১০ বছরের কম বয়সি শিশুদের জন্য নয় এইসব ওষুধ এবং অস্ত্রোপচার, ছোটদের স্থূলতা নিয়ে নির্দেশিকা এল

১০ বছরের কম বয়সি শিশুদের জন্য নয় এইসব ওষুধ এবং অস্ত্রোপচার, ছোটদের স্থূলতা নিয়ে নির্দেশিকা এল

 

নয়াদিল্লি: শিশু ও কৈশোরকালের স্থূলতা নিয়ে নির্দেশিকা প্রকাশ করল বিশ্ব স্বাস্থ্য় সংস্থা (WHO)। এই প্রথম শিশু এবং কৈশোর বয়সের স্থূলতা নিয়ে কোনও নির্দেশিকা প্রকাশ করল তারা, যাতে নয় বছরের কমবয়সি শিশুদের ওজন কমানোর ওষুধ খাওয়ানো বা অস্ত্রোপচারের বিরুদ্ধে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ১০ থেকে ১৯ বছর বয়স পর্যন্ত বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রেই ওই ধরনের ওষুধ এবং অস্ত্রোপচারের কথা বলা হয়েছে নির্দেশিকায়। (WHO Childhood Obesity Guide)

WHO-র নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যে সমস্ত কিশোর এবং কিশোরী অত্যধিক স্থূলতায় ভুগছে, যাদের টাইপ ওয়ান ডায়বিটিস, ইনস্যুলিন রেজিস্ট্যান্স রয়েছে বা অনিয়মিত উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ওজন কমানোর ওষুধ বা অস্ত্রপচার ব্যবহার করা যেতে পারে। দীর্ঘ ছ’মাস ধরে নির্দিষ্ট খাদ্যাভ্যাস বা শরীরচর্চার রীতি অনুসরণ করেও সুফল পায়নি যারা, তাদের ক্ষেত্রেও ওজন কমানোর ওষুধ এবং অস্ত্রোপচারের মতো ব্যবস্থার শরণাপন্ন হওয়ার অনুমতি রয়েছে। (Weight Loss Drugs for Children)

যে নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে WHO, তাতে ডায়েট, শরীরচর্চা, ডিজিটাল প্রযুক্তি, ওষুধ, অস্ত্রোপচার এবং জীবনযাপনের পরিবর্তন সংক্রান্ত কর্মসূচির মতো বিদ্যমান তথ্যের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। তথ্য়প্রমাণ পেশ করে বলা হয়েছে- শিশু এবং কিশোর-কিশোরীদের স্থূলতা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সুপরিকল্পিত খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চার উপর জোর দেওয়া উচিত। তবে নয় বছর বয়স পর্যন্ত গ্যাসট্রিক বাইপাসের মতো অস্ত্রোপচার এবং GLP-1-র মতো ওষুধ না ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

স্থূলতা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে GLP-1-এর মতো ওষুধের চাহিদা বাড়ছে দিন দিন। কিন্তু WHO-র পুষ্টি এবং খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগের ডিরেক্টর লুজ় মারিয়া ডি রেগিল জানিয়েছেন, ওই ধরনের ওষুধের কার্যকারিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। এখনও গবেষণা চলছে। তার উপর নজর থাকবে WHO-র। সেই মতো তথ্যপ্রমাণ হাতে পাওয়া গেলে নির্দেশিকাতেও রদবদল ঘটানো হবে। তাই শুধুমাত্র শর্তসাপেক্ষেই ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সি কিশোর-কিশোরীদের অস্ত্রোপচার এবং ওষুধের সুপারিশ করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে সমস্যা যাঁদের, অন্য পদ্ধতিতে কাজ হয়নি যাঁদের, তাঁদের ক্ষেত্রেও অনুমতি রয়েছে ওষুধ এবং অস্ত্রোপচারের।

এর আগে কখনও শিশু বা কৈশোরকালের স্থূলতা নিয়ে কোনও নির্দেশিকা জারি করেনি WHO. ফলে বিষয়টি নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। সেই নিয়ে ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে’ মুখ খুলেছেন বিশিষ্ট চিকিৎসক জ্যোতিদেব কেশবাদেব। তাঁর বক্তব্য, “যে সমস্ত শিশু বা কিশোর-কিশোরীর স্থূলতা রয়েছে, অল্প বয়সে নানা রকমের রোগভোগ দেখা দিতে পারে তাদের। সেই থেকে নানা জটিলতাও তৈরি হতে পারে। ওজন নিয়ন্ত্রণ করা গেলে তারা দীর্ঘ জীবন অতিবাহিত করতে পারে বলে জানি আমরা। তাই শুরুতেই হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”

হঠাৎ কেন এমন নির্দেশিকা জারি করতে হল, তার সপক্ষে WHO জানিয়েছে, ২০২৪ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পাঁচ থেকে ১৯ বছর বয়সি প্রায় ১৭ কোটি শিশু এবং কিশোর-কিশোরী স্থূলতায় ভুগছে, এর মধ্যে পাঁচ থেকে ন’বছর বয়সি শিশুর সংখ্যা ৭ কোটি। ১০ কোটির বয়স ১০ থেকে ১০ বছরের মধ্যে। ভারতের মতো দেশগুলির কথা বিশেষ ভাবে উল্লেখ করেছেন লুজ। তিনি জানিয়েছেন, পৃথিবীর সর্বত্র স্থূলতার হার বৃদ্ধি পেলেও, নিম্ন এবং মধ্য আয়ের দেশগুলিতে স্থূলতার হার সবচেয়ে বেশি। উচ্চ আয়ের দেশগুলিতে বরং হার কমছে ক্রমশ। 

Lancet-এর রিপোর্ট বলছে, ২০২২ সাল পর্যন্ত গত তিন দশকে ভারতে মেয়েদের মধ্যে স্থূলতা বেড়েছে ৩ শতাংশ, ছেলেদের মধ্যে ৩.৭ শতাংশ। ১৯৯০ সালে যেখানে ভারতের ২ লক্ষ মেয়ে এবং ২ লক্ষ ছেলে স্থূলতার শিকার ছিলেন, ২০২২ সালে সেই সংখ্যা যথাক্রমে ৭৩ ও ৫২ লক্ষে পৌঁছেছে। CNNS-এর হিসেব বলছে, ২০২০ সাল নাগাদ ভারতে পাঁচ থেকে ১৯ বছর বয়সি ২ কোটি ৭০ লক্ষেরও বেশি শিশু এবং কিশোর ও কিশোরী স্থূলতায় ভুগছিল, যা পৃথিবীর মধ্য়ে প্রায় ১১ শতাংশ।

চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, স্থূলতার শিকার শিশু এবং কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে ফ্যাটি লিভার, প্রিডায়বিটিস এবং উচ্চ কোলেস্টেরলের মতো কোমর্বিডিটিও চোখে পড়ছে। এসবের চিকিৎসার তেমন উপায় নেই এই মুহূর্তে। সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন যদিও ১২ বছরের বেশি বয়সিদের জন্য সেমিগ্লুটাইড ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। চিকিৎসকরাও ডায়েট, শরীরচর্চা, জীবনযাপন পরিবর্তনের উপর জোর দিচ্ছেন। অস্ত্রোপচারে আপত্তির কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে যে, অস্ত্রোপচারের ফলে শিশু এবং কিশোর-কিশোরীদের পুষ্টির উপর যেমন প্রভাব পড়ে, তেমনই প্রভাব পড়ে তাদের বৃদ্ধিতেও।

(Feed Source: news18.com)