
মহাকাশে মোট ৫৪৯ দিন কাটিয়েছেন মাইক। মহাকাশ অভিযানের ইতিহাসে, সবচেেয়ে বেশিদিন কাটানোর নিরিখে চতুর্থ স্থানে রয়েছেন তিনি। আবার তিনিই প্রথম ব্য়ক্তি, মেডিক্যাল এমার্জেন্সির দরুণ মহাকাশ থেকে উদ্ধার করে আনতে হয়েছিল যাঁকে। অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তিনি।
মাইকের প্রস্থান নিয়ে NASA-র প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান বলেন, “NASA-র ইতিহাসে মাইকের মতো এত নতুন অধ্যায় রচনার সুুযোগ কম জনই পেয়েছেন।” বিদায়বার্তায় মাইক বলেন, “NASA আমাকে অসাধারণ মানুষজনের সঙ্গে কাজ করার অভূতপূর্ব সুযোগ দিয়েছে। উড়তে শিখিয়েছে, মহাকাশযান তৈরি করতে শিখিয়েছে, আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে অবদান রাখতে দিয়েছে।”
২০২৫ সালের অগাস্ট মাসে NASA-র Crew-11 অভিযানে পাইলট নিযুক্ত হন মাইক। SpaceX Dragon মহাকাশযানে চেপে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে পৌঁছন মহাকাশচারীরা, আবার চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ফিরেও আসেন। নির্ধারিত সময়ের এক মাস আগেই ফিরে আসতে হয় তাঁদের, কারণ অসুস্থ হয়ে পড়েন মাইক।
সেই সময় মাইক জানান, রাতে খাবার খাচ্ছিলেন। হঠাৎই কথা বলার ক্ষমতা হারান তিনি। প্রায় ২০ মিনিট কথা বলা বন্ধ ছিল তাঁর। কেন ওই ঘটনা ঘটে, ঠিক কী হয়েছিল তাঁর, তা এখনও পর্যন্ত খোলসা করেনি NASA. মাইকও প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। তবে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক যে হনি, তা জানা গিয়েছে।
পরবর্তীতে পরিস্থিতির উন্নতি হলেও মাইককে মহাকাশ থেকে উদ্ধার করে আনার সিদ্ধান্ত নেয় NASA. তিন মহাকাশচারীকে রেখে মাইক-সহ আরও তিন জনকে ফিরিয়ে আনা হয় পৃথিবীতে। আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের ইতিহাসে সেই প্রথম অসুস্থতাজনিত কারণে মহাকাশচারীদের ফিরিয়ে আনতে হয়।
MIT থেকে পড়াশোনা করেন মাইক। সোভিয়েত ইউনিয়নে কসমোনটিক্স নিয়েও পড়াশোনা করেন। এ্যারোনটিক্স নিয়ে পড়াশোনা করেন স্ট্যানফোর্ডে। প্ল্যানেটারি জিওলজি নিয়ে পড়াশোনা করেন ইউনিভার্সিটি অফ হিউস্টন-ক্লিয়ার লেকে। তিনি আমেরিকার অবসরপ্রাপ্ত বায়ুসেনা কর্নেল। ৩০ ধরনের যুদ্ধবিমান ওড়ানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে। মহাকাশচারীদের ঘাম, মূত্রকে পানীয় জলে পরিণত করার যন্ত্র একবার খারাপ হয়ে যায় আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে। সেই সময় সেটি সারান মাইক।
(Feed Source: abplive.com)
