জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেইনি হিজবুল্লাহকে শক্তিশালী সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে “জিহাদ ও প্রতিরোধ ছাড়া এখন আর কোনও পথ নেই।” তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তেহরান হিজবুল্লাহর সুরক্ষাকে নিজেদের প্রধান কৌশলগত দায়িত্ব বলে মনে করে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনও ধরনের যুদ্ধবিরতি বা শান্তি চুক্তির প্রথম শর্তই হল লেবাননে ইসরায়েলি হামলার সম্পূর্ণ ও শর্তহীন অবসান।
সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ হিজবুল্লাহ প্রধান শেখ নাঈম কাশেম এবং সংগঠনের যোদ্ধাদের পাঠানো আনুগত্যের চিঠির জবাব দিতে গিয়ে এই কথা বলেন খামেনি। তিনি হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের সাহসিকতা, ধৈর্য ও ত্যাগের প্রশংসা করে বলেন, ইসরায়েলি আগ্রাসনের সামনে হিজবুল্লাহ একটি “অটল প্রাচীর”-এর মতো দাঁড়িয়ে আছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই লড়াই শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধকামীদের জন্য ঐশ্বরিক জয় নিয়ে আসবে।
প্রয়াত হিজবুল্লাহ প্রধান সাইয়েদ হাসান নাসরুল্লাহ-সহ অন্য শহীদ নেতাদের স্মরণ করে খামেইনি বলেন, এই বীর যোদ্ধাদের ত্যাগের কারণেই একসময়ের ছোট্ট চারাগাছটি আজ বিশ্বজুড়ে মুসলিম উম্মাহর গর্ব ও এক মহীরূহে পরিণত হয়েছে। এই মন্তব্যগুলো এমন এক সময়ে এল, যখন মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ উত্তাপ ছড়াচ্ছে। অন্যদিকে, পরিস্থিতি সামলাতে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও কূটনৈতিক তোড়জোর শুরু হয়েছে।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর প্রথম বৈঠকে সরাসরি জানান যে, লেবাননে শান্তি ফেরাতে হলে দেশটিতে চলা সমস্ত ইসরায়েলি সামরিক অভিযান বন্ধের পাশাপাশি তাদের সৈন্য সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করতে হবে। বৈঠকে দুই নেতার মধ্যে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর অস্ত্রসংবরণ, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, লেবানন সেনাবাহিনীর জন্য মার্কিন সহায়তা এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়।
তবে তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, লেবাননের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ করে বা হিজবুল্লাহকে বাদ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় যাওয়া ইরানের পক্ষে সম্ভব নয়।
(Feed Source: zeenews.com)