
Siliguri News: ইচ্ছে থাকলেই উপায় হয়! সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করে স্বপ্নের রঙে সাফল্যের ছবি আঁকছেন শিলিগুড়ির প্রিয়া বিশ্বাস।
শিলিগুড়ি, ঋত্বিক ভট্টাচার্য: শৈশব থেকেই আঁকার প্রতি ছিল অদম্য ভালবাসা। সেই ভালবাসাকেই পুঁজি করে আজ নিজের পরিচয় তৈরি করেছেন শিলিগুড়ির প্রিয়া বিশ্বাস। কোনও আর্ট স্কুলে প্রশিক্ষণ নয়, শুধুমাত্র ইউটিউব, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম দেখে নিজেই শিখেছেন অ্যাক্রিলিক পেইন্টিং। বর্তমানে সূর্য সেন কলেজের প্রথম বর্ষে কমার্স নিয়ে পড়াশোনা করছেন তিনি। নিজের উপার্জনের টাকাতেই কলেজের সমস্ত খরচ বহন করছেন প্রিয়া।
প্রায় চার বছর ধরে নিয়মিত আঁকছেন তিনি। ক্লাস নাইন থেকে শুরু হয় তাঁর এই যাত্রা। শিলিগুড়ির শ্রীগুরু বিদ্যামন্দির স্কুলের ছাত্রী থাকাকালীনই সোশ্যাল মিডিয়াকে শিক্ষক বানিয়ে নিজের দক্ষতা বাড়াতে শুরু করেন। গত এক বছর ধরে নিজের আঁকা ছবির ভিডিও ইউটিউব, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করছেন। সেখান থেকেই বাড়তে থাকে পরিচিতি। বর্তমানে বহু মানুষ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে ছবি অর্ডার দেন এবং তাঁর আঁকা ছবি কিনে নিয়ে যান।
প্রিয়া বিশ্বাস বলেন, “ছোটবেলা থেকেই আঁকতে খুব ভাল লাগত। কিন্তু কোথাও আঁকা শেখার সুযোগ বা সামর্থ্য ছিল না। তাই ইউটিউব, ফেসবুক আর ইনস্টাগ্রাম দেখে নিজেই শেখা শুরু করি। প্রথমে অনেক ভুল হয়েছে, কিন্তু কখনও হাল ছাড়িনি। আজ মানুষ আমার ছবি পছন্দ করছে, সেটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
তিনি আরও বলেন, “একটি অ্যাক্রিলিক পেইন্টিং তৈরি করতে তিন থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। সেই ছবি ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারি। এই উপার্জনের টাকাতেই নিজের কলেজের ফি, পড়াশোনার খরচ এবং অন্যান্য প্রয়োজন মেটাই। ভবিষ্যতে ব্যাঙ্কিং সেক্টরে কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে। পাশাপাশি আঁকাকেও কখনও ছাড়তে চাই না।”
শিব, গণেশ-সহ নানা ধরনের অ্যাক্রিলিক পেইন্টিংয়ের জন্য ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছেন প্রিয়া। তাঁর ফলোয়ারের সংখ্যাও ক্রমশ বাড়ছে। শুধু নিজের সাফল্যেই থেমে থাকেননি, বর্তমানে বাড়িতে ছোট ছোট পড়ুয়াদের আঁকা শেখান। যে মেয়ে কোনওদিন আনুষ্ঠানিকভাবে আঁকা শেখেননি, তিনিই আজ বহু শিশুর অনুপ্রেরণা। প্রিয়ার এই পথচলা প্রমাণ করে— ইচ্ছে, অধ্যবসায় এবং সঠিক ব্যবহার করলে সোশ্যাল মিডিয়াও হতে পারে সাফল্যের অন্যতম সিঁড়ি
