)
জল্পনাই সত্যি হল। ভারতের কোচের পদ থেকে অবশেষে ইস্তফা দিলেন তিনি, জানা যাচ্ছে ফিরছেন তাঁর কলকাতা নাইট রাইডার্সের সংসারেই!
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: সপ্তাহ দুয়েক আগেই ভারতীয় ক্রিকেটের অন্দরমহলে কান পাতলে যে জল্পনা শোনা যাচ্ছিল, অবশেষে সেটাই সত্যি হল। শ্রীলঙ্কা সফর শুরুর আগেই টিম ইন্ডিয়ার সহকারি কোচের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন রায়ান টেন দুশখাতে। একই সঙ্গে ভারতীয় সাজঘরে অতীত হয়ে গেলেন ফিল্ডিং কোচ টি দিলীপ। ভারতের সাপোর্ট স্টাফের কাঠামোয় আবারও বদল আসছে। এই কথা দিনের আলোর মতোই স্পষ্ট। কারণ দুশখাতে-দিলীপের চুক্তি নবীকরণের পথে আর হাঁটেনি বিসিসিআই। এক সর্বভারতীয় মিডিয়ায় দেওয়া সাক্ষাত্কারে বোর্ড সচিব দেবজিত সাইকিয়া বলেছেন, ‘সাম্প্রতিক ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড সফরের সময়েই দু’জনের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল এবং আমরা আর তাদের চুক্তির মেয়াদ বাড়াচ্ছি না।’
দুশখাতে ফিরছেন ফের কেকেআরে!
ভারতীয় কোচিং স্টাফে হেড কোচ গৌতম গম্ভীরের ডানহাত ছিলেন দুশখাতে। ইংল্যান্ড সিরিজের পরই ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন নেদারল্যান্ডসের প্রাক্তন ক্রিকেটার। দুশখাতে দু’বছর ছিলেন বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মাদের সঙ্গে। ২০২৪ সালে ভারতের শ্রীলঙ্কা সফরের পর তিনি গম্ভীরের কোচিং টিমে যোগ দিয়েছিলেন। গত মরসুমে দিলীপের চুক্তির মেয়াদ এক বছর বাড়ানো হলেও দুশখাতের চুক্তির মেয়াদ আর বাড়ানো হয়নি। জানা যাচ্ছে দীর্ঘ সময় বাড়ির বাইরে থাকতে হবে, এমন কোনও দায়িত্বই আর তিনি আগ্রহী নন দুশখাতে। শোনা যাচ্ছে তিনি এমন কোনও ভূমিকাই খুঁজছেন যাতে তাঁকে কম ভ্রমণ করতে হয় এবং ঠাসা সময়সূচিও থাকবে না। একাধিক মিডিয়ার রিপোর্ট দুশখাতে নাকি ফের ফ্র্য়াঞ্চাইজি ক্রিকেটে ফিরতে চাইছেন। কেকেআরের সঙ্গে নাকি তাঁর কথাও হয়ে গিয়েছে। আইপিএলে তাঁর প্রত্যাবর্তন অত্যন্ত সাবলীল এবং মসৃণ হবে বলেই আশা করা হচ্ছে। কেকেআরের কোচিং দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। পরবর্তীতে ভারতীয় দলের সঙ্গে দু’বছর কাজ করার সুবাদে, আধুনিক যুগের অন্যতম সম্মানিত কোচ হিসেবে দুশখাতেj খ্যাতি আরও সুদৃঢ় হয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর অর্জিত অভিজ্ঞতা তাঁকে কোচিং জগতে অন্যতম কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিত্বেও পরিণত করেছে। কেউ কেউ আবার এও বলেছেন যে, দুশখাতে বুঝতেই পারছেন না যে, এই দলে তাঁর কী ভূমিকা। ঠিক কী করণীয়। তাঁর জব প্রোফাইলই স্পষ্ট নয়।
কে হবেন ভারতের পরবর্তী ফিল্ডিং কোচ?
ইতিমধ্যেই বিসিসিআই দিলীপের বিকল্প খোঁজার কাজ শুরু করে দিয়েছে। শ্রীলঙ্কার বিমান ধরার আগেই গম্ভীর নতুন সাপোর্ট স্টাফ পেয়ে যাবেন বলেই মনে করা হচ্ছে। সাইকিয়া বলছেন, ‘ফিল্ডিং কোচের পদের জন্য আমরা কয়েকজনের সঙ্গে আলোচনা করছি এবং শীঘ্রই বিষয়টি চূড়ান্ত করব।’ বিসিসিআই সম্ভাব্য প্রার্থীদের লম্বা তালিকাই বানিয়েছে। সাইকিয়ার সংযোজন, ‘আমরা বর্তমানে দুই-তিনজনের নাম নিয়ে আলোচনা করছি এবং আশা করছি এক-দু’দিনের মধ্যেই বিস্তারিত বিষয়গুলি চূড়ান্ত হয়ে যাবে। শ্রীলঙ্কা সফরের জন্য ভারত নতুন একজন ফিল্ডিং কোচ পাবে।’ তবে একাধিক সূত্রের খবর, এই পদের জন্য শুভদীপ ঘোষই সবচেয়ে জোরালো দাবিদার। বিসিসিআইয়ের সেন্টার অফ এক্সেলেন্সের কয়েকজন কোচ এবং কয়েকজন প্রাক্তন ক্রিকেটারও দৌড়ে রয়েছেন, তবে বাকিদের তুলনায় শুভদীপ কিছুটা এগিয়ে আছেন। একটি বড় ফ্যাক্টর তাঁর ফেভারে। ভারতীয় দলের কাঠামোর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের পরিচিতি। অসমের প্রাক্তন প্রথম-শ্রেণির ক্রিকেটার সেন্টার অফ এক্সিলেন্সে বেশ কয়েক বছর কাটিয়েছেন এবং ভারতীয় ক্রিকেটের বিভিন্ন স্তরে কাজ করেছেন। এর আগে তিনি অনূর্ধ্ব-১৯ এবং সিনিয়র নারী দলের সাপোর্ট স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি সম্প্রতি ভারত ‘এ’ দলের শ্রীলঙ্কা সফরেও দলের সঙ্গে ছিলেন। বোর্ড তাঁকে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির প্রস্তাব দেবে নাকি অন্তর্বর্তীকালীন কোচ করবে তা এখনও দেখার বিষয়।
(Feed Source: zeenews.com)
