)
অন্য ১৯ জন সাংসদ উপস্থিত থাকলেও মোদীর সঙ্গে হাইপ্রোফাইল বৈঠকে অনুপস্থিত ঘাটালের সাংসদ দেব! কেন প্রাতঃরাশ বৈঠকে গেলেন না তারকা নেতা? রাজনৈতিক জল্পনার মাঝেই নিজের অবস্থান সাফ করলেন নায়ক নিজেই।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: রাজ্য রাজনীতিতে এই মুহূর্তে অন্যতম চর্চিত নাম দেব। কালীঘাটের তৃণমূল ছেড়ে বিক্ষুব্ধ শিবিরে নাম লিখিয়ে ইতোমধ্যেই হইচই ফেলে দিয়েছেন ঘাটালের এই তারকা সাংসদ। কিন্তু সম্প্রতি দিল্লিতে বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের নবগঠিত দল ‘এনসিপিআই’-এর (NCPI) হাইপ্রোফাইল সব বৈঠক ঘিরে এক নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে। কারণ, একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে রহস্যজনকভাবে অনুপস্থিত স্বয়ং দেব। শুক্রবার সকালে দিল্লিতে এনসিপিআই-এর ২০ জন সাংসদের সঙ্গে এক বিশেষ প্রাতঃরাশ বৈঠকে মিলিত হন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ পূর্ব ভারতের উন্নয়ন, পরিকাঠামো এবং সামগ্রিক অগ্রগতি নিয়ে এই বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনা হয়। এনসিপিআই শিবিরে থাকা ২০ জন সাংসদের মধ্যে ১৯ জনই প্রধানমন্ত্রীর দরবারে হাজির ছিলেন। কিন্তু আসন খালি ছিল মাত্র একজনের— ঘাটালের সাংসদ দেবের। শুধু মোদীর বৈঠকই নয়, গত মঙ্গলবার দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দলীয় সাংসদদের একটি মেগা বৈঠকেও অনুপস্থিত ছিলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর মতো ব্যক্তিত্বের সঙ্গে বৈঠক থেকে শুরু করে শীর্ষ নেতৃত্বকে এড়িয়ে যাওয়ার ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই জাতীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তোলপাড়। তৃণমূলের পুরনো শিবির থেকে শুরু করে বিজেপি ও এনসিপিআই নেতৃত্বের অন্দরেও তৈরি হয়েছে তীব্র গুঞ্জন। তবে কি দল বদল করার পরেও শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হচ্ছে দেবের? নাকি মোদি-শুভেন্দুর মুখোমুখি হওয়া এড়িয়ে চলতে চাইছেন ঘাটালের সাংসদ?
এই যাবতীয় জল্পনা ও জল্পনাভিত্তিক প্রশ্নের ঝড় থামাতে শেষমেশ জলঘোলা পরিষ্কার করতে ময়দানে নামেন ঘাটালের সাংসদ নিজেই। নেটপাড়ায় একটি বিশেষ পোস্ট করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি। দেবের দাবি, সম্পূর্ণ পূর্বনির্ধারিত একটি ফিল্ম শ্যুটিংয়ের ব্যস্ততার কারণেই তিনি বৈঠকে যোগ দিতে পারেননি। এক্স হ্যান্ডেলে দেব লিখেছেন, “পূর্ব নির্ধারিত শ্যুটিংয়ের ব্যস্ততার কারণে আজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে এবং মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারিনি। অদূর ভবিষ্যতে দু’জনের সঙ্গেই সাক্ষাতের অপেক্ষায় রইলাম এবং উন্নয়ন, অগ্রগতি ও মানুষের জন্য কাজ করতে সবরকম ভাবে অবদান রাখার চেষ্টা করব।”
রাজনৈতিক মহলের একটি বড় অংশ অবশ্য দেবের এই সাফাইকে সম্পূর্ণ হালকাভাবে নিতে নারাজ। এনসিপিআই শিবিরের অপর হেভিওয়েট নেতারা যখন দিল্লির রাজনৈতিক মঞ্চে নিজেদের জায়গা শক্ত করতে তৎপর, ঠিক সেই মুহূর্তে দেবের ব্যাকফুটে থাকা বেশ অর্থবহ। যদিও মুর্শিদাবাদের তিন সাংসদ আবু তাহের, খলিলুর রহমান এবং ইউসুফ পাঠান— যাঁরা আগের দিন এনডিএ (NDA) বৈঠক বয়কট করেছিলেন, তাঁরাও এ দিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটেবিলে প্রাতঃরাশ সেরে রাজনৈতিক জল্পনায় ইতি টেনেছেন। সেখানে দেবের একটানা অনুপস্থিতি তাঁর রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।
অবশ্য ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের মতো দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত প্রজেক্ট নিয়ে ইতিপূর্বে রাজ্য সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছিল দেবের। ঘাটালের মানুষের স্বার্থে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পরই তিনি নতুন শিবিরে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে আগেই জানিয়েছিলেন। ফলত, কালীঘাট ও নতুন শিবিরের টানাপোড়েনের মাঝে নিজেকে খানিকটা গুটিয়ে রেখে সচেতন পদক্ষেপ নিচ্ছেন তারকা সাংসদ, এমনই মনে করছেন বিশ্লেষকদের একটা বড় অংশ। দেবের দেওয়া এই ব্যাখ্যার পর আপাতত নতুন জলঘোলা থিতিয়ে গেলেও, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর এই ভবিষ্যৎ সাক্ষাৎ ঠিক কত দ্রুত হয়— সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহলের।
(Feed Source: zeenews.com)
