উচ্চ রক্তচাপ নিয়ে চিন্তিত…? ৪ মোক্ষম মন্ত্র! রোজকার খাবারে এই সামান্য বদলেই থাকতে পারেন সুস্থ ও সম্পূর্ণ ফিট, তুড়িতে জব্দ ‘বিপি’

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ে চিন্তিত…? ৪ মোক্ষম মন্ত্র! রোজকার খাবারে এই সামান্য বদলেই থাকতে পারেন সুস্থ ও সম্পূর্ণ ফিট, তুড়িতে জব্দ ‘বিপি’

High Blood Pressure Control Tips:বিপি থাকবে হাতের মুঠোয়! শরীর থাকবে ফিট? এর জন্য কিন্তু সঠিক খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা বা অন্তত আধ ঘণ্টা হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। মানসিক চাপ বা স্ট্রেস উচ্চ রক্তচাপের অন্যতম বড় কারণ। তাই নিজেকে চিন্তামুক্ত রাখার চেষ্টা করুন, পর্যাপ্ত ঘুমোন এবং মন ভাল রাখুন। জানুন ডাক্তার কী বলেন।

আধুনিক ব্যস্ত জীবনে ‘সাইলেন্ট কিলার’ বা নীরব ঘাতক হয়ে দাঁড়িয়েছে উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেশার। ঘরে ঘরে এখন এই রোগের বিস্তার। অনেকেই মনে করেন, শুধু নিয়ম করে ওষুধ খেলেই বোধহয় এই সমস্যা থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাওয়া সম্ভব। কিন্তু চিকিৎসকেরা বারবার সতর্ক করে বলছেন, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওষুধের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সঠিক খাদ্যাভ্যাস। রোজকার ডায়েটে সামান্য কিছু রদবদল করলেই এই রোগকে অনায়াসেই দূরে রাখা যায়। (তথ্য ও ছবি : রঞ্জন চন্দ)

ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রথম এবং প্রধান শর্ত হল নুন বা সোডিয়াম খাওয়া কমান। কাঁচা নুন খাওয়ার অভ্যাস তো ছাড়তেই হবে, পাশাপাশি রান্নায় নুনের পরিমাণও একেবারে কমিয়ে আনতে হবে। চিকিৎসকদের মতে, দিনে এক চা চামচের বেশি নুন খাওয়া মোটেই স্বাস্থ্যকর নয়। এছাড়াও প্রক্রিয়াজাত খাবার, প্যাকেটজাত স্ন্যাকস, আচার, পাঁপড় এবং সয়া সস জাতীয় খাবারে প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম লুকিয়ে থাকে। তাই বাজারচলতি এই ধরনের মুখরোচক খাবারগুলি এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ে চিন্তিত…? ৪ মোক্ষম মন্ত্র! রোজকার খাবারে এই সামান্য বদলেই থাকতে পারেন সুস্থ ও সম্পূর্ণ ফিট, তুড়িতে জব্দ ‘বিপি’

পুষ্টিবিদ অভিজিৎ সেন বলেন, নুন কমানোর পাশাপাশি ডায়েটে এমন খাবার রাখতে হবে, যাতে পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি থাকে। পটাশিয়াম আমাদের শরীরের অতিরিক্ত সোডিয়ামকে প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দিতে সাহায্য করে এবং রক্তনালীগুলিকে শিথিল রাখে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কলা, ডাবের জল, পালং শাক, টমেটো, মিষ্টি আলু এবং বিনস রাখা যেতে পারে। এই খাবারগুলি শরীরে পটাশিয়ামের ঘাটতি মেটায় এবং স্বাভাবিকভাবেই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে দারুণ কাজ করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই ধরনের খাবারকে ড্যাশ (DASH) ডায়েট বলা হয়ে থাকে।

রোজকার খাবারে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার বা আঁশযুক্ত খাবার রাখাও অত্যন্ত জরুরি। সাদা চাল বা ময়দার বদলে ব্রাউন রাইস, ওটস, ডালিয়া বা আটার রুটি খাওয়া অভ্যেস করতে পারেন। এর সঙ্গে চাই প্রচুর মরসুমি ফল এবং সবুজ শাকসবজি। আপেল, পেয়ারা, বেদানা বা লেবু জাতীয় ফল ব্লাড প্রেশার কমাতে বেশ উপকারী। এই ফাইবারযুক্ত খাবারগুলি শুধু রক্তচাপ নয়, কোলেস্টেরল কমাতেও সাহায্য করে, যা পরোক্ষভাবে হার্টকে সুস্থ ও সতেজ রাখে।

উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের ফ্যাট বা চর্বিজাতীয় খাবারের বিষয়েও বেশ সচেতন হতে হবে। রেড মিট বা খাসির মাংস, মাখন, চিজ এবং অতিরিক্ত তেল-মশলা যুক্ত খাবার খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়াই ভাল। এর বদলে ছোট মাছ, চামড়া ছাড়া চিকেন এবং উদ্ভিজ্জ প্রোটিন যেমন ডাল বা সোয়াবিন খাওয়া যেতে পারে। রান্নায় অতিরিক্ত তেলের বদলে সরষের তেল বা অলিভ অয়েল পরিমিত পরিমাণে ব্যবহার করা উচিত। পাশাপাশি, চা-কফির মতো ক্যাফেইন যুক্ত পানীয় বা অ্যালকোহল যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে।

(Feed Source: abplive.com)