তেল-মশলা নয়, হার্টের আসল শত্রু ‘এরা’, রোজের এই কয়েকটা চেনা খাবারই ‘কালপ্রিট’, ধমনীতে ব্লক, বাড়াচ্ছে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি

তেল-মশলা নয়, হার্টের আসল শত্রু ‘এরা’, রোজের এই কয়েকটা চেনা খাবারই ‘কালপ্রিট’, ধমনীতে ব্লক, বাড়াচ্ছে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি

Heart Silent Killer: আমরা মনে করি হার্ট খারাপ হওয়াএ জন্য তেল-মশলাদার খাবার শুধু দায়ী। কিন্তু এই ধারণা ভুল। হার্টের আসল শত্রু অন্য কেউ! আপনি রোজ যে খাবারগুলো খাচ্ছেন, তাদের মধ্যেই লুকিয়ে আসল কালপ্রিট। কোন কোন খাবার হার্টের অসুখের কারণ? জানাচ্ছেন চিকিৎসক

বদলে যাওয়া জীবনযাপন, মানসিক চাপ, স্ট্রেস এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে আজকাল ঘরে হরে হার্টের রোগ! তরুণ প্রজন্মর মধ্যে উদ্বেজনকভাবে বাড়ছে হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা। অনেকেই মনে করেন, শুধু তেল-চর্বিযুক্ত খাবারই হার্টের ক্ষতি করছে। কিন্তু আদতে তা নয়। আমাদের রান্নাঘরেই রয়েছে এমন অনেক চেনা খাবার, যা হার্টকে কুরে কুরে খাচ্ছে। তাই হার্ট সুস্থ রাখতে শুধু কম তেল খেলেই হবে না, রোজের খাদ্যাভ্যাসের দিকেও নজর দিতে হবে, এমনটাই বলছেন চন্দনগরের মেডিকভার হাসপাতালের সিনিয়র কার্ডিওলজিস্ট ডা. ভৈরবী চুন্দুরি

চন্দনগরের মেডিকভার হাসপাতালের সিনিয়র কার্ডিওলজিস্ট ডা. ভৈরবী চুন্দুরি-র মতে, আমরা প্রতিদিন যে চিনি ও রান্নার তেল ব্যবহার করি, সেগুলিই অজান্তে হৃদযন্ত্র ও রক্তনালির ক্ষতি করছে। তাহলে হার্টের আসল শত্রু কে? আদতে হার্ট ফেলিওর ও অন্যান্য হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায় কোন কোন খাবার? রান্নার তেল ব্যবহার করার সময় কোন কোন নিয়ম মেনে চলা জরুরি? জানালেন ১৯ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ।

হার্টের আসল শত্রু চিনি ও অস্বাস্থ্যকর ফ্যাট–
ডা. ভৈরবী চুন্দুরির মতে, অতিরিক্ত চিনি এবং অস্বাস্থ্যকর ফ্যাট-ই হার্টের অন্যতম বড় শত্রু। তবে মনে রাখতে হবে, সব ধরনের ফ্যাটই ক্ষতিকর নয়। শরীরের জন্য উপকারী কিছু স্বাস্থ্যকর ফ্যাটও রয়েছে, যা পরিমিত পরিমাণে খেতে হয়।

ভালো ফ্যাট বনাম খারাপ ফ্যাট:
ফ্যাটের মধ্যে এইচডিএল (HDL) কোলেস্টেরল-কে ‘ভালো কোলেস্টেরল’ বলা হয়, কারণ এটি হার্টের জন্য উপকারী। অন্যদিকে এলডিএল (LDL) কোলেস্টেরল-কে ‘খারাপ কোলেস্টেরল’ বলা হয়, যা ধমনীতে চর্বি জমিয়ে হার্ট ফেলিওর ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়।
এছাড়া শরীরে ট্রাইগ্লিসারাইড, মোট কোলেস্টেরল এবং নন-এইচডিএল (Non-HDL) কোলেস্টেরল-এর মাত্রা বেড়ে গেলে হার্টের জন্য ক্ষতিকর, লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ায় হৃদরোগের ঝুঁকি।

চিনি:
ডা. ভৈরবী চুন্দুরির মতে,বেশি চিনি খেলে শরীরের মেটাবলিজমের উপর খারাপ প্রভাব পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে তা রক্তনালির ভিতরের সূক্ষ্ম আবরণ অর্থাৎ এন্ডোথেলিয়াম-এর ক্ষতি করে। এন্ডোথেলিয়াম ক্ষতিগ্রস্ত হলে রক্তনালিতে চর্বি জমে প্লাক তৈরি হওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুততর হয়, ফলে হার্টে রক্ত সরবরাহকারী ধমনিতে ব্লকেজ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। বাড়ে হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা।

রান্নার তেল—কোল্ড-প্রেসড না রিফাইন্ড?–হার্ট ভাল রাখতে
রান্নার জন্য সঠিক তেল বাছতে হবেই। ডা. ভৈরবী চুন্দুরির মতে, বাজারে যে-সমস্ত তেল বিক্রি হয়, তার সব কটাই হার্টের জন্য ভাল নয়। রান্নার জন্য কোল্ড-প্রেসড তেল বা ভাল মানের রিফাইন্ড তেল ব্যবহার করা তুলনামূলকভাবে উপকারী। তবে পাম অয়েল ও ডালডা (হাইড্রোজেনেটেড ভেজিটেবল ফ্যাট) একেবারেই এড়িয়ে চলুন।

যেসব তেল বা চর্বি সাধারণ ঘরের তাপমাত্রায় জমে শক্ত হয়ে যায়, সেগুলিতে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ বেশি থাকে। এইসব চর্বি অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে রক্তে এলডিএল (খারাপ) কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়তে পারে। দীর্ঘমেয়াদে ধমনীতে চর্বি জমে হার্ট অ্যাটাক ও অন্যান্য হার্টের অসুখের ঝুঁকি বাড়ে।

রান্নার তেল বদলের ‘গোল্ডেন রুল’ কী?
— ডা. ভৈরবী চুন্দুরির মতে, শরীরে বিভিন্ন ধরনের উপকারী ফ্যাটি অ্যাসিডের ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রতি ১–২ মাস অন্তর রান্নার তেলের ধরন পরিবর্তন করুন। যেমন ধরুন, এক মাস সূর্যমুখী তেল ব্যবহার করলেন, পরের মাসে রাইস ব্র্যান তেল খান। তার পরের মাসে চিনাবাদামের তেল ব্যবহার করুন। এভাবে বিভিন্ন ধরনের তেল পর্যায়ক্রমে ব্যবহার করলে শরীর প্রতিটি তেলের ভিন্ন ভিন্ন পুষ্টিগুণ পাবে। একেক ধরনের তেলে ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৬-এর মতো অপরিহার্য ফ্যাটি অ্যাসিডের পরিমাণ আলাদা হয়। তাই গোটা বছর একই তেল না খেয়ে, ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নানা কিসিমের তেল খান।

রান্নার তেল ব্যবহারে এই ৩ ভুল কখনও করবেন না–
ডা. ভৈরবী চুন্দুরির মতে, রান্নার তেলের বোতল বা প্যাকেট সরাসরি রোদে রাখবেন না। দীর্ঘ সময় সূর্যের আলো ও অতিরিক্ত তাপের সংস্পর্শে থাকলে তেলের গুণমান নষ্ট হয়ে যায়। পাশাপাশি অক্সিডেশনের কারণে তেলে থাকা কিছু উপকারী উপাদান গুণ হারিয়ে ফেলে। তাই রান্নার তেল সবসময় ঠান্ডা, শুকনো এবং অন্ধকার জায়গায় রাখুন।

বারবার একই তেল ব্যবহার করা কেন ক্ষতিকর?–
ডা. ভৈরবী চুন্দুরির মতে, রান্না হয়ে যাওয়ার পর কড়াইয়ে বা প্যানে পড়ে থাকা তেল বারবার গরম করে ব্যবহার করা ক্ষতিকর। প্রতিটি রান্নার তেলের একটি নির্দিষ্ট ‘স্মোক পয়েন্ট’ থাকে। এই তাপমাত্রার বেশি গরম হলে তেলের রাসায়নিক গঠনে পরিবর্তন আসে, এবং ক্ষতিকর টক্সিক যৌগ তৈরি হয়। এই তেল হার্টের অসুখ বাঁধাবেই।

(Feed Source: news18.com)