জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: শুল্ককে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার কানাডা থেকে আমদানি করা বিভিন্ন পণ্যের উপর অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ শুল্ক (ট্যাক্স) আরোপের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কেন? এ বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, কানাডা মার্কিনি গাড়ি, দুগ্ধজাত পণ্য ও অ্যালকোহলজাত পানীয়ের ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে।
১৯৩০ সালের মার্কিন শুল্ক আইনের ৩৩৮ ধারা অনুযায়ী কানাডার ওয়াইন, সিমেন্ট-সহ বিভিন্ন আমদানীকৃত পণ্যের উপর এই ৫০% ট্যাক্স প্রযোজ্য হবে। এটি মার্কিন-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তির অধীনে উৎপাদিত হোক বা না হো– সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তবে মার্কিন জ্বালানি, পটাশ, মাছ ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থের মতো কিছু নির্দিষ্ট পণ্যের উপর এই শুল্ক প্রযোজ্য হবে না।
হোয়াইট হাউস বলছে, কানাডা মার্কিন পণ্যের উপর বিভিন্ন শুল্ক ও কোটা আরোপ করে মার্কিন বাণিজ্যের ক্ষতি করছে। এতে কানাডায় মার্কিন গাড়ি রফতানি ২২% এবং অ্যালকোহল রফতানি প্রায় ৮১% হ্রাস পেয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বাণিজ্যবৈষম্য দূর করে আমেরিকান ব্যবসাকে আরো শক্তিশালী করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের মার্কিন শুল্কনীতির বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত বিশ্ব জুড়ে দুইটি দেশই মূলত পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে– চিন ও কানাডা।
সাম্প্রতিক সময়ে দাবানলের ধোঁয়া দুই দেশের সীমান্তে ছড়িয়ে পড়া নিয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আলোচনা হয়। ওটাওয়াকে এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বা অর্থনৈতিক শাস্তির মুখোমুখি হওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়ার পরই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কানাডার উপর এই নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণার কথা সামনে এল।
হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে নতুন শুল্ক কার্যকর হবে। যেসব পণ্য নতুন শুল্কের আওতায় আনা হয়েছে, সেগুলি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মধ্যে বিদ্যমান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ইউএসএমসিএ’র আওতায় থাকুক বা না থাকুক, নতুন শুল্কের তালিকায় থাকা সকল পণ্যের উপরই এই শুল্ক কার্যকর হবে। এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে কার্নি বলেন, কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো চুক্তি লঙ্ঘন করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একের পর এক শুল্ক আরোপের যে একতরফা বাণিজ্য পদক্ষেপ শুরু করেছিল, শুল্ক আরোপের নতুন এই সিদ্ধান্ত তারই ধারাবাহিকতা।
(Feed Source: zeenews.com)