‘নির্লজ্জ আগ্রাসন’, খামেনেই হত্যা নিয়ে সরব চিন-রাশিয়া, এখনও নীরব বহু দেশ

‘নির্লজ্জ আগ্রাসন’, খামেনেই হত্যা নিয়ে সরব চিন-রাশিয়া, এখনও নীরব বহু দেশ
নয়াদিল্লি: ভেনিজ়ুয়েলার পর ইরানে সামরিক পদক্ষেপ আমেরিকার। ইজ়রায়েলের সঙ্গে মিলে মুহুর্মুহু আক্রমণ চালানো হয়েছে শনিবার। হত্যা করা হয়েছে আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে। সেই নিয়ে এবার নিন্দায় সরব হল চিন এবং আমেরিকা। অবিলম্বে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ করতে বার্তা দিয়েছে তারা। (China-Russia Condemn Ayatollah Killing)

শনিবার আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের হামলায় মৃত্যু হয় ৮৬ বছর বয়সি খামেনেইয়ের। সেই থেকে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিম এশিয়া। মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন হামলা, পাল্টা হামলা চলছেই। এমন পরিস্থিতিতে নিন্দায় সরব হয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। খামেনেইকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, তাতে নৈতিক চেতনা, আন্তর্জাতিক আইন বলতে যা রয়েছে, সব কিছুকে লঙ্ঘন করেছে বলে মত তাঁর। (Ayatollah Ali Khamenei)

ক্রেমলিনের তরফে পুতিনের যে বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে সমবেদনা জানান তিনি। বলেন, ‘অসামান্য রাষ্ট্রনেতা হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন আয়াতোল্লা আলিকামেনেই, যিনি রাশিয়া এবং ইরানের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনে ব্য়ক্তিগত ভাবে বিরাট অবদাব রেখে গিয়েছেন’।

পুতিন আরও বলেন, ‘আয়াতোল্লার হত্যায় মানবিকতার সমস্ত নৈতিকতা, সমস্ত আন্তর্জাতিক আইন নিন্দনীয় ভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে। আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল ভয়ঙ্কর খেলায় নেমেছে, যাতে ওই অঞ্চলে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে’।

চিনের বিদেশমন্ত্রকের তরফেও ইরানের উপর হামলার নিন্দা করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য, ‘আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের হাতে খামেনেইয়ের হত্যার তীব্র নিন্দা করছি আমরা। অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধের আবেদন জানাচ্ছি। আয়াতোল্লাকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, তাতে ইরানের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা লঙ্ঘিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে যত বিধিনিয়ম রয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জের, লঙ্ঘিত হয়েছে সব।’ রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সেরগেই লাভরভের সঙ্গে ফোনে কথাও বলেন চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই।  যেভাবে সার্বভৌম দেশের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করা হয়েছে, ইরানে ক্ষমতার পালাবদলে উস্কানি জুগিয়েছে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল, তা মেনে নেওয়া যায় না বলে ওয়াংকে জানিয়েছেন সেরগেই।

উত্তর কোরিয়ার তরফেও আয়াতোল্লাকে হত্যার নিন্দা করা হয়েছে। তারা জানিয়েছে, ইরানে যে ঘটনা ঘটানো হয়েছে, তা ‘বেআইনি’ এবং ‘আগ্রাসন’। পিয়ংইয়ং বলে, ‘নির্লজ্জ, মাফিয়ার মতো আচরণ করেছে দুই সহযোগী দেশ। নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করতে, আধিপত্যবাদী উচ্চাকাঙ্খা পূরণে সামরিক বাহিনীর অপব্যবহার করা হয়েছে’।

প্যালেস্তাইনের সংগঠন হামাসের শাখা সংস্থা Izz a-dine Al-Qassam Brigades বলে, “দশকের পর দশক ধরে ইসলামি প্রজাতন্ত্র আমাদের মানুষজনকে যে সাহায্য় জুগিয়েছে, আামাদের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে যে সহযোগিতা জুগিয়েঠে…ওঁর (খামেনেই) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ওঁর তত্ত্বাবধানেই হয়েছে সবটা’। খামেনেইকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, তাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলেও উল্লেখ করেছে তারা।

পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফেরানোর পক্ষে সওয়াল করলেও, অন্য পশ্চিমি দেশগুলি আয়াতোল্লা হত্যা বা ইরানের উপর হামলা নিয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত রেখেছে নিজেদের। ভারতের তরফেও কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

(Feed Source: abplive.com)