
‘ঘুণ গাঁও’-এর চরিত্র সম্পর্কে অনিন্দিতা
‘ঘুণ গাঁও’-তে তাঁর চরিত্র সাহসী, নির্ভীক, কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে বা কর্মক্ষেত্রে, কিসে ভয় পান অভিনেত্রী? অনিন্দিতা বলছেন, ‘আমি রোজ খুশি থাকতে ভালবাসি। রোজ কিছু কিছু না কিছু খুঁজে নিই, যেটা আমায় খুশি রাখতে পারে। যদি কোনোদিন মনে হয়, কিছুতেই আমি খুশি হতে পারছি না, তাতে আমার একটু অস্বস্তি হয়। ভয় পাই। তবে কর্মক্ষেত্রে সত্যিই আমার কিছুতে ভয় নেই, আমি কাজ করতে ভালবাসি, যেটা করি সেটাকে ভালবাসি। ভয় পেতে শুরু করলে আমি তো কাজই করতে পারব না।’ সিনেমার চরিত্রের সঙ্গে বাস্তব চরিত্রের মিল পেয়েছেন বলেই কি, এই ছবিটা বাছলেন? অনিন্দিতা বলছেন, ‘ব্যক্তিমানুষ হিসেবে সানায়া আর অনিন্দিতা অনেকটাই এক। কিন্তু সেটা এই সিনেমাটা বাছার কারণ নয়। কারণ হল গল্প। এটা থ্রিলার, কিন্তু সেটাকে কোন জঁ-রে ফেলব সেটা আমরাও এখনও জানি না। দর্শক বলবেন। যে বিষয়টা নিয়ে সৌম্য এই গল্পটা লিখেছে, সেটা অনেকটা অন্যরকম। সানায়ার মতো চরিত্র আমি এর আগেও করেছি। গল্পটা প্রথমে শুনে মনে হয়েছিল, এটা থেকে ছবি তৈরি হওয়া অসম্ভব। পরে যখন চিত্রনাট্য শুনেছি, বুঝেছি.. সৌম্যর আত্মবিশ্বাস আমাকেও ছুঁয়ে গিয়েছে। বিশ্বাস করি, এই সিনেমাটা নিয়ে আলোচনা হবে।’
‘পর্দায় নাচ করতে চাই’
টলিউডে আরও বিভিন্ন স্বাদের, চ্যালেঞ্জিং চরিত্রের অফার পাওয়া উচিত বলে মনে হয়? অনিন্দিতা বলছেন, ‘আমি টলিউডে প্রায় সবসময় চরিত্রেই অভিনয় করেছি। তবে কারও যদি মনে হয়, আমি কমার্শিয়াল সিনেমা, নাচ-গান করতে পারি, সেই সুযোগ যদি পাই, অবশ্যই আমার কাছে নতুন কিছু হবে। আর হ্যাঁ, আমি দীর্ঘদিন ধ্রুপদী নৃত্য শিখেছি, নাচ করতে ভালবাসি। যদি নাচকে কেন্দ্র করে কোনও সিনেমা হয়, হিন্দির ABCD-র মতো, সেখানে অভিনয় করতে চাইব। পর্দায় নাচ করার সুযোগ পেতে চাই। আর গানে রোম্যান্স তো… এই সিনেমায় করেছি-ই।’
‘এবার কলকাতার বাঙালি মেয়ে হতে চাই পর্দায়’
টলিউডে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন, প্রত্যাখ্যান পেয়েছেন? অনিন্দিতা একটু ভেবে বললেন, ‘আজ অবধি যা যা অফার পেয়েছি, আমি ফেরাইনি। অফার এসেও ফিরে গিয়েছে, এমন হয়নি। আমি জানি, আমার কাছে সবরকমের চরিত্রের অফার আসে না। যেমন চরিত্রে দর্শক আমায় দেখে অভ্যস্থ, তেমন চরিত্রই আসে। ফলে প্রত্যাখ্যান পেয়েছি, এটা বলব না। তবে একটা কথা বলব যে, এত বছর কাজ করার পরে বাংলা ইন্ডাস্ট্রি এবার আমায় একটু বড় চরিত্রে ভাবুক। একজন আত্মবিশ্বাসী, সাহসী, ব্যক্তিত্ব রয়েছে এমন মেয়ের চরিত্রেই যে আমায় মানায়, সেটা মানুষ দেখে ফেলেছেন। আগামীদিনে আরও অন্য স্বাদের চরিত্রে অভিনয় করতে চাই। তবে আমি ছক ভাঙা চরিত্রে অভিনয় করতে চাই, সেই চরিত্রের জন্য খাটতে চাই.. এটা ইন্ডাস্ট্রি বুঝুক। আমি আত্মবিশ্বাসী, সাহসী, ব্যক্তিত্বশালী একজন মেয়ের চরিত্রে টাইপকাস্ট হয়ে গিয়েছি। আমি বুঝি, আমার বাংলা বলার ধরণ আলাদা, তবে জানি… সিনেমায় ডাবিং করার সুযোগও থাকে। তেমন চরিত্র পেলে, সেই প্রয়োজনে নিজেকে বদলাতে পারি। আমার ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে যে, আমিও পারি। ১৮ বছর ধরে কাজ করছি.. মানুষ নিশ্চয়ই জানে আমি খাটতে পারি। বাইরে থেকে পড়াশোনা করে এসেছে, এমন চরিত্র ছেড়ে এবার কলকাতার বাঙালি মেয়ের চরিত্র আমায় দেওয়া হোক। (হাসি)
কেরিয়ারের পথে, সবসময়েই পাশে পেয়েছি প্রিয়জনকে
পর্দায় জীবনসঙ্গী সম্পর্ক বা কেরিয়ার, দুয়ের মধ্যে একটাকে বেছে নিতে বলছেন, ব্যক্তিগত জীবনে কখনও এই পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়েছে অনিন্দিতাকে? অভিনেত্রী বলছেন, ‘না.. ঈশ্বরের আশীর্বাদে সবসময় কাজের ক্ষেত্রে প্রিয় মানুষদের থেকে সমর্থনই পেয়েছি। জীবনের বিভিন্ন সময়ে, পরিস্থিতিতে সবসময় প্রিয়জনকে পাশে পেয়েছি। এই পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে কখনও যাইনি বলেই জানি না, এই পরিস্থিতিতে পড়লে কী হবে। আমি এটুকুই বলতে পারি, এইদিক দিয়ে ভীষণ লাকি আমি।’ রাজ্যে সরকার বদলাল, অনিন্দিতার চোখে কাজের ক্ষেত্রে কিছু বদল ধরা পড়ল কী? অভিনেত্রী বলছেন, ‘যখন ভোটের রেজাল্ট বেরল.. তখন আমি শহরের বাইরে। এখনও নিয়মিত কলকাতায় থাকা হয় না। বিভিন্ন মানুষের থেকে অভিজ্ঞতার কথা শুনেছি। তবে নিজে আরও বেশি কলকাতায় থাকলে, কাজ করলে হয়তো বুঝতে পারব।’
(Feed Source: abplive.com)
