
Historical Site: দাঁতনে ঐতিহাসিক মুন্সেফ কোর্ট ভবন আজ চরম অবহেলিত। সময়ের নিয়মে খসে পড়ছে ছাদ, আগাছায় ঢেকেছে গোটা দেওয়াল। বিলীন হতে বসেছে ১৮০ বছরের পুরনো মুন্সেফ কোর্ট ভবন। ব্রিটিশ আমলের বিচার ব্যবস্থার সাক্ষী এই ভবনটি সংরক্ষণের দাবি জানাচ্ছে এলাকাবাসী।
দাঁতন, পশ্চিম মেদিনীপুর, রঞ্জন চন্দ: খসে পড়ছে চুনবালি, ইটের খাঁজে শিকড় গেড়েছে অশ্বত্থ-বট। দেওয়ালে কান পাতলে যেন আজও ভেসে আসে পক্ষে-বিপক্ষের ধারালো সওয়াল, বিচারের নামে ঔপনিবেশিক অত্যাচারের চাপা কান্না আর বিনা প্ররোচনায় মামলার স্মৃতি। কালের নির্মম নিয়মে ক্রমশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রাচীন জনপদ দাঁতনের মুন্সেফ কোর্ট। জেলা সদর মেদিনীপুর শহর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে, বাংলা-ওড়িশা সীমান্ত ঘেঁষা এই প্রত্যন্ত গঞ্জে ব্রিটিশরা যে বিচার ব্যবস্থার ভিত গড়ে তুলেছিল, তা আজ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অতলে তলিয়ে যাওয়ার মুখে।
ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যায়, মুঘল আমলে দাঁতনে ছিল কাজীর বিচারালয়। পরবর্তীতে বাংলা ও বিহারের পর ওড়িশা দখলের রণকৌশল হিসেবে সীমান্ত এলাকা দাঁতনকে মূল প্রশাসনিক ঘাঁটি বানায় ইংরেজরা। সেই লক্ষ্যেই এখানে পুলিশ চৌকি, ইংরেজি বিদ্যালয় এবং প্রায় ১৭০ বছর আগে মুন্সেফ কোর্ট স্থাপন করা হয়। অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলায় তখন জেলা সদরের জজ কোর্টের পর একমাত্র দাঁতনেই ছিল এই বিচারালয়। এমনকী সেই সময় এগরা কিংবা কাঁথির মত বড় শহরেও আদালতের অস্তিত্ব ছিল না।
স্বাধীনতার পরেও দীর্ঘ দিন ধরে এই ভবনে বিচার প্রক্রিয়া সচল ছিল। ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে পরবর্তী বহু গুরুত্বপূর্ণ মামলার সাক্ষী এই আদালত চত্বর একদা গমগম করত বিচারক, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের উপস্থিতিতে। তবে সময়ের গতিতে দাঁতনেই নতুন আদালত ভবন গড়ে ওঠার পর ব্রাত্য হয়ে পড়ে প্রাচীন এই স্থাপত্য। বর্তমানে পরিত্যক্ত এই ভবনের ছাদ ধসে পড়েছে, রোজই খসে পড়ছে এক-একটি প্রাচীন ইট। তবুও ঔপনিবেশিক প্রশাসনিক পরিকল্পনার নিবিড় সাক্ষ্য বুকে নিয়ে কোনও রকমে দাঁড়িয়ে রয়েছে এই ঐতিহ্য।
স্থানীয় ইতিহাসের অন্যতম প্রধান নিদর্শন হিসেবে চিহ্নিত এই ভবনটি আজ কার্যত বিলীন হওয়ার পথে। যেখান থেকে বসে একদা ব্রিটিশ শাসকেরা সুদূর সীমান্ত এলাকার শাসন ও বিচারভার নিয়ন্ত্রণ করত, সেই অতীত আজ আগাছায় ঢাকা কঙ্কালসার স্মৃতিচিহ্ন মাত্র। দাঁতনের এই প্রাচীন মুন্সেফ কোর্ট শুধু একটি ভগ্নপ্রায় ইমারত নয়, বরং অবিভক্ত মেদিনীপুরের সুদীর্ঘ প্রশাসনিক ও আইনি বিবর্তনের এক জীবন্ত দলিল। অবিলম্বে এই ঐতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষণ করা না হলে বাংলার বিচার ব্যবস্থার এক অধ্যায় চিরতরে হারিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয় ইতিহাসপ্রেমীরা।
(Feed Source: news18.com)
