েছে তবে বুঝতে হবে মাছ বাসি।
চোখ–যদি মাছ ভাল থাকে তবে চোখ পরিষ্কার থাকবে। অন্যথায় তা ঘোলাটে হয়ে উঠবে।
কানকোর রং– যদি মাছের কানকোর রং লালচে মেরুন হয় তবে মাছ টাটকা। আর যদি তা কালচে মেরুন নয়, তবে বুঝতে হবে মাছ বাসি, ভিতরে ভিতরে পচন ধরেছে।
ফর্মালিন মূলত একটি তীব্র রাসায়নিক পদার্থ। যদি মাছের শরীর থেকে মাছের নিজস্ব গন্ধের পরিবর্তে ঝাঁঝালো বা ওষুধজাতীয় কোনও গন্ধ পাওয়া যায়, তবে তা এড়িয়ে চলুন। যদি মাছ ফরমালিন দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়, তবে তা থেকে অত্যন্ত তীব্র ও ঝাঁঝাল গন্ধ বার হয়।
রং ও উজ্জ্বলতা: ফর্মালিন দেওয়া মাছ দেখতে খুব চকচকে ও উজ্জ্বল মনে হবে। এমনকি অনেক সময় মাছের গায়ের স্বাভাবিক রঙের চেয়েও তা বেশি উজ্জ্বল দেখায়।
নমনীয়তা : মাছের গায়ে আঙুল দিয়ে চাপ দিলে যদি তা রাবারের মতো শক্ত লাগে এবং চাপ দেওয়ার পর চামড়া আগের অবস্থায় ফিরে না আসে, তবে মাছে ফর্মালিন থাকার সম্ভাবনা বেশি। তাজা মাছ নরম হলেও আঙ্গুলের ছাপ স্থায়ী হয় না
মাছি বসা– তাজা মাছে মাছি বসা স্বাভাবিক। কিন্তু যদি দেখেন মাছের আশেপাশে বা গায়ে কোনও মাছি বসছে না, তবে বুঝতে হবে সেটিতে রাসায়নিক দেওয়া।
মাছ থেকে ফর্মালিন দূর করবেন কীভাবে– সবচেয়ে ভাল ও কার্যকর পদ্ধতি হল ভিনিগার ও জলের মিশ্রণ। ১ কাপ ভিনিগারের সঙ্গে ৯ কাপ জল মিশিয়ে তাতে মাছ অন্তত ১৫ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন। এরপর সাধারণ পরিষ্কার জল দিয়ে মাছ ভালভাবে ধুয়ে নিন। মাছ কিনে এনে কাঁচা অবস্থায় ১ ঘণ্টা নুন জলেও ভিজিয়ে রাখতে পারেন। গবেষকদের মতে, লবণাক্ত পানিতে মাছ ভিজিয়ে রাখলে শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ ফরমালিন দূর হয়। প্রথমে চাল ধোয়া জল এবং পরে সাধারণ জল দিয়ে মাছ ধুয়ে নিলেও প্রায় ৭০ শতাংশ ফরমালিন দূর হয়। (Disclaimer: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লেখা হয়েছে। উল্লিখিত দাবিগুলির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করেনি নিউজ ১৮ বাংলা। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।)
(Feed Source: news18.com)
