
ম্যাচের সেরাও হয়েছেন মুকুল। বলেছেন, ‘আমার সফর শুরু হয়েছিল আমি জন্মানোর আগে থেকেই। আমার বাবা স্বপ্ন দেখত তার ছেলে একদিন ক্রিকেট খেলবে। তবে সেই সময় আমাদের আর্থিক অবস্থা ভাল ছিল না। তাই আমি খুব ছোটবেলা ক্রিকেট শুরু করতে পারিনি। আমি খেলা শুরু করি ১২-১৩ বছর বয়সে। সেই সময়ে খুব বেশি অ্যাকাডেমি ছিল না। এসবিসি ক্রিকেট অ্যাকাডেমি তখন সবে খুলেছে। সেখানে আমি ভর্তি হয়ে ৫-৬ বছর খেলা শিখি। তারপর জয়পুরে চলে যাই কারণ, উঁচু পর্বে খেলতে হলে অন্যত্র যেতেই হতো।’
ক্রিকেটের টানে বাড়ি ছেড়েছেন। মুকুল বলছেন, ‘গত চার বছর ধরে জয়পুরে প্র্যাক্টিস করছি। গত বছর উপলব্ধি করি, ক্রিকেট খুব দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। তাই আমার আরও বেশি ম্যাচ প্র্যাক্টিস দরকার ছিলI আমি ৩-৪ মাস গুরুগ্রামে ছিলাম ও দিল্লিতে ম্যাচ খেলছিলাম। দ্রুত গতির ক্রিকেটের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সেটা আমাকে খুব সাহায্য় করেছে। এই হল আমার সফর।’
প্রত্যাশার চাপ ছিল বাড়িরও। মুকুল বলছেন, ‘উত্তর প্রদেশের সঙ্গে একটা অনূর্ধ্ব ১৯ পর্বের ম্যাচ বেশ কম রানের খেলা হয়েছিল। সেই ম্যাচে কেউ রান পায়নি আমি ছাড়া। তখনই আমার বাবা আমাকে বলেছিলেন যে, তিনি আশাবাদী আমি বড় পর্বে ভাল খেলব। এটাই চাপ। প্রত্যাশার চাপ। তবে আমি বিশ্বাস করি ঈশ্বর আমাকে সুযোগ দিয়েছেন। আমার দক্ষতা রয়েছে। এটাই সুযোগ নিজে বড় কিছু করা বা নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার। আমি তাই সুযোগের দিকেই মনোনিবেশ করেছি, প্রত্যাশার চাপ নিয়ে ভাবিনি। আমার পরিকল্পনা ছিল সহজ। শেষ পর্যন্ত থাকতে চেয়েছিলাম। আমার বিশ্বাস ছিল শেষ পর্যন্ত নট আউট থাকতে পারলে ম্যাচ জিতিয়ে দেব। শুধু নিজের শটগুলো খেলায় মনঃসংযোগ করেছিলাম। আমার পছন্দের জায়গায় বল এলেই মারব, তাতে যাই হোক না কেন, এই ছিল পরিকল্পনা। আমি আগের দুই ম্যাচে কোনও ছক্কা মারতে পারিনি। তাই প্রথম ছক্কাটা খুব স্পেশ্যাল। হেলিকপ্টার শটে মারা ছক্কাটাও ভাল। তবে প্রথম ছক্কাটা স্পেশ্যাল। আমি ঠিকই করে নিয়েছিলাম যে, বোলার যদি ৪টে বল ভালও করে, একটা আমার জায়গায় দেবেই আর সেটাতেই ছক্কা মারব।’
ছোট থেকেই আগ্রাসন মন্ত্র। সেই মন্ত্রেই নাইটদের হারালেন মুকুল।
(Feed Source: abplive.com)
