বইয়ে গালওয়ান সংঘর্ষের প্রসঙ্গ, উত্তপ্ত দেশের সংসদ, শুরু তদন্ত, বিতর্কে মুখ খুললেন M M Naravane

বইয়ে গালওয়ান সংঘর্ষের প্রসঙ্গ, উত্তপ্ত দেশের সংসদ, শুরু তদন্ত, বিতর্কে মুখ খুললেন M M Naravane
নয়াদিল্লি: তাঁর লেখা বই নিয়ে উত্তাল হয়েছে সংসদ। বক্তৃতাই করতে পারেননি লোকসভার বিরোধী দলনেতা। জাতীয় রাজনীতিতে উত্তাপ বেড়েই চলেছে লাগাতার। সেই আবহেই এবার মুখ খুললেন ভারতের প্রাক্তন সেনাকর্তা মনোজ মুকুন্দ নরবণে। গোটা বিতর্কে নিজের অবস্থান জানালেন তিনি। (M M Naravane Book Row)

গালওয়ান উপত্যকায় চিন ও ভারতের মধ্যে সংঘর্ষের সময় সেনাপ্রধান হিসেবে আসীন ছিলেন নরবণে। সেই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন নিজের লেখা বই ‘ফোর স্টার্স অফ ডেস্টিনি’-তে। ওই বইয়ের কিছু অংশই লোকসভায় পড়ে শোনাতে চেয়েছিলেন রাহুল গাঁধী, যা নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে তপ্ত সংসদ। (M M Naravane Book on Galwan Clash)

বিতর্কের জেরে ওই বইয়ের কিছু অংশ ইতিমধ্যেই সোশ্য়াল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। PDF সংস্করণও পাওয়া যাচ্ছে ইন্টারনেটে। সেই নিয়ে ইতিমধ্যেই বিবৃতি দিয়েছে বইটির প্রকাশক সংস্থা Penguin Random House India. তারা জানিয়েছে, জেনারেল নরবণের জীবনী প্রকাশের স্বত্ত্ব একমাত্র তাদের হাতেই রয়েছে। তারা বইটি কোনও আকারেই প্রকাশ করেনি। তাই যে আকারেই হোক না কেন, বইয়ের যে প্রতিলিপি বাজারে ঘুরছে, তা অবিলম্বে আটকাতে হবে। এ নিয়ে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেয় তারা। 

মঙ্গলবার Penguin Random House India-র ওই বিবৃতিই সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরেন নরবণে। লেখেন, ‘বইটি বর্তমান অবস্থা এটা’। বইটি নেট দুনিয়ায় ফাঁস হয়ে যাওয়া নিয়ে ইতিমধ্যেই এফআইআর দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। বেআইনি ভাবে বইয়ের ওই অংশ কে বা কারা বাজারে নিয়ে এল, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তদন্ত। এর আগে যদিও নরবণে জানিয়েছিলেন, তাঁর কাজ ছিল বই লেখা। তিনি বই লিখেছেন। কবে প্রকাশিত হবে, তা প্রকাশক সংস্থা এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের উপর নির্ভর করছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় নরবণের বইয়ের যে অংশটি প্রকাশ করে দেওয়া হয়েছে, তাতে ২০২০ সালে লাদাখে ভারত ও চিনের সংঘর্ষের কথা রয়েছে। ২০১৯ থেকে ২০২২ সালে পর্যন্ত সেনার প্রধান ছিলেন নরবণে। ওই সময়কালে নিজের অভিজ্ঞতার কথাই ‘Four Stars of Destiny’ নামক বইটিতে তুলে ধরেন তিনি। ঠিক কী হয়েছিল ওই সময়, কার সঙ্গে কথা হয়েছিল তাঁর, সব তুলে ধরেন।

২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে বইটি প্রকাশিত হওয়ার কথা ছিল। সেই সময় বইটিকে ভারতীয় সেনার পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হয় সেই সময়। সেই কার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বইটির কোনও অংশ বা সফ্ট কপি প্রকাশ করা যাবে না বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকও বইটির মুক্তির বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখছিল। সেই প্রক্রিয়া আজও আটকে রয়েছে। সে নিয়ে এতদিন না প্রকাশক সংস্থা, না প্রতিরক্ষা মন্ত্রক, কারও কোনও মন্তব্য শোনা যায়নি। বিজেপি-র আক্রমণের জবাব দিতে গিয়ে রাহুল গাঁধী বইটিকে হাতিয়ার করায় কার্যত বিস্ফোরণ ঘটেছে। 

কারণ বইয়ে নরবণে জানিয়েছেন,  ২০২০ সালের ৩১ অগাস্ট রাতে গালওয়ান উপত্যকা ধরে এগোতে শুরু করে চিনের চারটি ট্যাঙ্ক এবং ড্রাগন বাহিনী। কী করণীয়, তা জানতে বার বার দিল্লিতে ফোন করেন তিনি। রাজনাথ সিংহ, অজিত ডোভাল, এস জয়শঙ্কর, তদানীন্তন চিফ অফ স্টাফ বিপিন রাওয়তকেও ফোন করেন। কিন্তু পরিষ্কার নির্দেশ পাওয়া যায়নি। চিনা বাহিনী যখন একেবারে শিয়রে সেই সময় বার্তা আসে, ‘যা উচিত মনে হয় করো’। গালওয়ানে চিনাবাহিনীর সঙ্গে হাতাহাতি, ধস্তাধস্তি, মারামারিতে ভারতের ২০ জন সৈনিক প্রাণ হারান। সেই নিয়েই কেন্দ্রকে আক্রমণ করেন রাহুল। সময় থাকতে কেন কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হল না, কেন চিনকে নিয়ে কড়া অবস্থান নিতে পারল না সরকার, সেই নিয়ে লাগাতার আক্রমণ শানিয়ে আসছে কংগ্রেস।

নিয়ম অনুযায়ী, কর্তব্যরত অবস্থায় সেনা আধিকারিক বা আমলাদের বই প্রকাশের ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিয়ম রয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিকদের ক্ষেত্রে কী নিয়ম প্রযোজ্য, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। ১৯২৩ সালের অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট অনুযায়ী, গোপন কোনও তথ্য, স্পর্শকাতর কোনও কথোপকথন, যাতে জাতীয় নিরাপত্তা বা বিদেশনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, তা খোলসা করা যায় না। আবার সেন্ট্রাল সিভিল সার্ভিসেস পেনশন রুল ২০২১ সালে সংশোধন করা হয়, যাতে বলা হয়েছে, কাজ সংক্রান্ত কোনও রকম লেখা প্রকাশ করতে গেলে তাঁর আগের সংস্থার বর্তমান প্রধানের ছাড়পত্র প্রয়োজন। নিয়ম না মানলে পেনশন তুলতে সমস্যা হতে পারে। দেশের তিন বাহিনী এর অন্তর্ভুক্ত না হলেও, তাঁরাও বিধিনিয়ম মেনে চলবেন বলে প্রত্যাশা করা হয়।

(Feed Source: abplive.com)