
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: শুক্রবার সকালে পিস ওয়ার্ল্ড থেকে বিধানসভায় নিয়ে আসা হয় বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের (Buddhadeb Bhattacharya) মরদেহ। এরপর শেষবারের মতো আলিমুদ্দিন ও দীনেশ মজুমদার ভবন হয়ে তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় এনআরএসে। কারণ অন্যান্য অনেক বামনেতার মতোই মরণোত্তর দেহ দান করে গিয়েছেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। আপনিও যদি এই কাজ করতে চান তাহলে জেনে নিন পদ্ধতি।
মরণোত্তর দেহদানের ক্ষেত্রে সবথেকে জরুরি বিষয় হল পরিবারের সম্মতি। কারণ আপনার মৃত্যুর পর আপনার এই ইচ্ছেটিকে পূরণ করবে আপনার পরিবারই। অনেক সময়েই পরিবারের কারণে দেহদানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় না। তবে মনে রাখা উচিত, চিকিৎসা বিজ্ঞান, শিক্ষা এবং গবেষণার জন্যই দেহদান করা দরকার। দেহ দান ও অঙ্গদানের মাধ্যমে মৃত্যুর পর আপনি অনেকের উপকার করতে পারবেন। কাউকে কাউকে হয়তো জীবনও ফিরিয়ে দিতে পারেন। তাই দেহদান জরুরি।
এছাড়াও মেডিক্যালে যাঁরা অস্ত্রোপচার নিয়ে পড়াশোনা করছেন তাঁদের প্রশিক্ষণের জন্য়ও দেহদান জরুরি। গবেষণার ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয়। পুরো দেহ তো দান করাই যায়। আলাদা ভাবে হৃদপিণ্ড, ফুসফুস, কিডনি, লিভার, অস্থী, অস্থিমজ্জা, চোখ, ত্বক, হাড়, হার্টের ভালভ, ব্লাড ভেসেল, টেন্ডন, ইত্যাদিও দান করা যায়। তবে সবক্ষেত্রে আলাদা আলাদা সময়সীমা রয়েছে। মৃত্যুর ৪ ঘণ্টার মধ্যে সংগ্রহ করতে হয় চোখ। হার্ট অন্য শরীরে প্রতিস্থাপন করা জরুরি ৪ থেকে ৬ ঘণ্টার মধ্যে। ফুসফুসের ক্ষেত্রে সেই সময় ৪ থেকে ৮ ঘণ্টা। লিভার ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা, কিডনি ২৪ থেকে ৪৬ ঘণ্টার মধ্যে।
তবে দেহদানের ক্ষেত্রেও রয়েছে কিছু কিছু শর্ত। যদি অস্বাভাবিক কারণে মৃত্যু হয় এবং মৃত্যুর পর ময়নাতদন্ত করা হয় তাহলে দেহদান করার ক্ষেত্রে সমস্যা হয়। এছাড়াও যে সংস্থায় বা হাসপাতালে দেহদান করছেন, তাদের কোনও শর্ত আছে কিনা তা দেখে নিতে হবে।
তবে কীভাবে দান করবেন দেহ? যাঁরা মরণোত্তর দেহদানে ইচ্ছুক তাঁরা যেকোনও মেডিক্যাল কলেজে দেহদান করতে পারেন। এই বিষয়ে পূর্ণ তথ্য পাবেন ভারত সরকারের এই ওয়েবসাইটে https://www.organindia.org/overviews/know-organ-donation/ এছাড়াও রয়েছে বেশ কয়েকটি সংস্থা। তার মধ্যে অন্যতম, www.organandbodydonation.com এবং আরেকটি ওয়েবসাইট www.dehdan.org , https://www.ipgmer.gov.in/pdf/BodyDonationForm.pdf
(Feed Source: zeenews.com)
