জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকালমৃত্যুতে যখন গোটা টলিউড শোকস্তব্ধ এবং আর্টিস্ট ফোরাম বিচার চেয়ে এফআইআর করার পথে হাঁটছে, ঠিক তখনই এক বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে আনলেন অভিনেতা জীতু কমল। জীতু সরাসরি তোপ দাগলেন আর্টিস্ট ফোরামের ‘উদাসীনতা’ ও ‘দ্বিচারিতা’র বিরুদ্ধে। তাঁর দাবি, ফোরাম যদি আগে থেকে সক্রিয় হত, তবে হয়তো রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়কে আজ অকালে চলে যেতে হত না।
অভিনেতার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৫ই মার্চ চন্দননগরের গঙ্গার ধারে ‘অপরিণত’ ও ‘অপেশাদার’ প্রোডাকশন হাউসের পক্ষ থেকে চরম প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও তাঁকে গঙ্গার মাঝখানে নৌকায় শুটিং করার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। প্রবল ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে সেই ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে অস্বীকার করায় পরের দিন, অর্থাৎ ১৬ই মার্চ শুটিংয়ের শেষ দিনে তাঁকে গালিগালাজ করা হয় এবং এমনকি গায়ে হাত দেওয়ার পর্যন্ত চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হল, এই অপেশাদার আচরণ এবং নিজের অসুস্থতার কথা জানিয়ে ওই দিনই আর্টিস্ট ফোরামকে বিস্তারিত মেইল করেছিলেন তিনি। কিন্তু ফোরামের পক্ষ থেকে একটি ফোন পর্যন্ত আসেনি। অভিনেতার কথায়, “সেক্রেটারি নিজে উপস্থিত ছিলেন যখন আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি, কিন্তু তিনি চুপ করে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হসপিটাল থেকে ফিরে যখন আবারও আমাকে দ্বিগুণ খারাপ পরিবেশে কাজ করানো হচ্ছিল, তখনও ফোরাম নীরব ছিল।”
আর্টিস্ট ফোরামের বর্তমান সক্রিয়তা এবং এফআইআর করার সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “মৃত শিল্পীর পায়ে ফুল দেওয়া বা এখন এফআইআর করা— এর চেয়ে বেশি কিছু আমি আশা করি না। অথচ আমি যখন কমপ্লেন করেছিলাম, সেদিন যদি আপনারা গুরুত্ব দিতেন, তবে হয়তো রাহুলদার সাথে এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটতই না।”
প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্যের রেশ টেনে ওই অভিনেতা প্রশ্ন তুলেছেন, শিল্পীরা যখন বিপদে পড়েন বা কাজের পরিবেশে হেনস্থার শিকার হন, তখন কেন ফোরাম ‘কাঁচকলা’ দেখায়? কেন জীবিত অবস্থায় একজন শিল্পীর সুরক্ষার চেয়ে মৃত্যুর পর বিচার চাওয়াটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে? এই প্রশ্ন এখন টলিউডের অন্দরে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
(Feed Source: zeenews.com)
