
স্বামীর ডেথ সার্টিফিকেট না পেয়ে বিপদে কৃষক গৃহবধূ, দেবের থেকে সাহায্য চাইলেন সুদীপ্তা
সুদীপ্তার শো-তে এসে যে গৃহবধূ তাঁর নিজের কথা ভাগ করে নিয়েছেন, তাঁর নাম রীতা। মার্চ মাসে, তাঁর স্বামী আত্মহত্যা করেন বিষ খেয়ে। পেশায় গোটা পরিবারই চাষের কাজ করে রীতার। পরিবারে রয়েছে ২ সন্তান। তাদের মধ্যে একজন সদ্য একটি দুর্ঘটনার মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। কাচে পা কেটে গিয়েছে, সেলাই পড়েছে অনেকগুলো। তবে আরও একটি গুরুতর সমস্যায় পড়েছিলেন তিনি। রীতার স্বামী মারা গিয়েছিলেন, ঘাটালের হাসপাতালে। মৃত্যুর ৩ মাস কেটে যাওয়ার পরেও, রীতা স্বামীর মৃত্যুর শংসাপত্র জোগাড় করতে পারেননি। এর ফলে, তাঁকে নিয়মিতভাবে একটি লোন দিয়ে যেতে হচ্ছে। স্বামীর মৃত্যুর শংসাপত্র জমা দিলে, মকুব হয়ে যাওয়ার কথা সেই লোন, কিন্তু ডেথ সার্টিফিকেট না মেলায়, এখনও লোনের অঙ্ক গুণে যেতে হচ্ছিল তাঁকে। মূল উপার্জন বন্ধ তাই লোন চোকাতে জিনিস পর্যন্ত বিক্রি করে দিতে হয়েছিল রীতাকে।
সুদীপ্তার ডাকে সাড়া দেবের, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সমস্যার সমাধান
এদিনের শো থেকে সুদীপ্তা তাঁর তামাম দর্শকদের অনুরোধ করেছিলেন, কেউ যদি রীতাকে কোনোভাবে সাহায্য করতে পারেন তাঁর স্বামীর শংসাপত্র পাবার জন্য, তিনি যেন এগিয়ে আসেন। এরপরে ওই গোটা ক্লিপিংস নিজের ওয়াল থেকে শেয়ার করে নিয়েছিলেন সুদীপ্তা। সঙ্গে দেন, সমস্ত তথ্য ও। গোটা পোস্টে তিনি ট্যাগ করেছিলেন দেবকে। যেহেতু দেব ঘাটালের সাংসদ, সেই কারণেই তিনি দেবের কাছে সাহায্য চেয়েছেন। সাংসদ জানিয়েছিলেন, তিনি বিষয়টি দেখবেন। এরপরই সত্বর ব্যবস্থা নেন দেব। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনার আপডেট শেয়ার করে নিয়েছেন সুদীপ্তা। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘ ‘লাখ টাকার লক্ষীলাভ’ এ খেলতে আসা চন্দ্রকোণার (ঘাটাল, পশ্চিম মেদিনীপুর) রীতার সমস্যার কথা জানিয়ে দেবকে ফেসবুকে লিখেছিলাম রবিবার সন্ধেয়। সেইদিন রাতেই ফেসবুকে দেব জানায়, সে দেখছে বিষয়টা। সোমবার সকালেই ওর টিম থেকে ফোন আসে আমার কাছে। আর তার এক ঘণ্টার মধ্যেই দেব আমাকে WhatsApp এ পাঠায় রীতার স্বামীর মৃত্যু প্রমাণপত্র। ‘লক্ষীলাভ’ এর টিম থেকে খবর পেলাম, প্রমাণপত্র জমা করার সঙ্গে সঙ্গে রীতার স্বামীর করা ঋণও মকুব হয়ে গেছে, যে ঋণ শোধ করতে না পেরে গত মার্চ মাসে কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। রীতার ভার কিছুটা কমল। মাসে মাসে আর কিস্তির টাকা দিতে হবে না তাকে। খুব ভালো লাগছে। অসংখ্য ধন্যবাদ দেব। ভালো থেকো। তবে যে রীতাদের আমি চিনি না, বা যাদের অনেক চেনা পরিচিতি নেই, তাদের কাউকে যেন ভবিষ্যতে এরকম কোন পরিস্থিতিতে পড়তে না হয়, জনপ্রতিনিধি ও সরকারী কর্মচারীদের কাছে আমার এইটুকু অনুরোধ রইল।’
(Feed Source: abplive.com)
