Sachin Tendulkar : ‘…প্রতারণা নয়’, ছাত্র আন্দোলন নিয়ে এবার মুখ খুললেন সচিন তেন্ডুলকর, শিক্ষার্থীদের পাশে মাস্টার ব্লাস্টার

Sachin Tendulkar : ‘…প্রতারণা নয়’, ছাত্র আন্দোলন নিয়ে এবার মুখ খুললেন সচিন তেন্ডুলকর, শিক্ষার্থীদের পাশে মাস্টার ব্লাস্টার

 

সোমবার (২০ জুলাই) সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র ডাকে হাজার হাজার ছাত্র-যুবক দিল্লির কেন্দ্রস্থলে ‘চলো পার্লামেন্ট’ মিছিলে অংশ নেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ রাজধানীর একাধিক রাস্তায় ব্যারিকেড বসায়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তাঁদের অনেককেই জন্তর মন্তরে মূল জমায়েতে পৌঁছাতে বাধা দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিক্ষোভকারীদের দাবি, জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে।

ছাত্র আন্দোলনের বিষয়ে দীর্ঘদিন নীরব থাকার জন্য ভারতীয় ক্রিকেট মহলও সমালোচনার মুখে পড়েছিল। প্রাক্তন অলরাউন্ডার যুবরাজ সিং ছিলেন হাতে গোনা কয়েকজন ক্রিকেটারের একজন, যিনি প্রকাশ্যে ছাত্রদের সমর্থন করেছিলেন। এবার সেই তালিকায় যোগ দিলেন সচিন তেন্ডুলকরও। সামাজিক মাধ্যমে একটি বিস্তারিত বার্তা প্রকাশ করে তিনি নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন।

প্রয়াত বাবার প্রসঙ্গ টেনে আনেন সচিন তেন্ডুলকর-ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গে সচিন তাঁর প্রয়াত বাবার শেখানো মূল্যবোধের কথা স্মরণ করেন। তিনি জানান, তাঁর বাবা ছিলেন একজন অধ্যাপক, যিনি বহু ছাত্রছাত্রীর শিক্ষক, পরামর্শদাতা ও পথপ্রদর্শক ছিলেন।

সচিন লিখেছেন, “আমার বাবা ছিলেন একজন অধ্যাপক। তিনি বহু তরুণ ছাত্রছাত্রীর শিক্ষক, পরামর্শদাতা এবং পথপ্রদর্শক ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি আমাকে একটি শিক্ষা দিয়েছিলেন—‘ব্যর্থ হওয়া চলবে, কিন্তু প্রতারণা কখনও নয়। শর্টকাটের পথ বেছে নিও না।’ সমাজের প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো এমন একটি সংস্কৃতি গড়ে তোলা, যেখানে পরিশ্রম ও যোগ্যতাকে মূল্য দেওয়া হয়। যে সমাজ কেবল ফলাফলের উপর জোর দেয়, সেই সমাজ একসময় যোগ্যতার বদলে শর্টকাটের পথই বেছে নেয়।”

সচিন তেন্ডুলকর আরও বলেন, যেসব ছাত্রছাত্রী মনে করছেন তাঁদের কঠোর পরিশ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি, তাঁদের হতাশার অনুভূতিও তিনি উপলব্ধি করেন।

তিনি দেশের তরুণ প্রজন্মের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাদের অনুপ্রাণিত ও আশাবাদী রাখার দায়িত্ব সমাজের সবার। তাঁর মতে, অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজ—সকলেরই যৌথ দায়িত্ব তরুণদের মধ্যে আশা, আত্মবিশ্বাস এবং পরিশ্রমের মূল্যবোধ জাগিয়ে রাখা।

সচিন তেন্ডুলকর আরও লিখেছেন, “আজ যখন অনেক ছাত্রছাত্রী মনে করছে, তাদের কঠোর পরিশ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি, তখন তাদের হতাশা স্বাভাবিক। আমাদের সকলের উচিত একসঙ্গে কাজ করা, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনও ছাত্রছাত্রীকে এমন অনুভূতির মধ্যে দিয়ে যেতে না হয়। নতুন প্রজন্মের ভারত স্বপ্ন, উদ্যম এবং সম্ভাবনায় ভরপুর। তারাই দেশের ভবিষ্যৎ সাফল্যের চালিকাশক্তি। তাই সমাজ হিসেবে আমাদের সবার—অভিভাবক, শিক্ষক, বন্ধু, আত্মীয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং প্রশাসনের—একটি বড় দায়িত্ব রয়েছে। প্রত্যেকেরই নিজ নিজ ভূমিকা পালন করে তরুণদের সবসময় উৎসাহিত, আত্মবিশ্বাসী এবং উদ্দীপ্ত রাখতে হবে।”

নিজের বার্তার শেষে সচিন তেন্ডুলকর এমন একটি সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান জানান, যেখানে কঠোর পরিশ্রমের মূল্য দেওয়া হবে, সততাকে সম্মান করা হবে এবং সর্বোপরি যোগ্যতাকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সদিচ্ছা থাকলে অবশ্যই অর্থবহ সমাধান খুঁজে পাওয়া সম্ভব। তাঁর মতে, আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত দেশের শিশু ও তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন, আশা এবং ভবিষ্যৎ আকাঙ্ক্ষাকে সুরক্ষিত রাখা।

সচিন তেন্ডুলকর তাঁর বার্তার শেষ অংশে লিখেছেন,

“আমাদের এমন একটি সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে, যেখানে কঠোর পরিশ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন হবে, সততাকে উৎসাহ দেওয়া হবে এবং যোগ্যতারই জয় হবে। আমি নিশ্চিত, আমরা সকলে মিলে এমন সমাধান খুঁজে বের করতে পারব, যা আমাদের শিশুদের ভবিষ্যৎকে আরও শক্তিশালী করবে এবং তাদের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষাকে সুরক্ষিত রাখবে। জয় হিন্দ!”

(Feed Source: news18.com)