
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ‘করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে’! এই মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়েই ভারত মরণ-বাঁচন ম্যাচে জ্বলে উঠল। খেলার আগে স্রেফ একটাই অঙ্ক ছিল। ভার্চুয়াল কোয়ার্টার ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে জিতলে বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল, আর হারলে পত্রপাট বিদায়। আর ভারত রেলায়, বুক ফুলিয়ে, ৫ উইকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে, একেবারে কলার তুলে চলে গেল শেষ চারে। একা কাঁধে করে ভারতের বৈতরণী পার করালেন কেরলের নায়ক সঞ্জু স্যামসন (Sanju Samson)। ৫০ বলে অপরাজিত ৯৭ রানের ইনিংস খেলে ভারতের কাপযুদ্ধের স্বপ্ন জিইয়ে রাখলেন তিনি। ৬৫ হাজার ৩৫৪ জন দর্শক সাক্ষী থাকলেন দুর্দান্ত ব্লকব্লাস্টার সানডের।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস
কলকাতায় রবিবার কোনও কালবৈশাখীর পূর্বাভাস ছিল না হাওয়া অফিসের তরফে। কিন্তু ইডেন গার্ডেন্সে যে বিধ্বংসী উইন্ডিজ ঝড় আসছে, তার আগাম আপডেট ছিল অনেক আগেই। ঠিক তেমনটাই ঘটল। ভার্চুয়াল কোয়ার্টার ফাইনালে সূর্যকুমার যাদব টস জিতে শে হোপদের ব্যাট করতে পাঠিয়ে ছিলেন। জোড়া টি-২০ বিশ্বকাপজয়ী প্রাক্তন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক ড্যারেন স্যামির, কোচিংয়ে এই ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের ক্ষুদ্রতম সংস্করণে হয়ে উঠেছে ভয়ংকর। বিশ্বকাপে ১৭০ থেকে ১৯০ রান করা তাদের কাছে জলভাত হয়ে গিয়েছে। এমনকী সুপার এইটে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে মেরুন জার্সিধারীরা ২৫৪ রান করেছিল। মরণ-বাঁচন ম্যাচেও উইন্ডিজ মারণ কামড় দিল। এদিন ব্যাট করতে নেমে ওপেনার হোপ ও রস্টন চেজের জুটি ৯ ওভারে তুলে দিয়েছিল ৬৮ রান। এই রানে যদিও ভারতের অনেকটাই অবদান রয়েছে। তৃতীয় ওভারে বরুণ চক্রবর্তী রানআউট মিস করেন। ওদিকে আবার পঞ্চম ওভারে, কভারে দাঁড়িয়ে অভিষেক শর্মা চেজের লোপ্পা ক্যাচ ফেলে দেন। ভারতকে শুরু থেকেই যেন প্রচণ্ড টেনসল গিলে খেয়ে ফেলেছিল। তবে বরুণের বদান্যতায় অবশেষে এই হোপ-চেজ জুটি ভাঙে। বরুণ অধিনায়কের স্টাম্প ছিটকে দেন। হোপ আউট হলেও ভারতের তেমন স্বস্তির কিছু ছিল না। কারণ এই ওয়েস্ট ইন্ডিজ টিমে একের পর এক পাওয়ার হিটারের ছড়াছড়ি। যাঁরা বলে বলে চার-ছক্কা হাঁকাতে পারেন। যে কেউ যখন তখন খেলার রং বদলে দিতে পারেন। হোপ ফেরার পর আসেন শিমরন হেটমায়ার। ১২ বলে ২৭ রান করে আউট হন তিনি। জসপ্রীত বুমরার বলে তিনি উইকেটের পিছনে নিক করে সঞ্জু স্যামসনের হাতে ধরা পড়ে যান। চারে আসেন শেরফানে রাদারফোর্ড। তবে চেজের সঙ্গে তাঁকে জুটি বাঁধতে দেননি বুমরা। ওই ওভারেই তিনি ফিরিয়ে দেন উইন্ডিজ ওপেনারকে। ২৫ বলে ৪০ রানে আউট হন চেজ। কভারে চালিয়ে খেলতে গিয়ে সূর্যকুমারের হাতে ধরা পড়ে যান তিনি। এরপর ১৫ নম্বর ওভারে রাদারফোর্ড আউট হন হার্দিক পাণ্ডিয়ার বলে। ৯ বলে ১৪ রান করে সঞ্জুর হাতে জমা পড়ে যান তিনি। ১৪.১ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর ছিল ৪ উইকেটে ১১৯। এরপর পাঁচে নামা রোভম্যান পাওয়েল (১৯ বলে ৩৪) ও ছয়ে নামা জেসন হোল্ডার (২২ বলে ৩৭) শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে দলের স্কোর ৪ উইকেটে ১৯৫ রানে নিয়ে যান। পঞ্চম উইকেটে ৩৫ বলে ৭৬ রান যোগ করেন তাঁরা।
ভারতের ইনিংস
১৯৬ করলেই হাতে মিলবে সেমি ফাইনালের টিকিট। এই শর্তেই রান তাড়া করতে নেমেছিলেন অভিষেক ও সঞ্জু। শেষ ম্যাচে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে রানে ফেরা অভিষেক ডু-অর-ডাই পরিস্থিতিতে ১১ বলে মাত্র ১০ রান করে আউট হন। আকিল হোসেনের বল তুলে মারতে গিয়ে হেটমায়ারের হাতে ক্যাচ তুলে দেন। তিনে নামা ঈশান কিষানও তথৈবচ। তিনিও অভিষেকের মতোই ১০ রান করে আউট হলেন। ৬ বলেই তাঁর ইনিংস শেষ হয়ে যায়। জেসন হোল্ডারের কোমরের উপরের শর্ট বল পুল করতে গিয়ে ঈশানও সেই হেটমায়ারের হাতে ক্যাচ তুলে দেন। ৫ ওভারের ভিতরেই ৪১ রানে ভারতের ২ উইকেট চলে যায়। রাতারাতি ভারতের রক্তচাপ বেড়ে যায়। এহেন ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের কাজ করার দায়িত্ব নেন চারে নামা সূর্যকুমার ও সঞ্জু। তৃতীয় উইকেটে ৫৭ রানের পার্টনারশিপ গড়েন তাঁরা। শামার জোসেফের বল তুলে খেলতে গিয়েই সূর্য বিপদ ডেকে আনেন। রাদারফোর্ডের হাতে ক্যাচ তুলে আউট হয়ে যান ১৬ বলে ১৮ রান করে। তখন ভারতের স্কোর ১০.২ ওভারে ৯৯/৩। তবে উইকেট কামড়ে পড়েছিলেন সঞ্জু। তাঁর দোসর হিসেবে খানিকক্ষণ জুড়েছিলেন তিলক ভার্মা। চতুর্থ উইকেটে তাঁরা ৪২ রান যোগ করেন। ১৫ বলে ২৭ রান করে তিলক ফিরে যান হোল্ডারের বলে হেটমায়ারের হাতে ক্যাচ তুলে। ভারতের স্কোর তখন ১৪.৪ ওভারে ৪ উইকেটে ১৪১। ভারতের জয়ের মঞ্চ প্রায় তৈরিই হয়ে গিয়েছিল। এরপর হার্দিক পাণ্ডিয়া ১৪ বলে ১৭ রান করে ফিরে গেলেও চাপ হয়নি। কারণ শিবম দুবে (৪ বলে অপরাজিত ৮) এসে বাকি কাজটা করে দেন। সঞ্জু এখনও পর্যন্ত জীবনের সেরা ইনিংস খেললেন এই কলকাতাতেই। ভারতের এই জয়ের একমাত্র কারিগর তিনিই। ১০৮ মিনিট ক্রিজে থেকে ৫০ বলে অপরাজিত ৯৭ রানের ইনিংস খেললেন ১২ চার ও ৪ ছক্কায়।
ইডেনে এদিন
এদিন সিএবি কর্তাদের উপস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি ম্যাথিউ হেইডেন ইডেন বেল বাজিয়ে খেলার শুভ সূচনা করেন। মাঠে এসেছিলেন আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ, বিসিসিআই সভাপতি মিঠুন মানহাস, সহ-সভাপতি রাজীব শুক্লা, বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া। সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁদের খোশমেজাজে গল্প করতেও দেখা যায়।
চূড়ান্ত চার
আগামী বুধবার ৪ মার্চ এই ইডেনেই প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউ জিল্যান্ড। পরের দিন ৫ মার্চ মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ভারত-ইংল্যান্ড দ্বিতীয় সেমি ফাইনাল খেলবে। সেমি ফাইনালের দুই জয়ী দলের ৮ মার্চ রবিবার খেতাবি লড়াইয়ে দেখা হবে অমদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে।
(Feed Source: zeenews.com)
