
Kolkata Derby: শেষ মুহূর্তে পরপর গোল! রুদ্ধশ্বাস কলকাতা ডার্বি ড্র হল। তবুও খেতাবি দৌড়ে এগিয়েই থাকল ইস্টবেঙ্গল। বহু দিন পর ডার্বি হল হাড্ডাহাড্ডি
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আইএসএলের (ISL) ইতিহাসে এই প্রথমবার কলকাতা ডার্বির (Kolkata Derby) ওপরই নির্ভর করছিল খেতাব ভাগ্য। বেনজির বড় ম্যাচে রবিবাসরীয় যুবভারতীতে যে দল জিতবেই তারাই হয়ে যাবে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার প্রবল দাবিদার। এমন আবহে মুখোমুখি হয়েছিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট ও ইস্টবেঙ্গল (Mohun Bagan vs East Bengal)। খেলতে নামার আগে দুই প্রধানেরই ১১ ম্যাচে ২৭ পয়েন্ট ছিল ঝুলিতে। লাল-হলুদ ও সবুজ-মেরুনের সামনে ছিল সহজ সমীকরণ। ডার্বি ড্র করলেই ইস্টবেঙ্গলের প্রথমবার আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হবে। কিন্তু মোহনবাগানকে জিততেই হবে এই মহারণ। ঘটি-বাঙালের চিরাচরিত প্রেস্টিজ ফাইট শেষ হল ১-১ ব্যবধানে। আর পয়েন্ট ভাগাভাগি করেও চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দৌড়ে এগিয়েই থাকল মশালবাহিনী…
প্রথমার্ধে কেমন খেলল দুই দল
পাঁচদিন আগেই কলকাতা ময়দান হারিয়েছে তার বিশাল বটবৃক্ষ। ৭৮ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছিলেন টুটু বসু। প্রয়াত মোহনবাগান ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতির স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেই শুরু হয় এদিনের মহারণ। ‘বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচ্যগ্র মেদিনী’! জিততে মরিয়া ইস্ট-মোহন ঠিক এই মন্ত্রেই রবিবাসরীয় ডু-অর-ডাই ডার্বি শুরু করেছিল যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে। কার্যত ফাইনালের প্রথমার্ধে থাকল মুহুর্মুহু আক্রমণ থেকে শুরু করে অ্যাটাক-কাউন্টার অ্যাটাকের খেলা! অবশ্যই সুযোগ হাতছাড়ার খেসারত। বিরতির আগে ছিল একেবারে হাড্ডাহাড্ডি চোখ জোড়ানো বড় ম্যাচে দুই দলের আগ্রাসী ফুটবল। প্রথম ১০ মিনিটে দুই দল মিলে তিনবার গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল। রুদ্ধশ্বাস-দমবন্ধকর ফুটবলই উপহার দিচ্ছিল দুই প্রধান। তবে দুই দলের ফুটবলাররাই যদি এদিন তাঁদের পাওয়া সুযোগগুলি কাজে লাগাতে পারতেন, তবে স্কোরলাইন কখনই এরকম দেখাত না! অনেকটাই আলাদা হত। তা নিশ্চিত ভাবে বলা যায়। আর সেটাই হওয়া উচিত ছিল। দুই দল ৯টি কর্নার আদায় করেও শেষ পর্যন্ত কনভার্টই করতে পারেনি! এমনকী গোলমুখী ১৫ শটও কাজে লাগেনি! ৬৩ শতাংশ বলের দখল মোহনবাগানের থাকলেও ইস্টবেঙ্গলের অ্যান্টন সোবার্গ ও বিপিন সিং সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেছেন! এছাড়া অনিরুদ্ধ থাপার নেওয়া একটি দুর্দান্ত শট প্রভসুখন গিল কোনও মতে ঠেকিয়ে দিয়েছেন। দেখতে গেলে অস্কার ব্রুজোঁর শিষ্যরাই এগিয়ে থেকে মাঠ ছাড়তে পারতেন।
দ্বিতীয়ার্ধে কেমন খেলল দুই দল
দ্বিতীয়ার্ধেও দুই দল একাধিক গোলের সুযোগ নষ্ট করল। তবে খেলার সব রং-রূপ দুই প্রধান রেখে দিয়েছিল শেষ লগ্নে। ৮৪ মিনিটে ইস্টবেঙ্গল জনতাকে সেলিব্রেশনের জোয়ারে ভাসিয়ে দিয়েছিলেন বিষ্ণুর পরিবর্তে ৬৩ মিনিটে নামা এডমন্ড লালরিনডিকা। মিগুয়েলের থেকে একটি মাপা বল পেয়ে এডমন্ড ঠান্ডা মাথায় কাইথকে পরাস্ত করে বল জালে জড়িয়ে দেন। সল্ট লেক স্টেডিয়ামে পাগল করে দেন তিনি। বাঁধনভাঙা উচ্ছ্বাসে নিজের জার্সি খুলে ফেলে হাতে তুলে নেন কর্নার ফ্ল্যাগ। তবে ইস্টবেঙ্গলের আনন্দ দীর্ঘক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ঠিক ৯০ মিনিটে রবসনের কর্নার থেকে জেসন কামিংস হেডে গোল করে সমতা ফেরান। কামিংস নেমেছিলেন ৭৬ মিনিটে টম অলড্রেডের জায়গায়। রেফারি নির্ধারিত সময়ের পর আরও ৭ মিনিট যোগ করেছিলেন। তবে সেই সময়ে আর কোনও দলই গোল করতে পারেনি। সংযুক্তি সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে গোলের সামনে বলে পা লাগিয়ে ছিলেন জেমি ম্যাকলারেন। তবে গিলকে পরাস্ত করতে পারেননি তিনি।
পয়েন্ট ভাগাভাগি করেও খেতাবি দৌড়ে এগিয়েই থাকছে ইস্টবেঙ্গল। ড্রয়ের পর ১২ ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলের ঝুলিতে এখন ২৩ পয়েন্ট। মশালবাহিনীই চলে গেল লিগের শীর্ষে। সমসংখ্যক ম্যাচে সমান পয়েন্ট মোহনবাগানেরও। তবে গোলপার্থক্যে গঙ্গাপারের ক্লাব দুয়ে। আগামী বৃহস্পতিবার ইস্টবেঙ্গলের শেষ ম্যাচ ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে। জিতলেই প্রথমবারের মতো আইএসএল চ্যাম্পিয়ন লেসলি ক্লডিয়াস সরণির শতাব্দী প্রাচীন ক্লাব। জিতলেই খেতাব উঠবে অস্কারের টিমের হাতে। তবে হারলেই গল্পটা বদলে যাবে। তখন অন্য দলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। ওদিকে ভারতসেরা মোহনবাগানও কিন্তু খেতাবের দৌড়ে রয়েছে। যদিও সবটা তাদের হাতে নেই। স্পোর্টিং দিল্লিকে হারালেও তাদের সেই ইস্টবেঙ্গল ম্যাচের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। লাল-হলুদ পয়েন্ট নষ্ট করলেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ থাকবে সবুজ-মেরুনের কাছে। তবে ইস্টবেঙ্গল জিতলে আর কোনও কিছুই তখন হিসেবে থাকবে না।
মোহনবাগান প্রথম একাদশ: বিশাল কাইথ , শুভাশিস বোস, আলবার্তো রড্রিগেজ, টম অলড্রেড, অভিষেক টেকচাম, অনিরুদ্ধ থাপা, আপুইয়া, সাহাল আবদুল সামাদ, লিস্টন কোলাসো, মনবীর সিং ও জেমি ম্যাকলারেন
ইস্টবেঙ্গল প্রথম একাদশ: প্রভসুখান গিল, আনোয়ার আলি, কেভিন সিবিলে, পিভি বিষ্ণু, মিগুয়েল ফিগুয়েরা, মহম্মদ রাকিপ, জিকসন সিং, জয় গুপ্তা, বিপিন সিং, মহম্মদ রশিদ ও অ্যান্টন সোবার্গ
(Feed Source: zeenews.com)
