)
গবেষকদের মতে, নবপত্রিকার পূজা প্রকৃতপক্ষে শস্যদেবীরই পুজো। ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত লিখেছেন, ”এই শস্যবধূকেই দেবীর প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করিয়া প্রথমে পূজা করিতে হয়, তাহার কারণ শারদীয়া পূজা মূলে বোধহয় এই শস্য-দেবীরই পূজা।”
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: সপ্তমী মানেই নবপত্রিকা। ষষ্ঠীর বোধনের পরেই নবপত্রিকার প্রহর গোনার শুরু। বাঙালির প্রধান উৎসব দুর্গাপুজোয় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আচার মহাসপ্তমীর এই নবপত্রিকা। নবপত্রিকা দুর্গাপুজোর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এটি সাধারণ মানুষের কাছে ‘কলাবউ’ নামে বেশি পরিচিত। ‘নবপত্রিকা’ শব্দটির আক্ষরিক অর্থ ন’টি গাছের পাতা। এটি ন’টি ভিন্ন উদ্ভিদের সমাহার। এগুলি নিছক উদ্ভিদ নয়। এই নয়টি উদ্ভিদ দেবী দুর্গার নয়টি ভিন্ন রূপ বা শক্তির প্রতীক।
ন’টি উদ্ভিদ, দুর্গার ন’টি রূপ
যে নয়টি উদ্ভিদকে দেবী দুর্গার নয়টি ভিন্ন রূপ বা শক্তির প্রতীক হিসেবে ধরা হয়, সেই উদ্ভিদগুলি হল:
• কদলী বা রম্ভা (কলাগাছ): দেবী ব্রহ্মাণী
• কচু: দেবী কালিকা
• হরিদ্রা (হলুদ): দেবী উমা
• জয়ন্তী: দেবী কার্তিকী
• বিল্ব (বেলপাতা): দেবী শিবা
• দাড়িম্ব (ডালিম): দেবী রক্তদন্তিকা
• অশোক: দেবী শোকরহিত
• মানকচু: দেবী চামুণ্ডা
• ধান: দেবী লক্ষ্মী
পুজো ও আচার
মহাসপ্তমীর দিন ভোরে নবপত্রিকাকে নিকটস্থ নদী বা জলাশয়ে নিয়ে গিয়ে স্নান করানো হয়। সম্ভব হলে গঙ্গার জলে। পুরোহিত নিজেই কাঁধে করে নবপত্রিকা নিয়ে যান। কোন কোন সময় বাড়ির কর্তা কিংবা ক্লাবের সদস্যও এই কাজটি করেন। পিছন পিছন ঢাকিরা ঢাক বাজাতে বাজাতে যান। মহিলারা শঙ্খ ও উলুধ্বনি করেন। স্নানের পরে তাঁকে নতুন শাড়ি পরানো হয়। একটি সপত্র কলাগাছের সঙ্গে বাকি আটটি উদ্ভিদ বাঁধা হয়। শ্বেত অপরাজিতার লতা দিয়ে বেঁধে গাছটিকে এক নারীর আকার দেওয়া হয়। তারপর সিঁদুরচর্চিত করে দুর্গা প্রতিমার ডান দিকে এই কলাবউকে স্থাপন করা হয়। এরপর দেবীর প্রাণপ্রতিষ্ঠা ও মহাস্নান। পূজামণ্ডপে নবপত্রিকা প্রবেশের মধ্যে দিয়ে দুর্গাপুজোর মূল অনুষ্ঠানটির প্রথাগত সূচনা। নবপত্রিকা প্রবেশের পর দর্পণে দেবীকে মহাস্নান করানো হয়। এরপর বাকি দিনগুলিতে নবপত্রিকা প্রতিমাস্থ দেবদেবীদের সঙ্গেই পূজিত হতে থাকেন।
শস্যদেবীরই পুজো
গবেষকদের মতে, নবপত্রিকার পূজা প্রকৃতপক্ষে শস্যদেবীরই পুজো। ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত লিখেছেন, ”এই শস্যবধূকেই দেবীর প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করিয়া প্রথমে পূজা করিতে হয়, তাহার কারণ শারদীয়া পূজা মূলে বোধহয় এই শস্য-দেবীরই পূজা।”
(Feed Source: zeenews.com)
