)
Pakistan News: ‘হ্যাঙ্গর’ নামটি ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আবার সেই একই নামের সাবমেরিন বঙ্গোপসাগরে মোতায়েন পাকিস্তানের মনস্তাত্ত্বিক চাল হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: চিন থেকে করাচি বন্দরে পৌঁছেছে পাকিস্তানের প্রথম ‘হ্যাঙ্গর’ (Hangor-class) সাবমেরিন। আর তারপরই সামনে এসেছে পাকিস্তানের ধূর্ত প্ল্যান! বঙ্গোপসাগরে চিনা ‘হ্যাঙ্গর’ সাবমেরিন মোতায়েন করতে চলেছে পাকিস্তান। ১৯৭১ সালের পর এই প্রথম পাক নৌবাহিনী বঙ্গোপসাগরে নিজেদের নিয়মিত উপস্থিতি বজায় রাখতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করছে। যা স্বাভাবিকভাবেই ভারতের জন্য কৌশলগত দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।
‘হ্যাঙ্গর’ নামটি ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৭১ সালের যুদ্ধে পাকিস্তানের তৎকালীন ‘পিএনএস হ্যাঙ্গর’ সাবমেরিনটি ভারতের ‘আইএনএস খুকরি’ যুদ্ধজাহাজকে ডুবিয়ে দিয়েছিল। এটি ছিল স্বাধীনতার পর প্রথম কোনও ভারতীয় যুদ্ধজাহাজ-ডুবির ঘটনা। যদিও তারপরেও ১৯৭১-এর যুদ্ধে পাকিস্তান হারে ও ভারত জেতে। পাকিস্তান তার পূর্বাঞ্চল (বর্তমান বাংলাদেশ)-কে হারায়। কিন্তু আবার সেই একই নামের সাবমেরিন বঙ্গোপসাগরে মোতায়েন পাকিস্তানের মনস্তাত্ত্বিক চাল হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পাক নৌবাহিনীর কমান্ডার ওমর ফারুক সম্প্রতি শ্রীলঙ্কার কলম্বো বন্দরে এক অনুষ্ঠানে বলেন, পাক নৌবহরে হ্যাঙ্গর-শ্রেণির সাবমেরিনের অন্তর্ভুক্তি তাদের দূরবর্তী বঙ্গোপসাগরেও আধিপত্য বিস্তারের সক্ষম করে তুলবে। তিনি এটিকে একটি ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবেও উল্লেখ করেন। পাকিস্তান চিন থেকে মোট আটটি এই ধরনের সাবমেরিন কেনার পরিকল্পনা করেছে। এই সাবমেরিনগুলোতে রয়েছে আধুনিক ‘এয়ার-ইন্ডিপেনডেন্ট প্রপালশন’ (AIP) প্রযুক্তি, যার ফলে এই সাবমেরিনগুলি দীর্ঘ সময় জলের নিচে লুকিয়ে থাকতে পারবে ও রাডারে সহজে ধরাও পড়বে না। বিশ্লেষকদের মতে, এগুলো ভবিষ্যতে পাকিস্তানের সমুদ্রপথে পারমাণবিক অস্ত্র বহনের প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও ব্যবহার হতে পারে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে সম্পর্ক ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় থেকেই দুই দেশের মধ্যে সামরিক ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ গতি পেয়েছে। ১৯৭১ সালের পর প্রথমবারের মতো করাচি ও চট্টগ্রামের মধ্যে সরাসরি নৌ-বাণিজ্য শুরু হয়েছে। এমনকি ২০২৫-এর নভেম্বরে পাকিস্তানের যুদ্ধজাহাজ ‘পিএনএস সাইফ’ চট্টগ্রাম বন্দরে চার দিনের সফরেও আসে।
যদিও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যে কোনও দেশের সামরিক জাহাজ আন্তর্জাতিক জলসীমায় চলাচল করতে পারে, কিন্তু বঙ্গোপসাগর বরাবরই ভারতের জন্য একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল কৌশলগত অঞ্চল। এখানে ভারতের পূর্ব নৌ কমান্ড এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। ফলে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতা ও বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তানি সাবমেরিনের নিয়মিত টহল ভারতের জন্য স্বাভাবিকভাবেই নিরাপত্তা সংক্রান্ত নতুন চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের।
