
‘দর্শক ক্ষমাহীন, মানুষকে ভাল কাজ দিতেই হবে’
শুধু দর্শক নয়, পরিচালকেরাও মুখ্যচরিত্রে টোটার ওপরে ভরসা রাখছেন। যে ছবিতে তাঁকে দেখা যাচ্ছে, তার বাইরেও নিশ্চয়ই অনেক সিনেমার অফার আসছে, যেগুলি তিনি ফেরাচ্ছেন। টোটা বলছেন, ‘কিছু ছবি ইচ্ছাকৃতই করি না। এমন একটা সময় এসেছে, যখন মানুষ খুব বেশি দেখলে বিরক্ত হয়ে যাচ্ছেন। তাই আমি একটু বেছে কাজ করি। আর সেই কাজগুলোই করি, যেটা আমার মনের কাছের কাজ বলে মনে হয় আর চরিত্রটার প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখে সুবিচার করতে পারব বলে বিশ্বাস করতে পারি। শুধুমাত্র টাকার জন্য কাজ করে, দর্শকদের বিরক্তি অর্জন করাটা আমার ঠিক বলে মনে হয় না। কারণ তাতে দর্শকও বুঝে যান যে, এই অভিনেতা বা অভিনেত্রী কাজ নিয়ে সিরিয়াস নন। শুধু টাকার জন্যই অভিনয় করতে এসেছেন। আমাদের সময়ে দর্শকদের মধ্যে একটু হলেও ক্ষমা বেঁচে ছিল। এখন দর্শক ক্ষমাহীন। ক্ষমা করেন না।’
এটা কী দর্শকদের কাছে কনটেন্টের আধিক্য হওয়ার কারণে? টোটা বলছেন, ‘ একদম ঠিক। মানুষের কাছে এখন প্রচুর অপশন। তাঁরা মনে করেন, আমি যখন আমার সময়টা তোমায় দিচ্ছি, তুমি আমায় তোমার সেরাটা দেবে। মানুষ যদি আমাদের সময় দেন আর আমরা একটা যা-তা কাজ দেখিয়ে বলতে থাকি, ছবি দেখুন… ছবি দেখুন.. মানুষ কেন দেখবেন? আর যদি একবার দেখেও ফেলেন, পরেরবার আর দেখবেন না। বাঙালি চিরকালই বিভিন্ন ভাষার কাজ দেখতেন, এখন আরও বেশি দেখেন। ফলে যদি মানুষ আমায় সিনেমাহলে গিয়ে বা ল্যাপটপ, টিভি বা ফোনের সামনে বসেও, সময় দেন.. তাঁকে তো আমার সেরাটা দিতে হবে। সেই কারণে আরও বেছে কাজ করি।’
‘কাজের ওপরে পরিবারকে স্থান দিয়েছি সবসময়’
সোশ্যাল মিডিয়া আর রিলসের যুগে, অভিনেতা অভিনেত্রীদের কী বড্ড বেশিই দেখতে পাচ্ছেন দর্শক? এতে কি আকর্ষণ নষ্ট হচ্ছে? টোটা বলছেন, ‘একেবারেই। মানুষ যে জিনিসটা বেশি পায়, তার ওপর আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। দর্শক যদি আমায় রোজ সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখেন, আমার প্রোফাইল দেখেই যদি তাঁরা বিনোদন পেয়ে যান, তাহলে কেন তাঁরা টিকিট কেটে, হলে গিয়ে আমায় দেখবেন? সোশ্যাল মিডিয়ায় তো বিনামূল্যেই দেখা যায়। কিন্তু এমন একটা সময়ে বাস করছি যে, কিছু করার নেই। বাইরে বেরলে মানুষ ছবি তুলবেই। সেটা কেউ না কেউ পোস্ট করছেন। না চাইতেই তো অনেকটা প্রকাশ্যে চলে আসি আমরা। তাই সতর্কতা প্রয়োজন, সেই দাঁড়িটা টানা প্রয়োজন। খেয়াল করে দেখবেন, কাজ নিয়ে কথা না থাকলে, আমি সচরাচর সোশ্যাল মিডিয়ায় আসি না। ২ মাসে হয়তো ৩টে ছবি বা ভিডিও পোস্ট করলাম।’
ব্যক্তিগত জীবনকে সোশ্যাল মিডিয়ার আড়ালে রাখাও কী সচেতন সিদ্ধান্ত? টোটা বলছেন, ‘একদম। প্রথম থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, আমার ব্যক্তিগত জীবন, ব্যক্তিগতই থাকবে। আমি যখন শূন্য ছিলাম, কিছুই হইনি.. তখনও তাই ছিল। কাজ আমার একটা পৃথিবী আর ব্যক্তিগত জীবন আরেকটা পৃথিবী। আরও একটা পৃথিবী রয়েছে, সেটা আমার নিজের। সেখানে কারও প্রবেশাধিকার নেই। সেখানে আমার বই, গান.. সেখানে ঢোকার অনুমতি কারও নেই। তার থেকে বৃহত্তম পৃথিবী আমার কাজ, সবার ওপরে পরিবার। কাজটাকে সবার ওপরে রাখিনি, রাখব না কোনোদিন।’
‘১০টা পর্যন্ত পার্টিতে থাকি, সাড়ে ১১টায় ঘুমাতে যাই’
কাজের ব্যস্ততায়, পরিবারকে সময় না দিতে পারার গল্প তো ঘরে ঘরে.. টোটা সেই ব্যালেন্সটা করতে পারেন তাহলে? নায়কের স্পষ্ট উত্তর, ‘করতে পারি নায়, করতেই হবে। কারণ কাজ একদিন চলে যাবে। কর্তৃপক্ষ চাইলে, দুধে পড়া মাছিটাকে যেভাবে ফেলে দেয়, সেভাবেই আমাকেও ফেলে দিতে পারে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিকল্প কেউ চলে আসবে। কিন্তু আমার কাছে আমার পরিবারের বিকল্প নেই। আমিও আমার পরিবারের কাছে বিকল্প নই। যেখানে আমার এতটা জায়গা, সেটাকেই সবার ওপরে রাখব। ভারতবর্ষে বোঝানো হয়, কাজটাকেই জীবন করে নাও। কেন? আমরা কেউ তো ক্রীতদাস নই। এই একই জিনিস ইউরোপে কেউ করে দেখাক। সেখানে তো নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে কেউ কাজ করেন না। অভিনেতাদেরও কাজের সময় বাঁধা থাকে। আমাদের এখানে এমনিই কাজের সময় বাঁধা নেই। তারপরেও যদি অকাজ গুলোকে কাজ বলে মনে করি, পার্টিতে যাওয়াটাকে কাজ বলে মনে করে পরিবারকে সময় না দিই.. তাহলে তো…! এগুলোকে আমি কাজ বলে মনে করি না। আর আমি বেছে কাজ করি।’
টোটা কি পার্টি এড়িয়ে চলেন? এসে নায়ক উত্তর দিলেন, ‘১০টা পর্যন্ত পার্টি হলে, থাকি। সাড়ে ১১ টায় আমি ঘুমাতে যাই। পার্টিতে যেই থাকুন, যে যাই মনে করুন.. আমি ১০টা বেরিয়ে আসি।’ কোনো কাজ বা সিনেমা ফিরিয়ে দেওয়ার আফশোস রয়েছে? টোটা বলছেন, ‘চিত্রনাট্য মন দিয়ে পড়ি, পছন্দ হলে সেই কাজে রাজি হই। গল্প পছন্দ হওয়ার পরেও কাজ ফিরিয়েছি, এমনটা মনে পড়ে না।’ টলিউডে সবচেয়ে বড় প্রতিযোগী কাকে মনে হয়? টোটা বললেন, ‘গতকালের টোটাকে। কারণ গতকালের টোটার থেকে আজকের টোটাকে সামান্য হলেও ভাল হতে হবে। আমি কারও সঙ্গে প্রতিযোগিতায় বিশ্বাসী না।’
(Feed Source: abplive.com)
