বিতর্কের ‘৭২ ঘণ্টা’! অনির্বাণদের কাজে ফেরা নিয়ে ভিন্ন মত প্রসেনজিতের? দেবের সঙ্গে বিরোধ?

বিতর্কের ‘৭২ ঘণ্টা’! অনির্বাণদের কাজে ফেরা নিয়ে ভিন্ন মত প্রসেনজিতের? দেবের সঙ্গে বিরোধ?
  • নির্বাচনের পর আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আশা।

কলকাতা: বিতর্কে সেই ৭২ ঘণ্টা। রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Banerjee) মৃত্যুর পরে একাধিক বিষয় নিয়ে টানা বৈঠক চলছে টলিউডে। শিল্পীদের সুরক্ষার জন্য ও তাঁদের কাজের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছে আর্টিস্ট ফোরাম। চলছে আলাপ-আলোচনা। তবে এই সমস্ত বিষয়ের পাশাপাশি, আরও একটি বিষয়কে তুলে এনেছে দেব (Dev)। সেটা হল, টলিউডের আলিখিত ‘ব্যান’। এ কথা সবারই জানা যে, ডিরেক্টর্স গিল্ড ও ফেডারেশনের মধ্যে কিছু মতভেদ ও পরবর্তীকালে কিছু আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ার কারণে, কিছু শিল্পী টলিউডে কাজ করতে পারছেন না। তাঁদের মধ্যে অন্যতম নাম অনির্বাণ ভট্টাচার্যের (Anirban Bhattacharya)। তালিকায় রয়েছে ঋদ্ধি সেন (Riddhi Sen)-এর নাম ও। সাংবাদিক সম্মেলনের মধ্যেই দেব জানান, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় তাঁকে কথা দিয়েছেন যে, যে সমস্ত শিল্পীরা কাজ করতে পারছেন না, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তাঁদের কাজে ফেরাবেন তিনি।

বিতর্কের ‘৭২ ঘণ্টা’

এর পরের দিনই দেব সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি আইনি চিঠি শেয়ার করে নেন। সেখানে বলা হয়েছে, ফেডারেশনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি ডিরেক্টর্স গিল্ড। রাজি মামলা তুলে নিতেও। দেব বার্তা দেন যে, আইনি সমস্যা মিটে গেলে, শিল্পীদের আর কাজে ফেরায় কোনও সমস্যাই থাকবে না। তবে স্বরূপ বিশ্বাস এই বিষয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে একাধিকবার বলেন, ৭২ ঘণ্টা সময়সীমার মধ্যে সমস্ত শিল্পীকে কাজে ফেরানো সম্ভব নয়। বেশ কিছু জটিলতা রয়েছে যা এত তাড়াতাড়ি মেটানো সম্ভব নয়।

অনির্বাণের কাজে ফেরার ঘোষণা

তবে ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই ‘বড় ঘোষণা’ করে ফেলেন দেব। তিনি ঘোষণা করেন, তাঁর পুজোর ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকছেন অনির্বাণ। সেই মর্মে অনির্বাণকে নিয়ে একটি ভিডিও পর্যন্ত পোস্ট করেন তিনি। এর ফলে অনেকেই মনে করেন, তাহলে ‘ব্যান’ থাকা শিল্পীরা ফের কাজে ফিরতে পারবেন। এর পরেরদিন দেব আরও একটি ভিডিও করে জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনও শিল্পীর জন্য লড়াই করছেন না। একজন অভিনেতা বা পরিচালক কাজ করতে না পারলে, অনেক টেকনিশিয়ান্স ও কাজ হারাতে পারেন। যাতে সমস্ত টেকনিশিয়ান্সরা কাজ পান, টলিউডে কাজ বাড়ে, সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

প্রসেনজিৎ-এর ভিন্ন মত

তবে রবিবার, আর্টিস্ট ফোরামের মিটিংয়ের পরে, অন্য সুর শোনা যায় প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের গলায়। কোনও আলোচনা ছাড়াই দেবের আইনি চিঠি সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরাকে তিনি সমর্থন করেননি, সেই ইঙ্গিত দেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, তিনি নিজেই ‘ব্যান’ কালচারের বিরোধী এবং দেবকে সমর্থন করেন। তবে ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার মতো সহজ নয় বিষয়টি। তার ওপর সামনে নির্বাচন। নির্বাচন হয়ে গেলে, আলোচনা মারফত সমাধানসূত্র বেরবে এই বিষয় নিয়ে আশাবাদী তিনি। দেবের ‘৭২ ঘণ্টা’-র সময়সীমাকে সমর্থন না করলেও, প্রসেনজিৎ এ কথা স্পষ্টই জানান, দেবের উদ্দেশ্য যে সৎ, তা নিয়ে তাঁর মনে কোনও প্রশ্ন নেই।

(Feed Source: abplive.com)