শুধুমাত্র টাকার জন্য সিনেমা করে দর্শকদের বিরক্তির পাত্র হব না: টোটা রায়চৌধুরী

শুধুমাত্র টাকার জন্য সিনেমা করে দর্শকদের বিরক্তির পাত্র হব না: টোটা রায়চৌধুরী

 

তোর্ষা ভট্টাচার্য্য, কলকাতা: সৃজিত মুখোপাধ্যায় (Srijit Mukherjee) যখন ফোনে তাঁকে এই চরিত্র অফার করেছিলেন, বেশ চমকেই উঠেছিলেন তিনি! কিংবদন্তি সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে নাকি তাঁর মুখের মিল রয়েছে! তবে পরিচালকের ওপর সম্পূর্ণ ভরসা রয়েছে তাঁর। আর সেই কারণেই, চোখ বন্ধ করেই ভরসা করেছিলেন সৃজিতকে। কিন্তু প্রথমবার নিজেকে শরৎচন্দ্র হিসেবে দেখে কেমন লেগেছি তাঁর? ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ (Emperor vs Sarat Chandra) মুক্তির আগে, নিজের মনের কথা বললেন অভিনেতা টোটা রায়চৌধুরী (Tota Roy Choudhury)।

পর্দায় নিজেকে শরৎচন্দ্র হিসেবে দেখে কেমন লেগেছিল টোটার?

সিনেমার যে ঝলক ইতিমধ্যেই দর্শক দেখে ফেলেছেন, সেখানে টোটার লুক বেশ প্রশংসিত হয়েছে। অভিনেতার নিজের কেমন লেগেছিল? টোটা বলছেন, ‘আমি প্রথম আমার সম্পূর্ণ লুকটা দেখেছি ডাবিংয়ের সময়ে। তবে মানুষের থেকে যে প্রতিক্রিয়া পেয়েছি, তা সত্যিই আমায় ছুঁয়ে গিয়েছে। আল্পুত বললেও কম বলা হবে, আমি কৃতজ্ঞ। টিজারের নিচে এত প্রশংসা দেখে মনে হচ্ছিল, ভাল কাজ করলে বাঙালিরা এখনও তার কদর করেন।’

‘খারাপ সময়েও নিজের ওপর বিশ্বাস টলেনি’

এতদিনে কি টোটাকে টলিউড আরও সিরিয়াসলি ভাবছে? প্রশ্ন শুনে প্রথমেই হাসলেন তিনি। তারপরে বললেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, সবারই একটা সময় থাকে। আমার সময়টা একটু পরে এসেছে, কিন্তু এসেছে। যখন খুব খারাপ সময় পেরিয়েছি, তখনও নিজের প্রতি বিশ্বাস হারাইনি। আমি জানি আমার স্কিল সেটটা ভাল। আমি জানি, আমার সমসাময়িকদের থেকে আমি কোনও অংশে কম নই। এই বিশ্বাসটা আমার বরাবর ছিল। আমি ফুটবল খেলে বড় হওয়া ছেলে। বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচাগ্র মেদিনী, এই কথায় বিশ্বাসী। যেহেতু ফুটবল খেলেছি, আমি জানি ৮০ মিনিটের মাথায় ২-০ গোলে হারতে হারতেও কোনও দল ৩ গোলে জিতে যেতে পারে। আমি আশা ছাড়িনি। এখন দেখছি, মানুষ আমার ওপর ভরসা করতে পারছেন।’

‘শুধু টাকার জন্য কাজ করে দর্শকদের বিরক্তির পাত্র হয়ে উঠতে চাই না’

শুধু দর্শক নয়, টোটার ওপর পরিচালকেরাও ভরসা করতে পারছেন। যে ছবিতে তাঁকে দেখা যাচ্ছে, তার বাইরেও নিশ্চয়ই অনেক সিনেমার অফার আসছে, যেগুলি তিনি ফেরাচ্ছেন। টোটা বলছেন, ‘কিছু ছবি ইচ্ছাকৃতই করি না। এমন একটা সময় এসেছে, যখন মানুষ খুব বেশি দেখলে বিরক্ত হয়ে যাচ্ছেন। তাই আমি একটু বেছে কাজ করি। আর সেই কাজগুলোই করি, যেটা আমার মনের কাছের কাজ বলে মনে হয় আর চরিত্রটার প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখে সুবিচার করতে পারব বলে বিশ্বাস করতে পারি। শুধুমাত্র টাকার জন্য কাজ করে, দর্শকদের বিরক্তি অর্জন করাটা আমার ঠিক বলে মনে হয় না। কারণ তাতে দর্শকও বুঝে যান যে, এই অভিনেতা বা অভিনেত্রী কাজ নিয়ে সিরিয়াস নন। শুধু টাকার জন্যই অভিনয় করতে এসেছেন। আমাদের সময়ে দর্শকদের মধ্যে একটু হলেও ক্ষমা বেঁচে ছিল। এখন দর্শক ক্ষমাহীন। ক্ষমা করেন না।’

(Feed Source: abplive.com)