
অতি অল্প সময়ের মধ্যে নকভির পদোন্নতি নজর কেড়েছে অনেকেরই। তবে সম্প্রতি তাঁর কিছু মন্তব্য সেনা অভ্যুত্থানের সম্ভাবনাকে জোরাল করেছে। তাঁর দাবি, পাকিস্তানে ‘সিস্টেম’ পুরোপুরি ধসে গিয়েছে। জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে পুরোপুরি। দেশের যুবসমাজের আশা এবং স্বপ্ন পূরণের সুযোগ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে। (Asim Munir)
প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে নিয়েও নিজের মতামত লুকোননি নকভি। তাঁর দাবি, শেহবাজের তরফে পরিশ্রমে কোনও খামতি নেই। কিন্তু দিনে ১৮ ঘণ্টা কাজ করলেও পাকিস্তানের পরিস্থিতি বদলাতে পারবেন না তিনি। পাকিস্তানের চারটি প্রদেশ ভেঙে পৃথক প্রশাসনিক ব্লক তৈরির কথাও বলতে শোনা যায় তাঁকে। পাশাপাশি, পাকিস্তানের শাসনব্যবস্থায় সেনাবাহিনীর আরও সক্রিয় ভূমিকার কথাও বলেন।
নকভির ওই মন্তব্যই নয় শুধু, পাকিস্তানি সেনার মুখপাত্র DG ISPR আহমেদ শরিফও অভ্য়ু্ত্থানের জল্পনা বাড়িয়েছেন। প্রথমে বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে চাননি তিনি। পরে যদিও নকভির বক্তব্যে সমর্থন জানান। তাঁর বক্তব্য, “প্রশাসন সঠিক ভাবে নিজের দায়িত্ব পালন না করলে, পাকিস্তানের নিরাপত্তা সুনিশ্চিতকরণ সম্ভব নয়।” প্রশাসনকে সরাসরি নিরাপত্তার কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করা, প্রশাসনিক রদবদলের পক্ষে সওয়াল করেন তিনি। এমনকি মুনিরের নেতৃত্বে সামরিক বিভাগ ক্ষমতা আরও প্রসারিত করতে চায় বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাহলে কি মুনিরের নেতৃত্বে পাকিস্তানি সেনা রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিজেদের হাতে তুলে নেওয়ার পথে এগোচ্ছে, উঠছে প্রশ্ন।
পাকিস্তানে সেনা অভ্যুত্থান ঘটেছে অতীতেও। একবার নয়, বার বার। ১৯৫৮, ১৯৭৭, ১৯৯৯ সালে নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে সেখানে ক্ষমতা দখল করে সেনা। ১৯৬৯ সালে আবার সেনাশাসক আয়ুব খানকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করেন ইয়াহিয়া খান।
পাকিস্তানি সেনার বিরুদ্ধে বরাবরই সরব সেদেশের ইউটিউবার আদিল রাজা। তাঁর দাবি, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হওয়ার তালে রয়েছেন মুনির। সেক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন নকভি। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের রাজনৈতিক বিশ্লেষক তথা লেখিকা আয়েশা সিদ্দিকার বক্তব্য, “পর্দার আড়াল থেকে নয়, সামরিক আইন জারি করে সাধারণ মানুষের মুখোমুখি হন মুনির। আড়ালে থেকে পাকিস্তানের শাসনব্যবস্থা সংক্রান্ত সঙ্কটের সমাধান বের করা সম্ভব নয়।”
মুনিরের অভিসন্ধি ঘিরে যদিও বরাবরই উদ্বেগ ছিল। বিশেষ করে দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে যেভাবে ক্ষমতা থেকে সরানো হয় এবং আজও জেলবন্দি করে রাখা হয়েছে, তার নেপথ্যে মুনিরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে গোড়া থেকেই। ‘অপারেশন সিঁদুরে’র পর নিজেই নিজের পদোন্নতি উপহার দেন মুনির। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেও নেতৃত্ব দিতে দেখা যায় তাঁকে। মুনিরের ভূয়সী প্রশংসাও করেন ট্রাম্প।
(Feed Source: abplive.com)
