
সকালে উঠে ৩ ঘণ্টা সময় এক্কেবারে নিজের
মানুষ তাঁকে পর্দায় দেখেন, কখনও বা সাক্ষাৎকারে.. দিনের শুরুটা কীভাবে করেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়? মোহর বলছেন, ‘সকালে উঠে ঘণ্টা তিনেক সময় দাদার একেবারে ব্যক্তিগত। উনি খুব সকালে উঠেন, তারপরে কিছুটা সময় নিজের সঙ্গে কাটাতে ভালবাসেন। শরীরচর্চা থেকে শুরু করে সমস্তই ওই সময়ে মিটিয়ে নেন। চেষ্টা করি ওই সময়টা ওঁকে কোনও কাজে যেন না ডাকতে হয়। তারপরে একেবারেই লাঞ্চ করে শ্যুটিংয়ে বেরনোই দাদার পছন্দ। তবে সকাল ৬টায় কলটাইম থাকলেও, কোনোদিন দেখিনি ওঁর এক মিনিটও লেট হয়। তবে খুব রাত পর্যন্ত কাজ করতে পছন্দ করেন না দাদা।’
পুজোয় কলকাতার বাইরে যেতে চান না, অষ্টমীর অঞ্জলি মাস্ট
উৎসব বাড়িতে নাকি উৎসবের শুরুয়াত হয়, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের জন্মদিন দিয়েই। মোহর বলছেন, ‘দাদার জন্মদিন দিয়েই আমাদের পুজো শুরু হয়। এই দিনটায় সারাদিন বাড়িতে লোকজনের আসা-যাওয়া। অবাক হয়ে দেখি, দাদা এখনও ওঁর ।ফ্যান ক্লাবকে সময় দেন। ওঁদের সঙ্গে কেক কাটেন, ছবি তোলেন। আমাদের অফিস এই দিনটা ছুটি থাকে, কিন্তু তারপরেও আমরা সারাদিন এখানেই থাকি। বাড়িতে পায়েস রান্না হয়, তবে দাদা খান ভীষণ সামান্যই।’ পুজোর সময়টা কী করতে পছন্দ করেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়? মোহর বলছেন, ‘পুজোর সময়টা কলকাতার বাইরে যেতে চান না দাদা। নিয়ম করে অষ্টমীর অঞ্জলি দেন, আমাদের নিয়ে একদিন লাঞ্চে যান। আর মিশুকের সঙ্গে সময় কাটানো তো রয়েছেই। পুজোর সময়টা মিশুক ও এখানেই থাকতে পছন্দ করে।’

পছন্দ করে সবার জন্য পোশাক উপহার দেওয়া চাইই-চাই
টলিউডের কাছে তিনি ‘বুম্বাদা’, আর ‘বস্’ হিসেবে? মোহর হেসে বললেন, ‘উনি সুপারস্টার, কিন্তু তার চেয়েও আগে, আমার কাছে উনি একজন অসম্ভব ভাল মানুষ। শুনলে অবাক হবেন, অফিসের প্রত্যেকের পছন্দের রঙ-টা পর্ষন্ত উনি জানেন। পুজোর সময়ে, প্রত্যেকের পছন্দের কথা মাথায় রেখে, প্রত্যেকের জন্য আলাদা করে পোশাক কেনা হয়। আমি একদিন গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে, সবার জন্য পোশাক কিনে আনি। দাদাকে ছবি পাঠাতে হয়, তবেই ওঁর শান্তি। আমাদের অফিসে কোনোদিন কেউ অসুস্থতা নিয়ে কাজ করতে আসেনি। শরীর খারাপ নিয়ে কাজ করতে আসলে দাদা বলেন, ‘আর কাজ দেখাতে হবে না। বাড়ি যাও।’

ব্যর্থতা-বিতর্ক সামলানোর টনিক
দীর্ঘ কেরিয়ার, সাফল্য আছে, ব্যর্থতা আছে, বিতর্কও আছে। খারাপ সময় কীভাবে সামলান প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়? মোহর বলছেন, ‘দাদাকে কখনও ভেঙে পড়তে দেখিনি আমি। বরং দাদাকে নিয়ে খুব খারাপ কিছু শুনলে, আমিই ভেঙে পড়ি। যখন ওঁকে নিয়ে খুব খারাপ কিছু লেখা হয়েছে, সান্তনা দিয়ে উনি নিজেই বলেছেন, ‘ওসব চলতে থাকবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় আনইন্সটল করে দাও।’ আবার ছবি মুক্তির পরে বলবেন, ‘ছবি রিলিজ করে গিয়েছে, ব্যাস শেষ। এবার পরের কাজটা নিয়ে ভাবো।’ আমি অনেকবার দেখেছি, ওঁর কোনও কথা হয়তো সাময়িকভাবে ভুল বলে মনে হয়েছে। পরে দেখেছি, সেটাই ঠিক হয়ে গিয়েছে। সবটাই অভিজ্ঞতা। তবে দাদার একটা খুব বড় সমস্যা রয়েছে…. উনি ‘না’ বলতে পারেন না কিছুতেই…। পরিচালকের সঙ্গে প্রযোজক হিসেবে বসলে, সব কিছুতেই রাজি হয়ে যান..’

(Feed Source: abplive.com)
